somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বের বুকে বীরের বেশে, বঙ্গসন্তান ছুটে দেশে দেশে

২০ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এমন এক গর্বিত দেশের সন্তান আমরা, যে দেশের নাম অর্জিত হয়েছে রক্ত দিয়ে, যে দেশের ভাষা রক্ষিত হয়েছে রক্তের বিনিময়ে। যে দেশের সোনার সন্তানদের ত্যাগ, তিতিক্ষা, অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে গঠিত আজকের এই সোনার দেশ।

পৃথিবীর বুকে একমাত্র 'ব' দ্বীপ আমাদের এই বাংলাদেশ, যার বুক ছিড়ে বয়ে গেছে শিরা উপশিরার মত শত নদ নদী, মাথা উঁচু করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পর্বত, বনভূমি, গিরিশৃঙ্গ। পৃথিবীর বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র উপকূল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এই বাংলাদেশেই অবস্থিত। সবুজের সমারহে সজ্জিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক নৈসর্গিক লীলাভূমি এই বঙ্গভূমি।

ছয় ঋতুর বৈচিত্রময়তায় সজানো ঋতুমাত্রিক এমন দেশ কোথায় আছে আর। আছে বেলে মাটি, পলি মাটি, এঁটেল মাটি, দোআঁশ মাটি, বেলে দোআঁশ মাটি, আরো কত বাহারি নামের উর্বর সব মৃত্তিকা। মাটির এমন প্রকারভেদ এ ভূমিকে করেছে উর্বর। মাটির উর্বরতার কল্যাণে বৎসরব্যাপী উৎপন্ন হয় হরেক রকমের শস্য কনিকা। তাই কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আমরা গর্ব করতেই পারি।

কত গাছগাছালি ঘেরা, ফুলে ফলে শোভিত, ফসলে ফসলে পরিপূর্ণ, পাখ পাখালির কলরবে, নদ নদীর কলতানে সরব থাকে বাংলার আনাচ কানাচ।

এখানে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিরাজমান। নানা জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের এমন মহামিলনস্থল বিশ্বের বুকে খুবই বিরল। পালা পার্বণে, উৎসবে আয়োজনে বাংলা যে তুলনাহীন।

জারি, সারি, ভাটিয়ালি, বাউল, পালা গানের ছন্দে অনুরননিত হয় বাংলার আকাশ বাতাস। কত কবি সাহিত্যিক যুগ যুগ ধরে গঠন করেছেন সমৃদ্ধশালী বাংলা সাহিত্য।

বাংলার কথা, বাংলার সীমাহীন গুনের গুণগান গেয়ে শেষ করা যাবেনা। এক কথায় যদি বলা হয়, বাংলা হলো বসুন্ধরার বুকে ঝলমল করা একটা হীরকখণ্ড। প্রতিটি বাঙ্গালী মাত্রই বাংলার অস্তিত্ব তার রন্দ্রে রন্দ্রে অনুভব করে থাকে।

যে বাংলার এত জয়গান, এত গুনগান, যে বাংলায় পাওয়া যায় জীবনের আস্বাদন, সেই বাংলা ছেড়ে কেনো আজ আমরা পরবাসে? সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে, যোজন যোজন মাইল পাড়ি দিয়ে, পরিবার পরিজন ছেড়ে কিসের আশে পড়ে থাকা এই দূর পরবাসে। হ্যাঁ, কারন অবশ্যই আছে। যে দেশ আমাদেরকে এত কিছু দিল, আমরা দেশকে কি দিতে পেরেছি? এই যে উপরওয়ালা কতৃক প্রাপ্ত আশীর্বাদ আমরা আজ ধ্বংস করতে বসেছি। ওই কৃপা আমরা কাজে লাগাতে পারি নাই। আজো ক্ষুধা, দারিদ্রতা, হিংসা হানাহানি, কোন্দল, নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত সমাজ। না হলে এই দেশ আজ অন্য অবস্থায় থাকত, কেউ আর নিজ দেশ ছেড়ে বাহিরে পড়ে থাকতে হত না। অনেক অনাচার দুর্নীতি, মানুষের অসাধুপরায়নতার পরেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিন্দু বিন্দু করে, যা সম্ভব হচ্ছে কারণ আজও দেশে বৈদাশিক মুদ্রার প্রবাহ বিরাজমান। দেশের আজ যতটুকুই উন্নয়ন তার সিংহভাগই বৈদাশিক মুদ্রারই অবদান।

প্রবাসে থাকা মানে এই না যে দেশের দায়বদ্ধতা থেকে দূরে থাকা বা দেশকে ভুলে প্রবাসের আরাম আয়েশের জীবন বেচে নেয়া। একজন প্রবাসী যেমন তার ও তার পরিবারের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, তেমনি ভূমিকা রাখে তার নিজ দেশ ও সমাজের মান উন্নয়নে। এক একজন প্রবাসী এক এক দেশে তার নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকে। বিশ্বের দরবারে জাতিকে তুলে ধরতে প্রবাসীদের ভূমিকা অন্যতম। বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্নভাবে বাঙ্গালীরা কাজ করে যাচ্ছে সফলতার সাথে, সন্মানের সহিত। সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন, সব পর্যায়েই সফল এবং বিশ্বাসভাজন কর্মী হিসেবে বাংলাদেশীদের সুনাম দেশে দেশে। তাদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করে। দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড হলো প্রবাসীদের পাঠানো বৈদাশিক মুদ্রা। দেশের সবরকম বিপদে আপদে প্রবাসীরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

আমরা যত দূরেই থাকিনা কেনো, দেশের প্রতি টান কখনই কমে না বরঞ্চ বেড়েই চলে সময়ের সাথে সাথে। ওই আপন দেশই তো আমাদের শেকড়, প্রেরনার প্রধান শক্তি। দেশের নাড়ির টান কখনই অগ্রাহ্য করার মত নয়। প্রতিটি বাঙালীই যেনো এক একটা বাংলাদেশ। বাঙ্গালী প্রবাসীরা বাংলাকে বহন করে বেড়ায় দেশ হতে দেশান্তরে। আমরা যেখানে যেভাবেই থাকিনা কেনো, আমাদের এক ও একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলা মায়ের বঙ্গসন্তান।।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহা! নক্ষত্রের পতন! এই ধরাদামের সর্বশ্রেষ্ট খেলোয়াড়ের আজই যেনো ইতি!

লিখেছেন অব্যক্ত কাব্য, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬






আর্জেন্টিনার আরেকটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো আজ। দুই সোনালী যুগের(প্রথমটি ম্যারাডোনার সময়কাল আর দ্বিতীয়টি মেসির সময়কাল) শিরোপা জয়ে সময়ের ব্যবধান ছিলো ৩৬ বছর। দুই সোনালী যুগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুশু: নামাজের প্রাণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১৮

খুশু: নামাজের প্রাণ

ভূমিকা

নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় রুকন এবং মুমিনের জীবনে আল্লাহর সাথে সরাসরি সংযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একজন মুসলিমকে বারবার আল্লাহর সামনে দাঁড় করায়, তাকে দুনিয়ার ব্যস্ততা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বকাপ ২০২৬ঃ গোল্ডেন বল মেসিকে না দেওয়া অন্যায়, অযাচিত ও ভুল সিদ্ধান্ত

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



ইদানিং, বিশ্ব ফুটবলের ক্যালকুলেশনগুলো কিছুই বুঝতেছি না। উয়েফারও না, ফিফারও।

২০২৪ ইউরোতে টুর্নামেন্টের সেরা পারফরমার ছিল লামিন ইয়ামাল। সবাই ভেবেছিল, সেই ওই টুর্নামেন্টে 'সেরা খেলোয়াড়'-এর পুরষ্কার জিতবে। কিন্তু অবাক করার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তৌহিদী জনতা।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪


ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চে সারা বিশ্ব যখন মেতে ওঠে, তখন আমাদের দেশের একদল মানুষের অতি-উৎসাহ এবং অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড সমাজের একটা বড় অংশকে বিভ্রান্ত ও বিরক্ত করেছে। ফাইনাল ম্যাচের রাতেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেতনা, ৭১ , পাকিস্তান ঘৃনা ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:০৫


যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম দুটো দেশের অর্থনৈতিক যাত্রা শুরু হয় প্রায় একই সময়ে কিন্তু তুলনামূলক ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে ভালো ছিল। বাংলাদেশে ছিল অনেক ভারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×