২য় পরব.........
দিন যেতে লাগল। বিধাতার আশীর্বাদে ও ঠান্ডু মিয়ার অক্লান্ত চেষ্টায় স্ত্রী আনোয়ারার
মেডিক্যাল কলেজে চান্স হল। সময়ের তালে তালে আনোয়ারার সুমিষ্ট দেহমন সকলের নজর কাটতে সুরু করল। সকলের কাছেই সে হয়ে উঠল প্রশংসনীয় নারী।
মাঝে মধ্যে বন্ধু মহলে স্বামী ঠান্ডু মিয়াকে ঘীরে বেশ কিছু সমালোচনা ঝড় বইল। প্রথম দিকে সমালোচনার তীব্র প্রতিবাদ করলেও শেষ দিকটায় স্ত্রী আনোয়ারার মুখেও ঠান্ডু মিয়া সমালোচিত হতে লাগল।
হায়রে নিয়তি,হায়রে স্বার্থপর নারী,হায়রে ভালবাসা। দেবতার মত যে স্বামীর অবস্থান তাকে কি করে আজ সমালোচিত করিস। জীবনে যে স্বামী আপন সুখের কথা ভাবলনা,জীবনে যে স্বামী সন্দহের বিন্দুমাত্র অপবাদ তকে দিলনা আজ কি করে তাকে সমাজে কলঙ্কিত করছিস। দিনে দিনে আনোয়ারার অনেক পরিবর্তন এসেছে তবু যেন ঠান্ডু মিয়া সে দিকটা একবারও ভেবে দেখলনা। সকল চেষ্টা অব্যাহত রেখে ঠান্ডু মিয়া যেন দিন গুনতে লাগল। কবে আনোয়ারা ডাক্তার হয়ে বের হবে। কবে তার সপ্ন পূরন হবে।
ডাক্তার হয়েছে আনোয়ারা। কত সুভাসিত ফুলের তুরা ডালায় ডালায় ভরে ঠান্ডু মিয়ার মাথার উপর দিয়ে গড়িয়ে বিমোহিত করল স্বনামধন্য স্ত্রী আনোয়ারা্কে। চোখের পলক যেন বলে দিচ্ছে ঠান্ডু মিয়া আজ আর স্বামীর আসনে নেই। প্রতিনিয়ত কমেন্টস এটা কর,ওটা কর ইত্যাদি ইত্যাদি। ঠান্ডু মিয়া একবার ভাবে,ভাবতে চায় কিন্তু সরল প্রাণ পরক্ষনই সরল পথেই টেনে নেয়। মনে মনে ভাবে শিক্ষিত মেয়ে ছেলের সমাজ,সমাজে উঠাবসা হয়ত এমনি হয়ে থাকে। তাই তার ভাবনা গুলো মূর্ছা খায়।
শিক্ষিত সমাজ। যার উপর স্বামী ঠান্ডু মিয়ার এত সন্মান,এত শ্রদ্ধা,সেই শিক্ষিত সমাজ যদি তারই মাথার উপর কাঠাল ভেঙে খায় তবে কি আর সেই জাতির প্রতি তার সন্মান থাকবে।
নারী ছলনাময়ী, স্বার্থ মোহ আর মায়াবীনি।যুগে যুগে নারী এসেছে স্বার্থের মোহতা নিয়ে ইতহাস যার সাক্ষ্য দেয় । তার পরও আমরা মজি আবেগাপ্লোত হই। উপচে করে প্রেম দেই। সরবস্য ঢেলে দেই।
একদিন ঠান্ডু মিয়া না বলা কথাটি স্ত্রী আনোয়ারাকে বলেছিলেন। বলেছিলেন তোমাকে আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার(ডাঃ) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব এবং এটাই আমার সারা জীবনের প্রত্যাশা,কল্পনা,আরাধনা। সে থেকেই স্ত্রী আনোয়ারার পা আর মাটিতে পড়েনা। ঊড়ু উড়ু আকাশ ছোঁয়া কল্পতরু কল্পনার পাখায় ভর করে চলছে আর চলছে। স্বামী ঠান্ডু মিয়াও তার কথামত সিনিয়র স্যারদের সহায়তায় চাকরীটা অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে এসেছেন।
নেক্সট......।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


