somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভবিষ্যতের 'ত্যাঁদড়দের' আরাম করে কাঁদার জায়গাও থাকবেনা!

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একসময় রাজা, সামন্ত ইত্যাদি নামধারী 'দুনিয়াবী' প্রভুরা রাজ্য শাসন করত। তাদের ছিল বিরাট দরবার, অন্দরমহল, রংমহল, হাতীশালা, দুর্গ, সৈন্য, অস্ত্র। মজার ব্যাপার হল তাদের পেইড কবি, স্তাবক, শিল্পী, চিত্রকর, বাদক, গায়ক, সুরকার এসবও ছিল। আর বিচার আচার রাজা নিজেই করতেন। রাজ্যের বাকী সব ছিল প্রজা। তারা ঘাড় কুর্ণিশ করে রাজাকে নম: নম: বলে মুল্যবান ইহকাল পার করে দিতেন। দু' একটা ত্যাঁদড় যে থাকত না তা না! তবে হাতের কাছে পেলেই রাজারা এসব বেত্তমিজদের 'রাস্ট্রদ্রোহে'র খায়েস মিটিয়ে দিতেন। একটাইতো মুন্ডু সবার!
কালের বিবর্তনে গণতান্ত্রিক নামীয় একটা রাস্ট্রব্যবস্থা ইউরোপের দিক থেকে এদিকে আসে।
যতদুর জানি পুরনো রাজা সিস্টেমের সাথে এটার প্রধান পার্থক্য হল- বিচার ব্যবস্থায়। ইউরোপের অন্যন্য এসব গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রিরাও সময় সময় দৌড়ের উপর থাকেন। লেটেস্ট উদাহরন- ইটালী। আরেকটি পার্থক্য- নানান মত ও পথের রাশিরাশি টিভি, বেতার, পত্রিকা, ব্লগের নির্ভীক গালাগালি। সরকার পান থেকে চুন খসালেই মিডিয়া জেঁকে ধরে। আরেকটি পার্থক্য হল- হাঁচাই স্বাধীন, সক্ষম, সাহসী নির্বাচন (ও অন্যান্য) কমিশন। ভোটদানে নিস্পৃহ ইউরোপীয়দের প্রদত্ত মতামত অতি নিঁখুত ও নিস্কলন্কভাবে ট্যাবুলেট ও পাবলিশ করা হয়।

অন্যান্য এসব গণতান্ত্রিক দেশের এমনতর সিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুফল হল- আপনি অতি দুর্বল ক্ষমতার নীরব একজন সাধারন নাগরিক হোন বা সরকারের বিরুদ্ধে সদা-সরব বিরোধী হন, সরকার আপনারে বেশী কিছু করতে পারবে না। করলে ঐসমস্ত বটগাছরূপী বিচারবিভাগ, গণমাধ্যম ক্ষেত্রবিশেষে কমিশনসমুহ আগাইয়া আসবে। ফলে আপনি অন্তত: আরামে কাঁদতে পারবেন!

পয়লা ১৯৪৭, তারপর ১৯৭২, পরে ১৯৯১ সালে সেধরনের ১টি গণতান্ত্রিক দেশ হৈবে এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করলেও তাতে গুড়ে বালি। বরঞ্চ ধীরে ধীরে তা পূবেকার সামন্তপ্রভুদের রাজ্যশাসনের দিকেই বাঁক নেয়। পেইড কবি, ছড়াকার, ব্লগার, টক-শো বক্তা, চিত্রকর, সাংবাদিক, সম্পাদক, গায়ক, বাদক, তবলচি, সৈন্য, কুলি, মুচি, ভিসি, ডোম, কসাই, বৈদ্যে এখন দেশ সয়লাব। একজন নির্বাচন কমিশনারতো রীতিমত চেয়ার ছেঁড়ে উঠে দাড়িয়ে প্রমান করেছেন যে তার মেরুদন্ড কত সোজা! এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেত্তমিজ প্রজাদের বিচারের হাঁট বসালেই ল্যাটা পুরাপুরি চুকে যায়।

অবস্থার এহেন পরিণতির জন্য অক্ষম আ'ম আমাদেরকে ভুগতে হবে, জানি। তবে এটাও জানিয়ে রাখি- ভবিষ্যতের 'ত্যাঁদড়দের' আরাম করে কাঁদার জায়গাও থাকবেনা!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×