somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এতো শক্তিশালী আওয়ামীলীগের অবস্থা এমন কেন হল?

১৭ ই আগস্ট, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ১৫ বছর ধরে আমরা শক্তিশালী আওয়ামীলীগকে দেখে এসেছি। কী তাদের দাপট ! তাদের যে কোন সভা সমিতি আলোচনায় হাজার হাজার মানুষ এসে হাজির হয় । ছাত্রলীগের যে কোন মিটিং কিংবা মিছিলেও হাজার মানুষ এসে হাজির । কিন্তু গত ১৫ই আগস্ট আমরা কী দেখলাম, সেই হাজার হাজার মানুষদের টিকিটাও দেখা গেল না। এতো সমর্থক সব গেল কই?

আমি আগেই স্বীকার করে নিয়েছি যে এই আওয়ামী সরকারের যে এভাবে পতন হবে সেটা আমি কোন দিন ভাবি নাই। কিন্তু আদতে দেখা গেল যে আওয়ামী শক্তি আসলে ঠুনকো ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশের জন সমর্থকের কাছে তারা স্রেফ উড়ে গেছে। এইভাবে আপনারা লেজ গুটায়া পালাইবেন এইটা আমি ভাবি নাই । সত্যি কোন দিন কল্পনাও করি নাই ।

গতমাসের পনের তারিখে ছাত্রলীগ শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা করল । সেই সময়ে দুইটা ছবি ভাইরাল হয়েছিল খুব । একটাতে দেখা গেছে যে দুইটা মেয়েকে একটা বীরপুরুষ ছাত্রলীগ লাঠি দিয়ে মারতে যাচ্ছে । আরেকটা ছবিতে দেখা গেছে আরেক বীরপুরুষ ছাত্রলীগ একটা মেয়েকে মেরে নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছে। ছবি দুটো আপনাদের চোখে পড়ার কথা ।

এর আগে আমাদের স্বৈরাচার সরকার কিভাবে হুংকার ছেড়ে বলেছিল যে এই আন্দোলন কারীদের জন্য কেবল ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ ! তার পরের দিন আসলে আমরা কী দেখলাম? বলা যায় সেইদিনই আমার ছাত্রলীগের প্রতি যে ধারণা ছিল সেটা ভেঙ্গে গেল। সাধারণ ছাত্ররা প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগকে কুকুরের মত পিটিয়ে বিদায় করে দিল । তাদের ঘরের সমস্ত জিনিস পত্র বাইরে ফেলে দিল ।
ব্যাপারটা একবার ভাবুন শুধু ! তখনও সরকারের কিছুই হয় নি । সাধারণ মানুষ এসে যুক্ত হয় নি আন্দোলনে । তখন কেবল ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল পুরো আন্দোলনটা । সেই সময়ে সাধারণ ছাত্ররা প্রতিটা ক্যাম্পাসটা ছাত্রলীগকে পিটিয়ে দূর করছে। জাবি দিয়ে এটা শুরু হয়েছিল । আর সেই তথাকথিত শক্তিশালী ছাত্রলীগ নেড়ি কুকুরের মত পালিয়েছিল। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হয় না? লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগকে কুকুরের মত পিটিয়ে প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে !

তারপর আবু সাইদের মৃত্যুর পরে ব্যাপারটা আর সাধারণ ছাত্রদের মাঝে সীমাবদ্ধ রইলো না । সাধারণ মানুষ এসেও যোগ দিল । এবং অবশ্যই এর ভেতরে বিএনপি জামাতও এসে জুটল । তারা সুযোগ যে নিবে সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামীলীগের যে এতো এতো সমর্থক, এতো কর্মী এরা সব গেল কই? কেন এরা সামনে এগিয়ে এল না? গত ১৫ বছরে এরা এতো এতো সমর্থক আর কর্মী বানাইছে এরা সব কই এখন? ১৫ আগস্টের আগের দিন লীগের সবার ফেসবুক প্রোফাইলের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল এইদিন একটা ফাটাফাটি হবে। অথচ দেখা গেল ধারে কাছেই যেতে পারল না।

এর একটা কারণ বলি। এই যে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এতো এতো আওয়ামী সমর্থক দেখা গেছে এরা আসলে কেউ সমর্থক না, এরা সব সুবিধাবাদী, এরা হল চাটুকার। ওরা দেখেছে এদের সাথে থাকলে আমাদের লাভ আছে তাই ছিল। এই সুবিধাবাদী কোন দিন কার জন্য আন্দোলনে নামবে না । গুলি খাবে না। আরও সমস্যা হচ্ছে আওয়ামীলীগ এই সুবিধাবাদীদের খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছে। এদেরকেই নিজেদের দলের শক্তি মনে করেছে। এবং এই শক্তি মনে করে এরা বাকি সবাইকে নিজেদের শত্রু বানিয়ে ফেলেছে।

আপনাদের কাছে কি আরও কারণ জানা আছে যে কেন এতো শক্তিশালী দল মাঠে নামল না? আমি জানতে আগ্রহী!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×