somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (পর্ব দুই)

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ওফাতকালীন ঘটনার ধারাবাহিকতা বুঝার জন্য পড়ে আসুনঃ
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (প্রথম পর্ব)

সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ইব‌ন আব্দুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর, যিনি আমাদেরকে কল্যাণকর সকল পথ বাতলে দিয়েছেন ও সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবারবর্গ (আহলুল বাইয়াত) এবং উনার সাথীদের উপর, যারা তার আনীত দ্বীন ও আদর্শকে পরবর্তী উম্মতের নিকট যথাযথ ভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার উপর।


মৃত্যুর চারদিন পূর্বেঃ
মৃত্যুর চারদিন পূর্বে শেষ বৃহস্পতিবার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রোগযন্ত্রণা আরও বেড়ে গেল। যন্ত্রণা খুব বৃদ্ধি পেলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলে ওঠেনঃ
هَلُمُّوا أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوْا بَعْدَهُ ‘কাগজ-কলম নিয়ে এসো! আমি তোমাদের লিখে দিই। যাতে তোমরা পরে আর পথভ্রষ্ট না হও’। উপস্থিত লোকদের মধ্যে হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) উনার এই খারাপ শারীরিক অবস্থা দেখে বললেনঃ قَدْ غَلَبَهُ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمُ الْقُرْآنُ، حَسْبُنَا كِتَابُ اللهِ ‘তাঁর উপরে এখন রোগ যন্ত্রণা বেড়ে গেছে। তোমাদের নিকটে কুরআন রয়েছে। তোমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট’।

উনার এই কথা শোনার পর উপস্থিত সবার মাঝে সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুটা কনফিউশন সৃষ্টি হলো। কেউ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ মোতাবেক কাগজ কলম আনতে চাইলেন আবার কেউ হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) কথার মর্মাথ বুঝতে পেরে বাকিদের’কে কাগজ কলম আনতে নিষেধ করলেন। কিছুক্ষণ এভাবেই সিদ্ধান্তহীনতায় সময় কেটে গেল। একপর্যায়ে এই বিষয় নিয়ে কিছুটা তর্ক বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। ফলে এক পর্যায়ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ قُوْمُوْا عَنِّىْ ‘তোমরা এখান থেকে চলে যাও’। এরপর সবাই সেখান থেকে চলে আসলো।

(*) বিশেষ এই ঘটনার ব্যাখ্যাঃ এই ঘটনা’কে কেন্দ্র করে ইসলামের নামে বহু কুৎসা রটনা করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। শিয়া’রা অযথাই এই বিষয়টাকে বির্তকের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। অনেকেই পুরো বিষয়টা না জেনে, না বুঝে বির্তক সৃষ্টি করেন। পুরো ঘটনা’কে এভাবে বিশ্লেষন করা যায়-
১। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস - অসিয়ত লিখে দেবার জন্য কাগজ কলম আনতে বলা।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি অসিয়ত লিখে যেতেন সেটা হতো সমগ্র মুসলিম উম্মাহের জন্য। উনার মৃত্যুর পর কে খলিফা হবেন? কে এই নতুন ইসলামিক রাষ্ট্র চালাবেন? ইত্যাদি।
উনার মৃত্যুর পর কে খলিফা হবেন? এটা তো সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
(১) সহী হাদিসে হযরত ইবন উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছেঃ “আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে সাহাবীগনের পারস্পরিক মর্যাদা নির্ণয় করতাম। আমরা সর্বাপেক্ষা মর্যাদা দিতাম আবু বকর সিদ্দীক (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে, তারপর উমর ইবন খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে, অতঃপর হযরত উসমান ইবন আফফান (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে”। (সহী বুখারী হাদিস নাম্বার ৩৬৫৫, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৫৯৭)
(২) আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুকালীন রোগশয্যায় আমাকে বললেন, তোমার পিতা আবুবকর ও তোমার ভাই (আব্দুর রহমান)’কে আমার কাছে ডেকে আনো। আমি তাদেরকে বিশেষ একটি লেখা লিখিয়ে দেব। কেননা আমার ভয় হচ্ছে, কোন উচ্চাভিলাষী (খেলাফতের) উচ্চাকাংখা পোষণ করতে পারে এবং কোন ব্যক্তি দাবী করতে পারে যে, আমিই (খেলাফতের) অধিক হকদার। অথচ সে তার হকদার নয়। না, আল্লাহ ও ঈমানদারগণ আবুবকর ব্যতীত অন্য কাউকে (খলীফা হিসাবে) মেনে নিবে না’। (সহী মুসলিম, মিশকাত হাদিস ৬০১২, হাদিস ৫৭৬৭ ‘আবুবকরের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ)

আরেকটা সহী হাদিস দেয়া আছে, আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর পরিবর্তে উমর (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে দিয়ে ইমামতি করার অনুরোধ করলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটাও প্রত্যাখ্যান করেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্টভাবেই বলে গেছেন উনি উনার বন্ধু হিসেবে আল্লাহ’কে বেছে নিয়েছেন। সেটা না নিলে উনি একমাত্র আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা)’কেই নিজের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতেন।

এখন নিজেই চিন্তা করুন, উনার পর কাকে উনি অসিয়ত করে যেতেন!
(এই একই বিষয় আরেকটা জায়গায় আরও বিস্তারিতভাবে পরে আবার আলোচলা করা হবে।)

২। হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর নিষেধ - সমসাময়িক পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহন।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শারীরিক অবস্থা তখন ভালো নয়। প্রচন্ড যন্ত্রণায় উনি ছটফট করছিলেন। হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) সেখানকার অবস্থা বুঝেই এই উপস্থিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই তো বলে গেছেনঃ “আর জেনে রাখ, আমি তোমাদের মাঝে ছেড়ে যাচ্ছি এমন এক বস্ত্ত, যা মজবুতভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। আর সেটি হলো আল্লাহর কিতাব”। (মুসলিম হাদীস নাম্বারঃ ১২১৮, মিশকাত হাদীস নাম্বারঃ ২৫৫৫)। উনি এই সহী শুদ্ধ হাদিস’কেই আবার সবার সামনে বলেছেন। উনি নতুন কিছুই বলেন নি। এতে ভুল বুঝাবুঝির কিছুই নেই। অযথা বির্তকের কোন মানেই হয় না।

৩। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস - সবাই’কে চলে যেতে বলা।
এই ঘটনার সাথে একটা বিষয় সবাইকে বুঝতে হবে যেটা হলো তাকরীরী হাদীস কাকে বলে। সাহাবীগণের যেসব কথা বা কাজ মহানবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সেই ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব, যে হাদীসে এই ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাঁকে তাকরীরী বা বাংলায় সমর্থনমূলক হাদীস বলে।
হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) যখন সবাই’কে নিষেধ করলেন কাগজ কলম আনতে সেটা কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সামনেই করেছেন এবং সেটা উনি সমর্থন করেই আর কিছু বলেন নি। অর্থাৎ সাহাবী হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) কথা’কে উনি চুপ থেকে সমর্থনই করেছেন। এটাকেই তাকরীরী হাদীস বলে।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর কথা’কে সমর্থন করে চুপ থাকার পরও যখন এই নিয়ে অযথাই কথাবার্তা হচ্ছিল, উনি তখন বিরক্ত হয়ে সেখান থেকে সবাই’কে চলে যেতে বললেন।

সর্বশেষ ইমামতিঃ
এদিন বৃহস্পতিবার মাগরিবের সালাতের ইমামতিই ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ ইমামতি। অসুখ সত্ত্বেও তিনি এখন পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্ত সালাতে ইমামতি করেছেন। মৃত্যুর চারদিন পূর্বে সর্বশেষ এই ইমামতিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরা মুরসালাত পাঠ করেন। যার সর্বশেষ আয়াত ছিল فَبِأَيِّ حَدِيْثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُوْنَ ‘এর পরে কোন বাণীর উপরে তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করবে’? (সূরা মুরসালাত ৭৭/৫০)। অর্থাৎ কুরআনের পরে তোমরা আর কোন কালামের উপরে ঈমান আনবে? এর দ্বারা যেন এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আল্লাহ পাকের আহবানের সাথে সাথে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি উনার জীবনের সর্বশেষ অসিয়ত হ’ল, সর্বাবস্থায় তোমরা কুরআনের বিধান মেনে চলবে। কোন অবস্থাতেই কুরআন’কে হাতছাড়া করবে না।

ঈশার ছালাতের জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার ওযূ করেন ও তিনবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে ইমামতি করার নির্দেশ পাঠান। এরপর থেকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যু পর্যন্ত আবুবকর (রাদিআল্লাহু আনহু) একটানা ১৭ ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করেন। লোকেরা খারাপ ধারণা করবে মনে করে আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) তিনবার তার পিতার ইমামতির ব্যাপারে আপত্তি তুলে অন্যকে ইমামতির দায়িত্ব প্রদানের অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রতিবারই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্ত অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, إِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوْسُفَ، مُرُوْا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ ‘*তোমরা ইউসুফের সহচরীদের মত হয়ে গেছ। আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে বলে দাও যেন সেই সালাতে ইমামতি করে। অতঃপর একজন সংবাদদাতা আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে এই সংবাদ জানালে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবদ্দশাতেই লোকদের সঙ্গে নিয়ে সালাত আদায় করেন’। [*অর্থাৎ যুলায়খা ও তার সহচরী মহিলারা যেভাবে ইউসুফকে অন্যায় কাজে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল, তোমরাও তেমনি আমাকে আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা)’কে বাদ দিয়ে অন্যকে ইমামতি করার মত অন্যায় নির্দেশ দানে প্ররোচিত করতে চাও?] (সহী বুখারী হাদিস নাম্বার ৬৭৮, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩২৫)
এখানেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে উনার মৃত্যুর পর উনি কাকে খিলাফতের দায়িত্বে দেখতে চান। হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) সেটা বেশ ভালোভাবেই জানতেন, আর তাই প্রথমেই খলীফা হিসাবে হযরত আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং সাথে সাথেই সেটা সর্বসম্মতভাবে তা গৃহীত হয়। (এই ব্যাপারে আরও পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে) হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের ধারেকাছেও আর কেউ উম্মতের মধ্যে তখন ছিল না।

মৃত্যুর দুই বা একদিন পূর্বেঃ
শনি অথবা রবিবারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুটা হালকা বোধ করেন। এমতাবস্থায় তিনি হযরত আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর কাঁধে ভর করে মসজিদে আগমন করেন। তখন আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’র ইমামতিতে যোহরের সালাত কেবলই শুরু হয়েছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগমন টের পেয়ে হযরত আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পিছিয়ে আসার উদ্যোগ নিতেই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ইঙ্গিতে নিষেধ করলেন। অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বামপাশে বসিয়ে দেওয়া হলো। তিনি তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইক্বতেদা করতে থাকেন এবং লোকদেরকে তাকবীর শুনাতে থাকেন’। (মুত্তাফাক্ব আলাইহি, মিশকাত হাদিস ১১৪০)

মৃত্যুর একদিন পূর্বেঃ
মৃত্যুর পূর্বদিন রবিবার ঘরে তখন মাত্র কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। তিনি তার সবই সাদাকা করে দিলেন। অথচ ঐদিন সন্ধ্যায় আয়িশাহহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর গৃহে বাতি জ্বালানোর মত তৈল ছিল না। ফলে প্রতিবেশীর নিকট থেকে তৈল ধার করে আনতে হয়। (আহমাদ, ত্বাবারাণী, ইবনু হিববান, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৫৩) ঐসময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর লৌহবর্মটি এক ইহুদীর নিকটে ৩০ ছা‘ (৭৫ কেজি) যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল। (বুখারী হাদিস ২৯১৬, মিশকাত হাদিস ২৮৮৫ ‘বন্ধক’ অনুচ্ছেদ)

জীবনের শেষ দিনঃ
এরপর সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রানপ্রিয় কন্যা ফাতেমা (রাদিআল্লাহু আনহা)’কে ডাকেন। তিনি এসে বাবার পাশে বসলে তার কানে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু কথা বলেন। প্রথমবার তিনি কাঁদতে থাকেন। পরে তাকে আবার ডাকেন এবং কানে কানে আবার কিছু কথা বলেন। এবার তিনি হেসে ওঠেন। হযরত আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাকে কি বলা হয়েছে জিজ্ঞেস করা হলে ফাতেমা (রাদিআল্লাহু আনহা) উনার বাবার জীবিত অবস্থায় সেটা বলতে রাজি হলেন না কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতের পর ঠিকই সেটা বলে দেন। প্রথমবারে তার বাবা তাকে বলেন যে, এই অসুখেই আমার মৃত্যু ঘটবে। এটা শোনার পর তিনি কাঁদতে লাগলেন। দ্বিতীয়বারে তাকে আবার বলা হলো যে, পরিবারের মধ্যে তুমিই প্রথম আমার সাথে মিলিত হবে (অর্থাৎ তোমার মৃত্যু হবে)। এবার তিনি হেসে ফেলেছিলেন। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬১২৯; তার বাবার মৃত্যুর মাত্র ছয়মাস পরে ১১ হিজরী ৩রা রামাযান মঙ্গলবার ফাতেমা (রাদিআল্লাহু আনহা) মৃত্যুবরণ করেন) এই সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ ”জান্নাতী মহিলাদের নেত্রী” হবার সুসংবাদ দান করেন। [বুখারী হা/৩৬২৪; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬১২৯] এই সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রোগ-যন্ত্রণার কষ্ট দেখে ফাতেমা (রাঃ) বলে ওঠেন, وَاكَرْبَاهُ ‘হায় কষ্ট’! রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,لَيْسَ عَلَى أَبِيْكِ كَرْبٌ بَعْدَ الْيَوْمِ ‘আজকের দিনের পরে তোমার পিতার আর কষ্ট নেই’। [বুখারী হা/৪৪৬২; মিশকাত হা/৫৯৬১।]

অতঃপর তিনি হাসান (রাদিআল্লাহু আনহু) ও হোসেইন (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে ডাকেন। তাদেরকে আদর করে চুমু দেন ও তাদেরকে সদুপদেশ দেন। উভয়ের বয়স তখন যথাক্রমে ৮ ও ৭ বছর। এরপর স্ত্রীগণকে ডাকলেন ও তাদেরকে বিভিন্ন উপদেশ দেন। এ সময় তাঁর রোগ-যন্ত্রণা তীব্র আকার ধারণ করে। তিনি আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা)’কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হে আয়িশাহহ! খায়বরে যে বিষমিশ্রিত খাদ্য আমি খেয়েছিলাম, সেই বিষের প্রভাবে আমার শিরা-উপশিরা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে’। (বুখারী, মিশকাত হা/৫৯৬৫)

(*) বিশেষ এই ঘটনার ব্যাখ্যাঃ
আসল ঘটনা কী ঘটছেঃ ৭ম হিজরীর মুহাররম মাসে খায়বর বিজয়কালে ইহুদী বনু নাযীর নেতা সাল্লাম বিন মিশকামের স্ত্রী যয়নব বিনতুল হারেছ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে দাওয়াত দিয়ে বকরীর ভুনা রানের বিষমিশ্রিত গোশত খেতে দেয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই গোশত মুখে দিয়ে বুঝার সাথেসাথেই ফেলে দেন (فَلَمْ يُسِغْهَا، وَلَفَظَهَا) এবং বলেন, এই এতে বিষ মিশানো আছে’। উনার সাথে আরেকজন সাহাবী ছিলেন যিনি এই গোশত খেয়ে ফেলেছিলেন এবং এই বিষক্রিয়ার ফলে তার মৃত্যু হয়। ইহুদী এই মহিলা’কে জিজ্ঞেস করে জানা গেল উনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে মেরে ফেলার জন্যই এই ভয়ংকর বিষ মিশ্রিত করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই মহিলা’কে ক্ষমা করে দিলেও সেই সাহাবী’র পরিবার নায্যবিচার দাবী করলে সেই মহিলাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। (সীরাতে ইবনে হিশাম ২/৩৩৭-৩৮; আলবানী, ফিক্বহুস সীরাহ ৩৪৭ পৃষ্ঠা) অতঃপর তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, الصَّلاَةُ الصَّلاَةُ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ‘সালাত সালাত এবং তোমাদের দাস-দাসী’ অর্থাৎ সালাত ও স্ত্রীজাতির বিষয়ে তোমরা সর্বাধিক খেয়াল রেখো’। আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, এই কথাটি তিনি বারবার পুনরাবৃত্তি করেন’। আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, এটাই ছিল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সর্বশেষ অসিয়ত’। (ইবনু মাজাহ হা/২৬৯৭; আহমাদ, বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৩৩৫৬)

ঠিক এই হাদিস’কেই বিকৃত করে শিয়া’রা দাবী করে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে মৃত্যুর আগে বিষ খেতে দেয়া হয়েছিল এবং উনি সেই বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। আর এই কাজ করেছিলেন উম্মুল মূমেনীনা হযরত আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) এবং উম্মুল মূমেনীনা হযরত হাফ’সা (রাদিআল্লাহু আনহা) - নাউজুবিল্লাহ। তাদের এই ভয়ংকর দাবীর পিছনে যুক্তি হলো এর ফলে নাকি আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা)’র বাবা আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) এবং হাফ’সা (রাদিআল্লাহু আনহা)’র বাবা উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) দ্রুতই শাষন ক্ষমতা দখল করে খিলাফত পাবেন। রাসূলে করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় অনুপস্থিতিতে আবুবকর (রাদিআল্লাহু আনহু)'কে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন (বুখারী হা/৭১৩, মুসলিম হা/৪১৮; মিশকাত হা/১১৪০)। এছাড়াও আরেক জায়গায় আছে, হজরত আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, 'আবু বকর ও উমর নবী-রাসুলগণ ছাড়া সব উম্মতের বয়ষ্ক জান্নাতবাসীদের সর্দার হবে' (সুনানে তিরমিজি হাদিস ৩৬৬৩)

এখন সুপ্রিয় পাঠক, আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন যারা শেষনবীকে বিষ দিয়ে হত্যা করেছেন তারা কিভাবে বেহেস্তে যাবেন, জান্নাতবাসীদের সর্দার হবার কথা তো বাদই দিলাম?

সবাই’কে একটা বিষয় সুস্পষ্টভাবে স্মরণ করে দিতে চাই, এই দুইজন মহিলা সাহাবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সম্মানিতা স্ত্রী, পরিবারের অংশ এবং আহলুল বায়াতের অন্তর্গত। সহী হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা এই আহলুল বায়াতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবেন না, ভালোবাসবেন না, রোজ হাসরের দিন তার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সুপারিশও করবেন না। যারা এই ধরণের বিভ্রান্তি মূলক এবং বানোয়াট কাহিনী নিজে বিশ্বাস করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়ান তাদের জন্য শিয়াদের সূত্র নীচে দিয়ে দিলামঃ

Muhammad Ibn Massoud al-Ayashi related:
(১) Imam al-Sadiq (Peace be upon him) was sitting with a group of his followers, and asked them: "Do you know whether the Prophet died a natural death or was murdered? Allah the Almighty says: "if then he died or is killed". The truth is that the Prophet was poisoned in his last days before he died. Aisha and Hafsa administered poison in his food. Upon hearing this, Imam Sadiq's followers said that they (Aisha, Hafsa) and their fathers were among the worst villains ever created by Allah."
(Source: Tafseer al-Ayashi, Vol 1, Page 200; Bihar-ul-Anwar, by Allama Al-Majlisi, Vol 22, Page 516)

(২) Narrated Ali ibn Ibrahim: "The Prophet said to Hafsa: I will tell you a secret. If you divulge it, Allah, His Angels and people will curse you. So, what is it? wondered Hafsa. The Prophet said: Abu Bakr will be able to seize the Caliphate and power after me, and will be succeeded by your father, Omar. Hafsa wondered: Who informed you of this?. (the prophet answered ) Allah, the Omnipresent, the Omniscient informed me. On the same day, Hafsa divulged the secret to her friend, Ayesha. In turn, Ayesha divulged the secret to her father, Abu Bakr. So, Abu Bakr came to Omar and said: My daughter Ayesha told me a secret reported by Hafsa, but I cannot always trust what Ayesha says. So, you ask your daughter Hafsa, make sure and tell me. Omar went over to Hafsa, and asked her. In the beginning, she was startled and denied it. But, Omar said to her: If you have indeed heard this secret, then, tell us so we can immediately seize power and get rid of Muhammad”. So, Hafsa said, yes, he told me that. At this point, those four got together and conspired to poison the Prophet"
(Source: Tafseer al- Qommi, Vol 2, Page 367, Bihar-ul- Anwar by Allama al-Majlisi, Vol 22, Page 239)

According to historic accounts Rasul Allah (s.a.w.a.) pointed to his assassins several times whilst the poison took effect. Therefore as soon as Ayesha and Hafsah had executed the plot to assassinate him, Abu Bakr’s party went into hiding to prevent possible exposure and humiliation. Abu Bakr himself retreated to an area outside the city called Sonh where he remained until Rasul Allah’s (s.a.w.a.) death, and Umar hid in Medina waiting for Rasul Allah’s (s.a.w.a.) death.
Behaarul Anwaar vol. 28, page 111.
Behaarul Anwaar vol. 22, page 466.
Behaarul Anwaar vol. 22, page 490:

(৩) sixth Caliph Imam Sadiq (a.s.) once told his loyal students:
“…Rasul Allah (s.a.w.a.) was given poison before his death. Most assuredly the two women -forcefully- gave it to him.
Students: The two women and their fathers are the worst of god’s creatures[42].)).
On another occasion he told some of his students:
“After Abu Bakr and Umar and their daughters were foretold that Abu Bakr and Umar will usurp Rasul Allah’s (s.a.w.a.) Caliphate after his death, they decided to bring forward his death by giving poison to him.
Hal Eghteelan Nabi… / Shaikh Nejaah Taa’e = page 133 to 137, from well-known Bakri references.
Behaarul Anwaar / Majlesi = vol. 28, page 20.
Behaarol Anwaar / Majlesi = vol. 22, page 239.

শিয়া’রা প্রতিনিয়তই এইধরণের জঘণ্য মিথ্যাচার করে বেড়ায়। অজ্ঞতা এবং স্বল্পজ্ঞানের কারণে সাধারন সুন্নী মুসলিমরা এদের ধোঁকায় পড়ে এইসব মিথ্যাচার বিশ্বাস করে এবং প্রচার করে বেড়ায়। যাদের এই বিষয়ে আরও জানার ইচ্ছে তাদের জন্যঃ
(সূত্রঃ Click This Link)

মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু :
এরপরই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হ’ল। এমতাবস্থায় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহু)’র বুকে ও কাঁধে ঠেস দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন পাশে রাখা পাত্র থেকে নিজ হাতে পানি উঠিয়ে মুখে দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। নিশ্চয়ই মৃত্যুর রয়েছে কঠিন যন্ত্রণা সমূহ’ (বুখারী হা/৪৪৪৯; মিশকাত হা/৫৯৫৯)। ঠিক এমনসময় আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা)’র ভাই আব্দুর রহমান (রাদিআল্লাহু আনহু) সেখানে উপস্থিত হলেন, তার হাতে একটা মিসওয়াক দেখে সেদিকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, আমি তাঁর আগ্রহ বুঝতে পেরে তার অনুমতি নিয়ে মিসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে তাঁকে দিলাম। তখন তিনি সুন্দরভাবে মিসওয়াক করলেন ও পাশে রাখা পাত্রে হাত ডুবিয়ে মুখ ধৌত করলেন।

এমন সময় তিনি ঘরের ছাদের দিকে দৃষ্টি উঠিয়ে এবং হাত উঁচু করে বলতে থাকলেন,
مَعَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيْقًا، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَارْحَمْنِىْ وَأَلْحِقْنِىْ بِالرَّفِيْقِ الأَعْلَى-
‘হে আল্লাহ! নবীগণ, ছিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং নেককার ব্যক্তিগণ যাদের তুমি পুরস্কৃত করেছ, আমাকে তাদের সাথী করে নাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর এবং আমাকে আমার সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে মিলিত কর। হে আল্লাহ! আমার সর্বোচ্চ বন্ধু!’ আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, শেষের কথাটি তিনি তিনবার বলেন। অতঃপর তাঁর হাত এলিয়ে পড়ল, দৃষ্টি নিথর হয়ে গেল’। তিনি তার সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে মিলিত হ’লেন। (বুখারী হা/৪৫৮৬, ৫৬৭৪, মিশকাত হা/৫৯৫৯-৬০; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৫৭০৭-০৮)
আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, আমার উপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার ঘরে, আমার পালার দিন এবং আমার বুক ও গলার মধ্যে হেলান দেওয়া অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তাঁর মৃত্যুর পূর্বক্ষণে আল্লাহ আমার মুখের লালার সাথে তাঁর মুখের লালা মিলিয়ে দিয়েছেন। (বুখারী, মিশকাত হা/৫৯৫৯; হা/৫৭০৭)

নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্থ অবস্থায় বলতেন যে, কোন নবীরই (জান) কবজ করা হয় না, যতক্ষণ না তাঁকে জান্নাতে তার স্থান দেখানো হয়, আর তাঁকে (জীবন অথবা মৃত্যুর) যে কোন একটিকে বেছে নেয়ার অধিকার না দেয়া হয়। কাজেই যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুকাল আসন্ন হল, তখন তাঁর মাথা আমার রানের উপর ছিল, তখন কিছুক্ষণের জন্য তিনি অচেতন হয়ে পড়লেন। চেতনা ফেরার পর তিনি উপরে ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ‘আল্লাহুম্মার রাফীকাল আলা’ (ইয়া আল্লাহ্! তুমিই আমার পরম বন্ধু)। ‘আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন, তখনই আমি (মনে মনে) বললাম যে, তিনি এখন আমাদেরকে পছন্দ করবেন না। আর আমি বুঝলাম যে, এটাই সেই কথা, যা তিনি ইতোপূর্বে বর্ণনা করতেন এবং এটাই ছিল তাঁর শেষ কথা, যা তিনি উচ্চারণ করেছেনঃ اللهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى ‘‘হে আল্লাহ্! উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বন্ধুর সঙ্গে করে নিন।’’ (সহী বুখারী হাদিস ৪৪৩৫, আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৬৫, মুত্তাফাক্ব আলাইহি, মিশকাত হা/৫৯৬৪; দারেমী, মিশকাত হা/৫৯৬৮)

এই পর্ব এখানেই শেষ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতের ঘটনাগুলি নিয়ে অনেক অজানা অনেক বিষয় আছে দেখে বেশ বিস্তারিত ভাবেই লিখেছি। যেখানে কিছু ব্যাখ্যা দরকার সহী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেটার ব্যাখ্যা দেবার সর্বোচ্চ চেষ্টাও করেছি। লেখার জন্য প্রয়োজনীয় সহী সূত্রসমূহ যেখানে দরকার সেখানেই উল্লেখ করেছি। বাদ বাকি অংশগুলি মূলত তিনটা বই থেকেই বঙ্গানুবাদ করে লেখা হয়েছেঃ
১) Sirat Ibn Hisham: Biography of the Prophet (SAW) by Ibn Hisham
২) The Life of Muhammad (SAW) by Ibn Ishaq (Author), A. Guillaume (Translator)
৩) The Life of The Prophet Muhammad (Al-Sira Al-Nabawiyya) by Ibn Kathir


সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, ফেব্রুয়ারী ২০২০

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:২৯
২৬টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনার মাঝে ভয়ংকর প্রতিবাদে জ্বলছে আমেরিকার অনেক শহর

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে মে, ২০২০ সকাল ৯:৪১



*** হোয়াইট হাউজের ২০০ গজের মধ্যে পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি চলছে , মানুষ হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করছে, অনেকেই আহত হয়েছে; এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেভাবে হত্যা করা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াকে-

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ৩০ শে মে, ২০২০ বিকাল ৩:৫৪

১/



রাতের শেষ প্রহরে তিনটি সামরিক পিকআপ জিপ এসে দাঁড়ালো চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের গেটের সামনের রাস্তায়। একটি পিকআপ থেকে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের কাঁধে র রকেট লঞ্চার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫৬



আমি জিয়াকে পছন্দ করি।
কারন উনি একজন সৎ লোক ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উনি কোনো দূর্নীতি করেন নি। কিন্তু অনেক ভুল কাজ করেছেন। রাজাকার গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অশিক্ষা, কুশিক্ষায় নিমজ্জিত, রাজনৈতিক জ্জানহীনরা সামরিক শাসনকে মিস করে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৮



১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা পরাজিত হলে, ২ কোটী বাংগালীর ঘরে জেনারেল ইয়াহিয়ার ছবি ঝুলতো সেদিন; কিছু বাংগালী আছে, মুরগীর মতো, চিলে বাচ্চা নিলে টের পায় না। নাকি আসলে মুসরগী টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবী বিখ্যাত ব্যক্তিদের মা'য়েরা .............. এট্টুসখানি রম্য :D

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ৩০ শে মে, ২০২০ রাত ৮:০৫



পৃথিবীর সব মা’য়েরাই একদম মা’য়ের মতো ।
সন্তান বিখ্যাত কি অবিখ্যাত, সে জিনিষ তার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। তার কাছে সে কোলের শিশুটির মতোই এই টুকুন । যাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×