somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৃঙ্খলগ্রস্তের বিশৃঙ্খল ডায়েরী ......

১১ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল রাতে খুব ঝড়ো বর্ষন হয়েছে...
বৃষ্টির তীব্রতায় বিদ্যুত চমকানিতে ঘুমের ঘোরে তোমার চোখের পাতা কেঁপে কেঁপে উঠেছিলো সেই হরিণটার মতো...
আমি একটা পর একটা সিগারেট টেনে গেছি...
ভাবছিলাম, এই বৃষ্টিতে বৃদ্ধরা ভিজতে যায় না কেন ?
যৌবনের বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ বৃদ্ধদের স্পর্শ করে না, বৃদ্ধ বয়স কেবল দক্ষ দৌড়বিদের মতো অসুখের হার্ডল গুলো এড়িয়ে যাওয়া।
কিন্তু বৃষ্টি না ভেজাও তো একটা অসুখ।
বৃষ্টিতে ভেজা যদি সুখ হয়... তাহলে না ভেজাটাও অসুখ।
তুমি প্রায়ই আমাকে বলো আমি আবোল তাবোল বলি। তুমি আমাকে বলো আমার কথা নাকি শুধু পাগলরা বুঝতে পারবে।
আমি বলি কী জানো ? কয়েকদিন পর দেখবে আমার মতোই সবাই কথা বলা শুরু করেছে।
সবাই নগ্ন হয়ে গেলে বুঝি হাফপ্যান্ট পড়ে থাকাই অসামাজিকতা... তুমি বলেছিলে।
আমি তর্ক করি মানুষতো একসময় নগ্ন হয়েই ঘুরতো ফিরতো। সভ্য মানুষ আমি কখনো হতে চাইনি... আমি কেবল মানুষ হতে চেয়েছিলাম।

আমরা হেটেছিলাম... চাঁদের আলোতে নদীর পাড় ধরে ।
ভুতুড়ে চাঁদের আলোতে কি ছিলো জানি না... আমি সুখী ছিলাম !
পরিপূর্নভাবে একমুহূর্তের জন্য !
এক মুহূর্তের জন্য আমার হাতটা মাইডাস হয়ে গিয়েছিলো ।
আমি মাটি ছুয়ে দিয়েছিলাম... যেনো আমার সুখটা পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়।
একমূহূর্তের জন্য মনে হয় পৃথিবীও রাগী,তেজী, সূর্যের দিকে চেয়ে হেসেছিলো।
সেই মূহূর্তে পৃথিবীর উপর চাঁদের আলো ভর করেছিলো... সলজ্জ সুন্দর।
ঠিক তোমার মতো !

আজকে আমরা বনে যাবো। খুব গহীন বনে। সেখানে সম্ভবত আমাদের জন্য অনেক বিপদ আছে। তারপরও আমরা যাবো !
আমরা বন ছেড়ে এসেছি... তাই অরণ্য আমাদের উপর ক্ষুণ্ণ... তাই আজ মান ভাঙাতে যাবো।
পৃথিবীর সব রীতি রেওয়াজ, আইন কানুন ভুলে যাবো আজকে। মুক্ত মানব হবো আমরা।
বনের আইনও ভেঙে ফেলবো দরকার পড়লে... দরকার পড়লে ভাঙবো পদার্থবিজ্ঞানের সুত্র।
সত্যিকারের মুক্তি মানেই তো কোন ইচ্ছা, কোন আইনের অধীন নয়।
কল্পনার শক্তির চেয়ে বেশী হবে আমাদের ইচ্ছার শক্তি !

জানো, আমাদের ঘাসফুল গুলোর রঙ সবুজ হয়ে উঠছে... বাড়ির সামনে গাছে রক্ত রাঙা ফুল ফুটছে।
সেখানে একটা জ্ঞানী পেঁচা ঘাড় ঘুরিয়ে থাকিয়ে থাকতো আমার দিকে। আমি একটা লম্বা লাঠি দিয়ে ওকে তাড়িয়ে দিয়েছি।
পেঁচার সমস্ত জ্ঞান ইঁদুর খোজার পিছনে খরচ হয়... আমি সেই জ্ঞানের মহড়া দেখতে চাই।
মাঝে মাঝে নিজেকে ভয়ঙ্কর লাগে। দুনিয়ার সব কিছু নির্লজ্জের মতো দেখছি।
খামোখা না দেখে এই বিদঘুটে উম্মাদ উন্মত্ত প্যারেডে অংশ নিলেই ভাল করতাম মনে হয় !

আজকে একটা কালো রাজহাঁস এসেছিলো... গভীর রাতে। সেই অনিশ্চয়তার গান শুনিয়ে গেলো। রাজহাঁসের দুটো বাচ্চা রেখে দিয়েছি আমাদের একুরিয়ামে।

আমাদের মানিপ্লান্ট গাছ প্রতিদিন পানি পানি করে চিৎকার করে।
ওকে পানি দেবার বদলে আমি নিজেই পানি খেয়ে ফেলি।
বড্ড ভুলোমনা হয়ে গেছি আজকাল।

সমুদ্র আমায় ভীষণ টানে !
গতকাল রাতে সমুদ্রের স্বপ্ন দেখেছি... সমুদ্রের পাড়ে থাকার স্বপ্ন আমার অনেকদিনের।
সমুদ্র পাড়ে একটু জমি কিনবো।
শক্তপোক্ত একটা বাড়ী বানাবো। সমুদ্র দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে গেলে, ওকে বলবো একটা বড়ো জলোচ্ছাস দিয়ে আমাকে ভাসিয়ে দিতে। তারপর জলোচ্ছাসে আমাদের ড্রয়িংরুম ডুবে গেলে, আমি পানি উপর হেটে একদম মাঝসমুদ্রে চলে গিয়ে ওকে বোকা বানিয়ে দিবো !

তুমি জানতে আমাদের পুরনো বাড়ী সামনে বড়ো প্রাচীন বটগাছটায় অনেক চিল থাকতো। আমি কখনো পাখি হতে চাইনি।
কারন কাঁচা মাছ খেতে পছন্দ করি না !
বটগাছের গুড়িতে অনেক জাহাজ বাধা থাকতো লম্বা শেকল দিয়ে।
এই বৃদ্ধাকে আমার পছন্দ হয়।
জাহাজগুলো অনেক দূর দুরান্তে চলে গেলেও ঠিক তার লম্বা শেকলে বাধা পড়ার জন্য ফেরত আসে।
আমি যদি একটা জাহাজ হতে পারতাম...
তাহলে ভেসে ভেসে বহুদূর চলে যেতাম...
হতে পারে একসময় শূন্যেই ভেসে চলে যেতাম আশেপাশের কোন গ্রহে...
সেখানের নক্ষত্রের আলো ভালো না লাগায় আবার ফিরে আসতাম হয়তো কোন মায়াবী কনে দেখা সন্ধ্যায় প্রিয় বটগাছের শিকলে বাধা পড়ার জন্য... !

আমার বাড়ীর বাগানে সরিষা গাছ পুঁতেছি অনেক... মন চাইলে ছোট বাচ্চা হয়ে সরিষা ফুলের মাঝে দৌড়াতে পারি যেন অনেক।
তুমি জানো ঐ একমুহুর্তের সুখী থাকার জন্য এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে ?
বিগ ব্যাং হবার পর থেকে এই মহাবিশ্ব সেই ছোট্ট বাচ্চার কৌতুহলী মুখের হাসির জন্য অপেক্ষা করছিলো... !

আজকে পৃথিবীর প্রতিটা প্রাণ কিছু না কিছু অনুভব করছে। আজ রাতে আমার সমস্ত সত্তা দিয়ে তাদের সাথে মিলিত হতে ইচ্ছে হচ্ছে...

সবাই ঘুমাক পেট পুরে ঘাস খাওয়া হরিণের মতো...... ! !
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×