somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

বিশ্ব মা দিবস আর মোটিভেশন নিয়ে কিছু কথা !!!!

১২ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সেদিন বস বলছিল মোটিভেশন এর কথা । তখন থেকে মাথায় ঘুরছে কথাটা । তবে মোটিভেশন এর কথা শুনলেই মাথায় আসে মোটিভেশনাল স্পিকারদের কথা । আমরা একটুতেই যখন হতাশ হয়ে পরি কত কত মোটিভেশন এর জন্য দৌড়াদৌড়ি করি । আমি নিজেও করি । যদি বলি এই লেখা লেখার জন্য আমি প্রায় এক সপ্তাহ সময় নিয়েছি বিশ্বাস হবে না । সত্যি বলতে আমি নিজেও ভাবছি নিজেকে নিয়ে । এখন কেন আগের মত কিবোর্ড এ আঙুল চলছে না । হতাশায় নিজেকে ডুবিয়ে ফেলেছি মনে হচ্ছে ।

তবে নিজের চিন্তা ভাবনা গুলোকে মেলে ধরতে এখন কষ্ট হয় । মনে হয় কি লিখছি বা ভাবছি । মনে হচ্ছে অন্য জগতের বাসিন্দা । মানুষ যেমন সমুদ্রে বা নদী পরে গেলে সাতার কাটে । খড়কুটো যা পায় তাই ধরে বাচতে চায় অনেকটা তেমন অবস্থা । অথচ চোখ বন্ধ করে একটু ভাবতেই মনে পরে গেলো আমার কাছে এত বড় মোটিভেশন আছে আর আমি কিনা সেদিকে খেয়াল করিনি ।

যদি বলি সবার কাছেই আছে এই মোটিভেশন তা হলে বিশ্বাস করবেন না জানি । আচ্ছা তাহলে যারা মোটিভেশন দিয়ে থাকেন তাদের নিয়ে বলি ।

আমাদের দেশে যারা এক একটা সেশন নিয়ে মোটিভেশন নিয়ে নিজেকে সফলতার চুড়ায় নিয়ে যাচ্ছেন দিন শেষে এক বার ভাবুন তো আপনি নিজে কতটা মোটিভেটেড হয়েছেন । যদি মোটিভেটেড হয়ে থাকেন তবে আমার কথা নেই । তবে না হলে ফি দিয়ে সেশন করার মানে হয় না ।

তবে আমাদের মোটিভেটররা আবার এসি রুমে বসে তাদের মোটিভেশন দিয়ে থাকেন । তারা এক একটা সেশন এর জন্য মোটা একটা তোড়া নিয়ে যান । তাহলে এটা তো বিনিময় হলো । টাকা আপনার, সময় আপনার এবং কথা শুনোর জন্য আপনি ই যান । তাহলে এই মোটিভেশন এর কি দরকার ।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মোটিভেটর হচ্ছে আপনার বাবা মা । বিষয়টি আপনি আমি কতটা ভেবেছি । কখনও কি ভেবে দেখেছেন আপনার জন্য তারা তাদের স্বপ্ন গুলো বির্সজন দিচ্ছেন । তারা কিন্তু মোটিভেশন পায় আপনাকে দেখে । তারা কি কোন মোটিভেশন সেশন নিয়েছে । না । তারা শুধু আপনাকে দেখেছে । আপনার মুখের হাসি দেখেছে ।
আমি সেদিন বাবার জুতার জোড়া পায়ে দিয়ে ছিলাম । সত্যি বলতে কেমন জানি একটা অনুভূতি হয়েছিল । মনে হয়েছিল আমি এত হতাশ কেন হই । আমার বাবা মা তো কোন দিন আমাকে নিয়ে হতাশ হননি । তারা সব সময় ই আমার পাশে ছিলেন । আমাকে সাহস দিয়েছেন । এগিয়ে যেতে বলেছেন সামনে ।

আমার মা পুরোপুরি গৃহিনী । তাকে আমি খুব বেশি ঘুরে বেড়াতে দেখিনি । তিনি সব সময় আমাদের পরিবারটাকে আগলে রেখেছেন । কোথাও বেড়াতে যেতেন না । আবার গেলেও এক দুই দিনের বেশি থাকতেন না । তার মানে কি তার কোন ইচ্ছে নেই । অথচ কত সহজে তিনি সব কিছু নিজের মধ্যে পুষে রেখেছন ।

আপনি মোটিভেশন চান, তবে আপনার বাবার জুতার জোড়া দেখুন । তার ঘামে ভেজা শার্টটা দেখুন । তার চোখের চশমাটা দেখুন । আপনার হতাশা এক নিমিষে দূর হবে ।

আত্মহত্যা করতে চাচ্ছেন, জীবন একে বারে ভাল লাগছে না । আপনার মায়ের মুখের দিকে একবার তাকান । তিনি শত কষ্টের মাঝেও আপনার জন্য চিন্তা করছে । সারাদিন বাসায় কখন আসবেন সেটা ভাবছে । কোথায় আছেন কিভাবে আছেন সেটা নিয়ে ভাবছে । কি খেয়েছেন না খেয়েছেন সেটার চিন্তা করছে । আর আপনি ভাবছেন আপনার কিছুই নেই । মায়ের মুখটা একবার দেখুন আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হবে না ।

আমি নিজে যখন প্রচুড় দ্বিধাদ্বন্দে থাকি বা নিজেকে নিয়ে চিন্তা করি তখন আমারও ভাল লাগে না । শুধু ভাবি কি হচ্ছে আর কি হবে । এই সময়টা সত্যি কষ্টকর । তবে এটাও পার করা যায় । নিজেকে একটু একা করে নিন । ভেবে দেখুন কি হচ্ছে কেন হচ্ছে । আর কি কারনে হচ্ছে । উত্তর বের করুন । নিজেকে জানুন । সাজান নতুন ভাবে । বই পড়ুন । গান শুনুন ।

আজ বিশ্ব মা দিবস । তবে আমার কাছে প্রতিটা দিন ই মা দিবস কারন আমার মায়ের সাথে প্রতিদিন দিনটা অন্যরকম । আমার মোটিভেশন এই আমার বাবা মা । তাদের কারনেই বেচে থাকার ইচ্ছেটা প্রবল হয় । মনে হয় আর একটা দিন হয় বেশি বেচে থাকলে ভাল হয় । ভেবে দেখুন তো এই মানুষ দুটি আপনার জন্য বেচে আছে । আপনার দিকে তাকিয়ে বেচে আছে । এর চেয়ে বড় মোটিভেশন কি হতে পারে ।

আর হ্যা । প্রতিটি দিন আশার এক নতুন আলো নিয়ে উদিত হয় । তাই হতাশ না হয় লড়াই করে বাচুন ।

ভাল থাকুন । সুস্থ থাকুন । গাছ লাগান । আপনার চারপাশ পরিস্কার রাখুন ।

সবাইকে বিশ্ব মা দিবসের শুভেচ্ছা ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:১৮
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×