somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কবিতারা

৩১ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার চিন্তাগুলো সবসময়ই এলোমেলো ভাবে তৈরী হয়। লেখালেখির ক্ষেত্রেও এই এলামেলোতার প্রভাব পড়ে। সুচিন্তিত ভাবে তেমন কিছুই লিখতে পারিনা। হুটাহাট লিখে ফেলি। আমার ভাবতে কষ্ট হয়, আজ পর্যন্ত আমি সুচিন্তিত ভাবে, সুপরিকল্পিত ভাবে তেমন কিছুই লিখিনি। আমার কবিতা সমুহ -অবশ্যই কোন না কোন সুনির্দিষ্টতা সামনে রেখে সম্পন্ন- কোনটিই সুচিন্তিত ভাবে রচিত নয়। অবশ্য দু’একটা যে নেই তা নয়। আছে। যেমন, একটি পংক্তির জন্য কবিতাটি। এটি রচনার পূর্বেই এর কাঠামো এবং এর সমাপ্তি পরিকল্পনা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার অধিকাংশ কবিতাগুলোই এরকম ভাবে রচিত হয়নি। ঐ সমস্ত কবিতাগুলো একরকম হুট করেই লেখা হয়েছে। কবিতার প্রথম পংক্তিটি লেখার সময় শেষ পংক্তিটি সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই থাকেনা। ফলে একটি কবিতা লেখার পরে বেশ কয়েকবার সংশোধন অনিবার্য হয়ে উঠে। এরকম সংশোধন করতে করতে কখনো কখনো এমন হয় যে, কবিতার আদিরূপের (এমনকি অর্থ সহ) বিলুপ্তি ঘটে।

আমার মাথায় স্বতস্ফুর্ত ভাবে পংক্তি তৈরী হলেও কবিতা তৈরী হয় না। তৈরী করে নিতে হয়। এই তৈরী প্রক্রিয়াও আবার কখনো সখনো বেশ সময় সাপেক্ষ। এক অর্থে আমি মূলত পংক্তি তাড়িত হয়েই কবিতা লিখি। হ্যাঁ, এটা স্বীকার করতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই, আমার কবিতা পংক্তি প্রধান। পংক্তিই এখানে ঈশ্বর। পংক্তিই এখানে বাইজী। পংক্তির পর পংক্তি সাজাতেই আমার অধিক ভালো লাগে। কবিতা লেখার চেয়েও। এইসব পংক্তি সমষ্টি সবসময়েই যে কবিতা হয়ে উঠে, তা নয়। বরঙ অধিকাংশ সময়ই কবিতার দেখা মেলে না। রাত পেরিয়ে যায়।

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, আমার কবিতা সমূহ শুধুমাত্র পংক্তিসর্বস্ব অধারাবাহিক ‘পড়ে পাওয়া’ রচনা সমষ্টি মাত্র। ঐ যে বলালম, সংশোধিত হয়। প্রতিটি কবিতা লেখার জন্য সংশোধন নামক এই অনিবার্য অশেষ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয় আমাকে। এটা অবশ্য আমার আনন্দও। এটা একধরনের খেলা- কিছুটা গণিতও বটে। এই খেলাটা খেলতে খেলতে আমার কবিতারা কিছুটা কথিত দুর্বোধ্যতার চাদর জড়িয়ে নেয়। কুয়াশার মতোন আর্দ্র জটিল এই সব কবিতারাশি কখনো কখনো আমার নিজের কাছেও মোহময় অবোধ্য মনে হয়। আমার কবিতা।

কিন্তু আমি এটা উপভোগ করি। যে জীবন যাপন করে চলছি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা-ইতো চুড়ান্ত ভাবে নিরর্থক। সেইখানে আমার কবিতার অর্থবহতার বিশেষ প্রয়োজন আছে কি?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১৯
১৭টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×