প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, ১৮ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রেলের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ী ও দোকান পাট ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সকালে রেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের ম্যাজিস্ট্রেট আরডিসি নুর কুতুবুল আলমের নেতৃত্বে রেল পুলিশ ও রাজারহাট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে রেল স্টেশনের আশপাশের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ী ও দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলেন। কিন্তু এ অভিযানে রেল অধিদপ্তর থেকে নামমাত্র কাগজ করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা টিন-ইটের ঘর প্রশাসনিক জঠিলতায় ভেঙ্গে দিতে পারেননি। ফলে এ উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। উচ্ছেদ অভিযানের সময় শত শত দর্শক এসব অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গার দৃশ্য অবলোকন করেন। এদিকে রেলের জমির উপর গড়ে তোলা হরিজন স¤প্রদায়ের কয়েকজন ও হতদরিদ্র ভূমিহীন মানুষ তাদের ঘর বাড়ী ভেঙ্গে না দেয়ার জন্য আকুতি-মিনতি জানান। হতদরিদ্র আমজাদ হোসেন(৭০) বলেন, রেলের জাগা (জমি) দখল করে ট্যাকা আলারা ( প্রভাবশালী) ইটের ঘর তুলি আছে। সেল্ল্যা না ভাঙ্গি হামার গরিব মানষের ঘরগুলা ভাঙ্গি দ্যাইল। হামরা এলা কোটাই যায়া থাকমো। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় হরিজন স¤প্রদায়ের রানা(৩২) ও তার মা কান্তি রানী(৫৫) বাড়ী-ঘর না ভেঙ্গে দিতে রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আশিষ কুমার চক্রবর্তীর নিকট কড়জোড়ে মিনতি করে কেঁদে কেঁদে বলেন, বাবু হামরা মেথর জাত। হামার কোন জমিজমা নাই বাবু, হামরা রেলের জাগাত একনা ঘরতুলি আছি। দয়া করে হামক সড়াবেন না বাবু। এলাকাবাসীদের অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘ ৩০/৩২বছর ধরে রাজারহাট উপজেলার তিস্তা- টগরাইহাট রেল লাইনে ধারের প্রায় ১৫একর রেলের জমি দখল করে একটি মহল অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি করে বসবাস ও ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে আসছে। রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আশিষ কুমার চক্রবর্তী জানান, উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাদের ২বছরের উপরের খাজনা দেয়া নাই তাদের স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। উধর্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে সব স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হবে। উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আশিষ কুমার চক্রবর্তী, পিডব্লিউআই জয়নাল আবেদীন, কানুনগো মাহবুবুর রহমান, লালমনিরহাট রেলের পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (জিআরপি ওসি) মোস্তফা ও রাজারহাট স্টেশন মাষ্টার মাঈদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। #

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


