somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আবদুর রহমান মাসুম
মুজাফফর বিন মহসিন সাহেব রচিত "জাল হাদিসের কবলে রাসুলুল্লাহ সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত বইয়ের দলিল ভিত্তিক পর্যালোচনাঃ

ভুল নং-১১: সহিহ হাদিসের অপব্যাক্ষা নাকি যথার্থ ব্যাক্ষা!

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখক এরপর লিখেছেন, মূলত ছহীহহাদীসের অপব্যাখ্যা করে দেরী করেছালাত আদায় করা হয়।এ সম্পর্কে পরে আলোচনা আসছে।এরপর লেখক লিখেছেন, অনেকমসজিদে ফর্সা হলে ছালাত শুরু করাহয় এবং বিদ্যুত বা আলো বন্ধ করেকৃত্রিম অন্ধকার তৈরি করা হয়। এটাশরীয়তের সাথে প্রতারণা করারশামিল। হাঁ, অবশ্যই এটা প্রতারণা।লেখক স্পষ্ট করেননি, কারা এইকাজটি করে থাকে। কারণ, বিষয়টিএমনিতেই স্পষ্ট। এটা করে থাকেতারা যারা অন্ধকারে ফজর আদায়করাকে মুস্তাহাব বলে মনে করে।যারা ফর্সা করে ফজর আদায়করাকে মুস্তাহাব বলে মনে করে তারাএটা করবে না। তারা বরং উল্টোটাকরবে। তারা অন্ধকারে আলোজ্বালিয়ে কৃত্রিম ফর্সা তৈরিরচেষ্টা করবে।মুহতারাম,লেখক এই অধ্যায়ে মূলত ফজরেরসালাত অন্ধকারে আদায় করা তথাতাগলীস বিল ফাজর যে মুস্তাহাবতা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণকরতে চাইছেন। আপনি জানেন যে,কারও কারও মতে ফজরকে ফর্সাকরে আদায় করা তথা ইসফার বিলফাজর মুস্তাহাব। লেখক এই দ্বিতীয়মতটির পক্ষের হাদীসগুলোকে জালপ্রমাণ করতে চাইছেন। এ জন্যতিনি শুরুতেই হযরত মুআজ ইবনজাবাল রা.-এর একটি হাদীসউপস্থাপন করেছেন যা দ্বিতীয়মতটিকে সমর্থন করে। লেখকবলছেন, হাদীসটি জাল। আমারও তাইমনে হয়। কিন্তু ইসফার বিলফাজরের প্রবক্তাগণ এই হাদীসকেতাঁদের মতের পক্ষে দলীল হিসাবেকোথাও উপস্থাপন করেছেন বলেআমার জানা নাই। এই মতেরঅনুসারীদের কেউ বিচ্ছিন্নভাবেএটিকে দলীল হিসাবে উপস্থাপনকরলে করতেও পারে কিন্তু তার দায়দায়িত্ব এই মতের প্রবক্তাগণেরউপর কিংবা এই মতের অনুসারীদেরসকলের উপর চাপানোকে আমিন্যায়সংগত মনে করি না।ইসফার বিল ফাজরের প্রবক্তাগণযে সব সহীহ হাদীসকে তাঁদের মতেরপক্ষে দলীল হিসাবে উপস্থাপন করেথাকেন লেখকের মতে সেসবহাদীসের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।এইজন্য তিনি এরপর ‘ছহীহ হাদীসেরঅপব্যাখ্যা’ নামে একটি শিরোনামকায়েম করেছেন। এই শিরোনামেরঅধীনে তিনি রাফে‘ ইব্ন খাদীজ রা.-এর একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন।হাদীসটি এই-ﻋَﻦْ ﺭَﺍﻓِﻊ ﺑْﻦِ ﺧَﺪِﻳْﺞٍ ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮْﻝَﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺃَﺳْﻔِﺮُﻭْﺍﺑِﺎﻟْﻔَﺠْﺮِ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺃَﻋْﻈَﻢُ ﻟِﻠْﺄَﺟْﺮِহাদীসটির প্রথম বাক্যের অনুবাদতিনি করেছেন এইভাবে: ‘তোমরাফজরের মাধ্যমে ফর্সা কর।অনুবাদের সামান্য হেরফেরে বাক্যেরমর্ম ও উদ্দেশ্যের পরিবর্তন ঘটেযায়। মর্ম ও উদ্দেশ্যের পরিবর্তনঘটানোর উদ্দেশ্যেই লেখক এইরূপঅনুবাদ করেছেন, না অনুবাদেঅদক্ষতার কারণে বা আরবী ভাষায়দখল না থাকার কারণে এইরূপঅনুবাদ করেছেন তা আল্লাহই ভালজানেন। সঠিক অনুবাদ এইরূপ হবেবলে আমি মনে করি: ‘তোমরাফজরকে (তথা ফজরের সালাতকে)ফর্সায় উপণীত কর।’ কারণ, ﺍﺳﻔﺎﺭশব্দটি ﺳﻔﺮ হতে গঠিত। ﺳﻔﺮ অর্থআলো ও উজ্জ্বলতা। বলা হয়, ﺳﻔﺮﺍﻟﺼﺒﺢ (অর্থাৎ প্রভাতআলোকোজ্জ্বল হয়েছে।) বাবেইফ্আলে এর অর্থ হল, প্রভাতেরআলোকোজ্জ্বলতায়প্রবেশ করা,প্রভাতের আলোকোজ্জ্বলতায়উপণীত হওয়া। বলা হয়, ﺍﺳﻔﺮ ﺑﻼﻝতথা ﺩﺧﻞ ﺑﻼﻝ ﻓﻰ ﺳﻔﺮ ﺍﻟﺼﺒﺢ(অর্থাৎ বেলাল প্রভাতেরআলোকোজ্জ্বলতায়প্রবেশকরেছে।) যেমন বলা হয় ﺍﺻﺒﺢ ﺑﻼﻝ(অর্থাৎ বেলাল প্রভাতে প্রবেশকরেছে, প্রভাতে উপণীত হয়েছে।তথা প্রভাত করেছে।) কুরআনমজীদে বলা হয়েছে: ﻓﺴﺒﺤﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪﺣﻴﻦ ﺗﻤﺴﻮﻥ ﻭ ﺣﻴﻦ ﺗﺼﺒﺤﻮﻥ[তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ওমহিমা ঘোষণা কর যখন তোমরাসন্ধ্যা কর ও সকাল কর। (তথাসন্ধ্যায় ও সকালে।) - সূরা রূম,আয়াত ১৭] অতএব ﺇﺳﻔﺎﺭ মাসদারহতে গঠিত আদেশ সূচক শব্দ ﺃﺳﻔﺮﻭﺍ-এর অর্থ হল, তোমরা প্রভাতেরআলোকোজ্জ্বলতায়প্রবেশ করতথা ফর্সা কর। এরপর যখন ﺑﺎﻟﺼﺒﺢবলে ﺣﺮﻑ ﺍﻟﺠﺮ -‘ ﺑﺎ ’ (preposition)দ্বারা ক্রিয়াটিকে সকর্মক ক্রিয়া(ﻣﺘﻌﺪﻯ ) বা transitive verb-এপরিণত করা হল তখন নিয়ম অনুযায়ীএর অর্থ হবে তোমরা ফজরেরসালাতকে ফর্সায় উপণীত কর।এতদ্বারা ইসফার বিল ফাজর -এরপ্রবক্তাগণের মতের পক্ষে সমর্থনমেলে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

লংমার্চ নাকি ‘ফোর-হুইল ড্রাইভ’—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭

জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের আজকের লংমার্চ—ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা। শুনে মনে হলো, ইতিহাস বুঝি আবার হাঁটতে শুরু করেছে!

কর্মসূচির ছয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×