somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

রাস্তাঘাটে চলতি পথে - ১

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ঘটনা - ১

আমি প্রতিদিন অফিসে যাবার পথে এটা প্রায়ই হয় । আমি মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠি । আমার অফিস হচ্ছে এলিফেন্ট রোডে । তো প্রতিদিনের মতই বাস এলিফেন্ট রোড আসতেই নামব দেখি গেটের কাছে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে । বললাম ভাই পিছনে সিট খালি আপনি পিছনে গিয়ে বসেন । বলল আমি সামনেই নামব । জিজ্ঞেস করলাম কোথায়? বলল মতিঝিল । সত্যি বলছি আমার মাথায় তখন রক্ত পারদের মত উঠে গেল । গেটে লোক ওঠা নামায় কষ্ট হচ্ছে তাও উনি গেটে দাঁড়িয়ে আছে । মনে চাইল দু একটা বসিয়ে দেই, পারলে লাথি মেরে গেটের বাইরে ফেলে দেই ।

আমার কথায় হয়ত আপনাদের খারাপ লাগছে । কিন্তু সত্যি এটা প্রায়শই ঘটে । আওর বুঝি না এদের কি মাথায় ঘিলু বলতে কিছু নাই নাকি ইচ্ছে করেই লোকজনের দূর্ভোগ বাড়ায় । মাঝে মাঝে মনে হয় এই লোক গুলা কে ধরে ধরে পাবনায় পাঠিয়ে দেই ।

ঘটনা - ২

আজ জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে যাইনি । অফিসের কাজ করে প্রচুর ক্লান্ত লাগছিল তাই ভাবলাম বাসায় চলে যাই । তাই বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি । বাস তো আর আসে না । অবশেষে এলো । উঠলাম । কিন্তু ভীড় বেশি আবার পিঠে ল্যাপটপের ব্যাগ । তাই কি করব দাঁড়িয়ে ফোনে গান শুনছি । নিজেকে রিল্যাক্স করার চেষ্টা ।

পারলাম না । এক আন্টি আমাকে একটু রেগেই বলেছেন, এত মোটা ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন ? পিছনে যাও । এমনিতেই সারাদিনের সব কিছুতে আমার মাথা হ্যাং হয়ে আছে তারপর ওনার কথা আগুনে ঘি ঢালার মত ই কাজ করল । আমি খুব ঠান্ডা ভাবে বললাম, আন্টি আল্লাহ আমাকে দুইটা চোখ দিয়েছে পা দিয়েছে মাথা দিয়েছে এবং অল্প সল্প বুদ্ধিও দিয়েছে । আপনার কি মনে হয় আমি খুশিতে আর ঠেলায় এখানে দাঁড়িয়ে আছি । ভীড় না থাকলে আপনাকে বলতে হতো না । আরও আগেই পিছনে চলে যেতাম । বলে চুপ করে গেলাম । কারন ওনার মেয়ে ওনাকে চুপ করতে বলছে ।

পিছনের দিকে যেতে যেতে শুনলাম আমাকে বেয়াদপ জাতীয় একটা শব্দ বলল । থেমে পিছনে থেকে আবার আসলাম । আমি বললাম আন্টি রাস্তা ঘাটে আমি মেয়েদের যথেষ্ট সম্মান দেই । আপনার মেয়ের শরীরে আমার কোন স্পর্শ লাগেনি । আমি গ্যারেন্টি দিচ্ছি । ঠিক আছে । আপনি যে আমাকে বেয়াদপ বলেছেন কিসের উপর ভিত্তি করে আমি আপনাকে পালটা উত্তর দিয়েছি তাই । আমার উত্তরটা যদি অযৌক্তিক হয় তবে আমাকে বেয়াদপ বলেন সমস্যা নেই । তারপর পিছনে চলে গেলাম । বাসের সব মানুষ আমার দিকে কেন তাকিয়ে ছিল জানি না । জনগন আজীবন তাকিয়েই গেছে ।

ঘটনা - ৩

বাসের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম সামনের দিকে একটা সিট খালি হতেই গিয়ে বসে পরলাম । তখন আবার গান শুনা শুরু করেছি । জিগাতলা পার হতেই একটা বোরখা পরা আন্টির বয়সী উঠলেন । কি আর করা সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলাম । ওই আন্টি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন কি না জানি না । তার দিকে চোখ পরতেই ওনি অন্য দিকে তাকালেন ।

আমি বাসের পিছনে গিয়ে আবার দাড়ালাম । তখন বাস পনেরো নাম্বার । লোকজন উঠছে বাসে । এক লোক গেটে দাঁড়িয়ে আছে । দেখ ভাবলাম কিছু বলি । কিন্তু ক্লান্ত শরীর সায় দিল না । বাস মনে হয় হালকা টান দিয়েছে । প্রায় দশ কদম এর মত গেটের লোকটা বাস থামানোর জন্য বলছে । ড্রাইভার বিরক্ত । বাসের সবাই বিরক্ত । কিন্তু কেউ কিছু বলল না দেখে নিজেই বললাম, ভাই আপনার বাসার ঠিকানা বলেন একে বারে বাসার গেটে নামায়া দিয়ে আসি । লোকটি কিছু বলেছে শুনি নাই । বাস টান দিয়ে চলে এসেছে ।

মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড নেমে সোজা বাসায় আসলাম । এখনও ফ্রেশ হয়নি । লিখতে বসে গিয়েছি । না হলে আর লেখা হবে না । এটুকু বলল আমরা কেউ আর মানুষ নেই । আমরা হয়ে গিয়েছি স্বার্থপর । অন্যের ব্যাপারে আমাদের কোন বিবেক কাজ করে না । কাজ করে আবেগ । হয়ত এটাও এক দিন বিলিন হয়ে যাবে ।




বিঃদ্রঃ এটা আমার নতুন সিরিজ । আশা রাখি এটা চালিয়ে নিতে পারব ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৩
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×