somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: পাহাড়ের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে বিশ্ব শান্তির অগ্রকপোত

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরু সত্তর দশকের শেষার্ধে। নিজ দেশের এক দশমাংশ ভূখণ্ড বিদেশী ষড়যন্ত্রে পরিচালিত বিচ্ছিন্নতাবাদের আঘাত থেকে রক্ষা করা, জাতিগত দাঙ্গার হাত থেকে নিজ দেশের মানুষের নিরাপত্তা বিধান, অনগ্রসর এলাকায় উন্নয়ন ও অগ্রগতির আলোর মশাল প্রজ্জলনের মিশন নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পাঠানো হয়েছিল দূর্গম, বিপদ সঙ্কুল, মৃত্যু উপত্যকা পার্বত্য চট্টগ্রামে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও সেবা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম দিয়ে একদিকে অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির অভয় পরিবেশ সৃষ্টি করে, অন্যদিকে সেবা ও শান্তির মিশনে সেখানে উন্নতি ও অগ্রগতির আলোয় উদ্ভাসিত করে। অনেক ঘামে, অনেক শ্রমে, এমনকি বহু জীবনের বিনিময়েও দেশের সার্বভৌমত্বক অটুট রাখতে শান্তি ও সেবার মিশন থেকে বিরত হয়নি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যার প্রমাণ, আজও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম। যার প্রমাণ এক সময়ের বাংলাদেশের সবচেয়ে দূর্গম ও অনিরাপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ পর্যটকদের প্রবল আকর্ষণীয় স্থান। ফলে তাদের সেই সাফল্যের সংবাদ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। অশান্ত বিশ্বের কোণে কোণে শান্তির কপোত হওয়ার ডাক আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সংবিধান ও সরকরের সম্মতিতে দেশে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্জিত শান্তিরক্ষা ও সেবার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দীক্ষা কাজে লাগিয়ে জয়লাভ করে বিশ্ববাসীর মন। ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে সবচয়ে বড় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী সরবরাহকারী দেশ। তারপরও এ মাসে আরো ৬০০ নতুন সৈন্য সরবরাহের আহ্বান এসেছে জাতিসংঘের কাছ থেকে। শুরুটা ১৯৮৮ সালে। শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময়ই বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দেশের সংবিধানকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় বিশ্বশান্তি ও সংহতি জোরদার করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের প্রতিটি ডাকে সাড়া দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্যদের পদচিহ্ন সারা বিশ্বে। পূর্ব তিমুর থেকে হাইতি, ক্রোয়েশিয়া থেকে নামিবিয়া, এমনকি শীতার্ত ইউরোপ থেকে উষ্ণ পূর্ব এশিয়া এবং সাহারার মরুপ্রান্তরেও এ দেশের শান্তিরক্ষীরা বিচরণ করেছেন। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন এ দেশের সেনারা। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ১৯৮৮ সাল থেকে। ওই বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ জন অফিসার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইরান-ইরাক (UNIMOG)-এ সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে মিশন সম্পন্ন করেন। এরপর অতি অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সুনামের সঙ্গে জাতিসংঘের সবচেয়ে বেশি সেনা প্রদানকারী দেশের স্বীকৃতি লাভ করে। বিশ্বের ৪০টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক লাখ সাত হাজার ৪৮৭ জন সদস্য অংশ নেন। শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা মোতায়েনের সংখ্যার বিচারে প্রায় এক যুগ ধরেই বাংলাদেশ শীর্ষ চারটি দেশের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে ছয় হাজার ১৬৩ জন সেনা শান্তিরক্ষী নিয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে আছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বর্তমানে সাতটি দেশে চলমান সাতটি শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত। প্রতিটি মিশনে এ দেশের নারী অফিসাররা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অংশ নিচ্ছেন। ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা নীল হেলমেট মাথায় নিয়ে প্রচণ্ড সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অসামান্য সাফল্যের ইতিহাস তৈরি করেছেন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×