somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

আজ বিশ্ব গ্লুকোমা দিবসঃ অন্ধত্বরোধে সচেতন হোন

১২ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ ১২ মার্চ বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস। এ ছাড়াও গ্লুকোমার অন্ধত্বকে প্রতিরোধ করতে বিশ্বব্যাপী মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ’ পালিত হয়। এ বছর সপ্তাহটি পালিত হচ্ছে ৭ থেকে ১৩ মার্চ পযৃন্ত। জনসাধারণকে গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য এই সপ্তাহ পালিত হবে। গ্লুকোমা সপ্তাহের এবারের স্লোগানঃ " THE WORLD IS BRIGHT, SAVE YOUR SIGHT"


গ্লুকোমা চোখের একটি জটিল রোগ। ডায়াবেটিসের মতো এই রোগকেও নিরব ঘাতক বলা হয়।মানুষের চোখের অন্ধত্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ হচ্ছে গ্লুকোমা। চোখের অভ্যন্তরীণ উচ্চ চাপই এই রোগের প্রধান কারণ, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে চোখের স্বাভাবিক চাপেও এই রোগ হয়ে থাকে। চোখের এই অভ্যন্তরীণ চাপ চোখের অতি সংবেদনশীল অপটিক নার্ভ, যার মাধ্যমে চোখ মস্তিষ্কের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাকে চিরতরে নষ্ট করে দেয়, ফলে মানুষ অন্ধত্ব বরণ করে। গ্লুকোমা রোগ যেকোনো মানুষের যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে ৪০ বছর বয়সের পরে এই রোগের সম্ভাবনা বেশি। গ্লুকোমা নিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘রক্তের চাপের মতো চোখেরও একটি নির্দষ্টি চাপ থাকে। চোখের স্বাভাবিক চাপ ১০-২০ মিমি মারকারি। কোনো কারণে এই চাপ বৃদ্ধি পেলে চোখের অপটিক নার্ভের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং আস্তে আস্তে নার্ভটি শুকিয়ে যায়। ফলে দৃষ্টির পরিসীমা কমতে থাকে। একপর্যায়ে চোখ দৃষ্টিহীন হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থাই গ্লুকোমা।’ দেশে দিনে দিনে বেড়েই চলছে গ্লুকোমায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। জানা যায়, সারা বিশ্বে ৪৫ লাখ মানুষ গ্লুকোমার স্থায়ী অন্ধত্বের শিকার হয়েছেন। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি, যাঁদের অধিকাংশই এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশের বাসিন্দা। ধারণা করা হয়, ২০৪০ সাল নাগাদ গ্লুকোমায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। তবে সবচেয়ে ভয়ের কথা, ৯০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষ রোগটি সম্পর্কে জানেন না। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ১.৮ থেকে ২.২ শতাংশ লোক গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের মানুষের মধ্যে ২.৮ শতাংশেরই গু্লকোমা রোগ রয়েছে।গ্লুকোমা হলে চোখের প্রেসার বেড়ে গিয়ে চোখের ভিতরের অপটিক নার্ভসহ অন্যান্য জিনিসগুলোকে ক্ষতি করে। সাধারণত পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের বেশি হয়। গ্লুকোমা সপ্তাহ পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ গ্লুকোমা রোগ সম্পর্কে যেন সচেতন হয়। গ্লুকোমা রোগের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। একবার দৃষ্টিসীমা কিছুটা নষ্ট হলে সেটুকু আর ফিরেও পাওয়া যায় না। এটি নীরবে চোখকে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায় বলে গ্লুকোমাকে নীরব ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়। এটি সাধারণত চোখের প্রেসারজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। এ রোগের সঠিক কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জানা যায়নি, তবে চোখের অন্তর্গত উচ্চচাপ প্রধানতম ঝুঁকি। এ রোগের পেছনে অন্য যেসব ঝুঁকি আছে, তা হলো বংশগত ইতিহাস (মা, বাবা, ভাই, বোন এ রোগে আক্রান্ত হলে তাঁদের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আশঙ্কা), ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মাইনাস বা প্লাস পাওয়ার, মাইগ্রেন, চোখের আঘাত, চোখের অন্যান্য রোগ এবং চিকিৎসকের উপদেশ ব্যতীত অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টেরয়েড–জাতীয় চোখের ড্রপ ব্যবহার ইত্যাদি।


গ্লুকোমা হলে অনেক সময় নানা উপসর্গ প্রকাশ পায়। যেমন- চোখে তীব্র ব্যথা, স্বল্প আলোতে দেখতে সমস্যা হওয়া, চোখ লাল হওয়া, বমি বমি ভাব ও প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ইত্যাদি। তবে বেশীর ভাগ গ্লুকোমাই উপসর্গবিহীন। কখনো কখনো জন্মগতভাবে বা বাড়ন্ত বয়সেও এ রোগ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জন্মের পর শিশুর চোখ থেকে পানি পড়া, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, অস্বচ্ছ মণি এবং অক্ষিগোলক বড় হতে থাকা—এসব লক্ষণ দেখা দিলে অতিসত্বর শিশুর চোখ গ্লুকোমায় আক্রান্ত কি না, পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষাই গ্লুকোমা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।চোখের চাপ, স্নায়ু রজ্জুর (অপটিক নার্ভ) অবস্থা এবং দৃষ্টির পরিসীমা পরীক্ষা করে সহজেই গ্লুকোমা নির্ণয় করা যায়। সে জন্য নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করতে হবে। তিন ধরনের উপায়ে সাধারণত গ্লুকোমা চিকিৎসা করা হয়। ১।চোখের বিভিন্ন ড্রপ, ২। লেজার ও ৩। গ্লুকোমা সার্জারি। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্লুকোমা রোগ নির্ণয় করা গেলে খুব সহজেই গ্লুকোমাজনিত অন্ধত্ব রোধ করা সম্ভব। গ্লুকোমা প্রতিরোধে যা করণীয়ঃ
১। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে এবং যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস আছে তারা প্রতি বছর অন্তত একবার করে চোখের পরীক্ষা করাবেন। যত তাড়াতাড়ি এ সমস্যা ধরা পড়বে তত তাড়াতাড়ি এর চিকিৎসা সম্ভব হবে।
২। পরিবারের কারো গ্লুকোমা ছিল বা আছে কিনা তা জেনে নিন।
৩। চোখের প্রেসার বেশি থাকলে চিকিৎসক যেভাবে ব্যবস্থাপত্র দেবেন সেটা মেনে চলুন।
৪।নিয়মিত পরিমিত আকারে ব্যায়াম করলে চোখের প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৫। ঘরের কাজ বা খেলাধূলার সময় চোখে প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিন। সবচেয়ে বড় কথা দৃষ্টিশক্তি হারাতে না চাইলে গ্লুকোমা হলে বা হয়েছে বলে সন্দেহ হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান এবং তার পরামর্শ মেনে চলুন। আর গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। গ্লুকোমা রোগের সব ধরনের প্রচলিত চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। চিকিৎসাও সুলভ। তবে এ রোগ প্রতিরোধে সচেতনার বিকল্প নেই। আশার কথা হচ্ছে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা হলেও ঠিকমতো ওষুধ ব্যবহার করে ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে একজন গ্লুকোমা রোগী তার স্বাভাবিক দৃষ্টি নিয়ে বাকি জীবন সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারে।
সূত্রঃ স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবা সাইড

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
ব্রেকিং নিউজ২৪.কম :-& ফেসবুক-১ :-& ফেসবুক-২
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১:৪১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×