ঝিরঝির বৃষ্টিতে যে বাস রাত 12 টায় পৌছানোর কথা, কোলকাতা থেকে তার ঢাকা পৌছতে প্রায় রাত 2টা। কেবল ঘুরতে না, কোলকাতায় কিছু 'সত্যি কাজের' সন্ধানে গিয়েছিলাম।
'সত্যি কাজ' কথাটার হয়তো একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। উদাহরন দেওয়া যায় রামা নামে অসাধারন এক মানুষের কথা। রামা 'প্রিয় মান্না বসতি' নামের মুসলিম অধু্যষিত বস্তিতে (হাওড়ার ওপারে, কোলকাতায়) একটা গরীবদের জন্য ইনফরম্যাল স্কুল চালায়। কেবল স্কুল বললে অবিচার করা হবে কারন সেখানে জীবন বাচানো থেকে শুরু করে জীবন পালটে দেওয়ার কর্মযজ্ঞ চলে। প্রায় 8 বছর ধরে চলে আসা এই স্কুলে তাদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া হয় যাদের সামনে কখনোই শিক্ষার সুযোগ আসে না।
রামার মতো রিয়েলাইজড মানুষ খুব কম দেখেছি। ওকে নিয়ে ডিটেইলস অন্য সময়ে লেখবো। বাউলদের ভাষায় 'সহজ মানুষ', সুফি তত্ত্বে 'কামেল ইনসান' বা ওয়েষ্টার্ন ফিলোসফিতে যাকে বলে 'দি পারফেক্ট ম্যান', আমি রামার ভিতরে সেইটাই দেখেছি। রিয়েলাইজড মানুষরা যখন কথা বলে তখন অন্যের অন্তরে সেটা পৌছায় সরাসরি, কারন তারা নিজেদের ভিতর থেকে কথা বলে। রামার সাথে দুই দিনের দেখায় সেটার অনেকগুলো উদাহরন পেয়েছি।
'সত্যি কাজ'-এর আরেকটা উদারহন দেওয়া যায় বন্ধু প্রিয়ার কাজ নিয়েও। নিজের উদ্যেোগে কোলকাতার অবহেলিতদের জন্য ও নিজেও স্কুল চালায়, নাম স্যাক্রেড হার্ট। মূলত এই স্কুলটার জন্য কিছু করার নিয়্যত নিয়েই গিয়েছিলাম কোলকাতায়। কিছু গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে এসেছি, বাকিগুলো করার জন্য শারীরিক অবস্থান জরুরী নয়। স্যাক্রেড হার্ট স্কুলের কথাও আলাদা করে বলতে হবে। প্রিয়ার কথাও হয়তো। ও নিজেও অন্যের জীবন পালটানোর কাজ করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


