somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমি

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

View this link
পুরো নাম জিউয়ে কাকু এমি। তবে এমি নামে একডাকেই চিনে আমাদের সবাই। আমরা বলতে, আইভরিকোষ্টের এই শহরে আমরা যে বাংলাদেশী আছি তারা।
এখানে এসে নামবার পর প্রথম যে সমস্যাটায় পরলাম তা হল ভাষার সমস্যা। এখানকার রাষ্ট্রীয় ভাষা ফরাসী,আমাদের ফরাসী জ্ঞান প্রায় শূন্যের কোঠায় বলা যায়।এদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৬০ রকমের ভাষা প্রচলিত আছে।ফরাসী ছাড়াও এখানকার প্রধান সম্প্রদায় বাউলি ভাষাও বেশ প্রচলিত। মালিনকে আর সেনেফুও বলে অনেকেই।প্রতি মাসে দু'বার আমরা যে সহায়তা কার্যক্রম করতাম তাতে অপরিহার্য ছিল এমির উপস্হিতি। প্রতি বার গড়ে ৪৫০/৫০০ জনসাধারন উপস্হিত হত দূরদূরান্ত থেকে।এদেরকে সামলানো,আমাদেরকে তাদের সমস্যাগুলো বলা, বুঝিয়ে দেয়া...সবকিছুতেই তৎপর এমি।তবে মাঝে মাঝে জাতিগত ভাষার দূরত্বের কারণে এমি আবার কালু কে ডেকে এনে দু'জনে আলোচনা করে ঠিক করতো,আসলে কি বলতে চায়! মজার ঘটনাও আছে এ নিয়ে।

সুঠাম কৃঞ্চকায় শরীর,যেন পাথর খুদে বানানো।সারদিনই আমাদের আশে পাশে আছে,যে কোনও কাজে সবসময় তৈরি।

আসল কথাটাই বলা হয়নি,এমি,কালু,হাসান এরা সবাই পরিষ্কার বাংলায় কথা বলে,শুধু তাই নয় ...গানও করে। এক অনুষ্ঠানে গাইল,"বন্ধু তিনদিন তোর বাড়ীত গেলাম.....।৬ বৎসর ধরে বাংলদেশীদের সাথে আছে। হাসিখুশী এমি...কিন্তূ চোখের তারায় যেন বিষন্নতা ঝিলিক দিয়ে ওঠে মাঝে মাঝে।

বাড়ী ওর আইভরিকোষ্টের ম্যাপের একেবারে কেন্দ্রে অবস্হিত শহর বোয়াকে।যুদ্ধ আর জাতিগত হানাহানি দেখেই ও বড় হয়েছে।বাবা আসিয়ে জিউয়ে আর মা কফি ফেতে ৫ ছেলে ৫ মেয়েকে কষ্ট করে লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করেছে।বোয়াকে আর ইয়ামাসুক্রোতে পড়াশুনা করে ডিগ্রী পাশ করেছে এমি। চাকরির চেষ্টা একেবারে কম করেনি। লঁরা বাগবোর আমলে পুলিশে চাকরি হতে হতে হয়নি....তখন নাকি ঘুষের দর অনেক চড়া ছিল! আড়াই লাখ সেফার (CFA) যোগার আর ও করতে পারেনি। বিয়েটাও হয়নি। বোয়াকে শহরে এখনও প্রতীক্ষায় এমি'র দয়িতা....নাদেইশ..।

যুদ্ধ আর হানাহানি দেশটাকে যেমন ছিঁড়ে খুড়ে খেয়েছে...মানুষের স্বপ্ন গুলোকেও। হয়ত এমিদের জীবনে যে "হারমাতান"তা একদিন কেটে যাবে।ডিগ্রী পাশ এমির চাকরী হবে.....

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৭:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×