সমাবর্তন হয়ে গেলো কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, আমার ব্যাচের পোলাপান গ্র্যাজুয়েট হবার মহা আনন্দে আমার সামনে আলখেল্লা জাতীয় পোশাকটা পড়ে ঘুরাঘুরি করলো, আমি মুখ গোমড়া করে এখনও দিন গুনছি পরীক্ষা শেষ হবার, হায়রে বিজ্ঞান অনুষদের সেশন জট!
নাহ, আর বেশি দিন আফসোস করতে হবে না, পরীক্ষা অবশেষে শেষ হতে চললো, আর মাত্র একটা বাকি। আর সেই একটা দিন আসতে বাকি আছে মাত্র 2 দিন। পরীক্ষা শেষ করে কি কি করব এইসব প্ল্যান করে করে এখনি সময় কাটানো শুরু হয়েছে-- বইমেলা গেলো মাত্র- নিজের এবং বন্ধুদের কেনা বই মিলে অনেকগুলো বই পাওয়া গিয়েছে পড়ার জন্য, শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট, খুব ভালো কিছু মুভি জমে আছে দেখার জন্য, ব্লগিং তো আছেই--আর সবকিছুর শেষে নতুন খবর পেলাম আমার স্কুলজীবনের অসম্ভব প্রিয় বন্ধু তন্বী আসছে সুদূর জাপান থেকে-- সব মিলে আসন্ন ছুটি কাটানোর আনন্দের কথা ভেবে এখনই চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে!
কিন্তু জানি না কেন আনন্দ আর আনন্দের ভাবনাগুলোর স্থায়ীত্ব বেশিক্ষণ হয় না...। ঝট করেই মনে পড়ে গেলো থার্ড ইয়ার ফাইনালের কথা। পরীক্ষার সময়ের খুব কমন একটা ব্যাপার, পরে কি হবে এটা ভেবে সময় কাটানো। সেবারও হাজার প্ল্যান করলাম। বাসায় পড়া হয়না বলে পরীক্ষার সময়টা আমি হলেই থাকি। সেবারও পরীক্ষার টানা দেড় মাস হলে ছিলাম। বাসার সবার কথা খুব মনে পড়তো, আর মনকে সান্তনা দিতাম, আর তো মাত্র কটা দিন...আগস্টের 23 তারিখ, পরীক্ষাটা খালি শেষ হোক না, একদম ফাটাইয়া ফেলব!
আমি আদৌ কিছু ফাটিয়েছিলাম কিনা মনে নেই, কিন্তু কপাল বলে কি একটা জিনিস নাকি আছে মানুষের...থাকলে ওইটা আমার ফেটেছিলো বোধ করি, ঠিক 23 আগস্ট, আমার পরীক্ষা শেষের আকাংখিত দিনটিতে...। অপেক্ষার অবসান সব সময় হয় না, সেই দিন বুঝেছিলাম আমি। তাই মায়ের সাথে জমে থাকা গল্পগুলো আর কখনও করা হলো না আমার, দেড় মাসের অপেক্ষা হয়ে গেলো অনন্তকালের।
অনার্স ফাইনালের এই শেষ পরীক্ষাটার আগে সব কিছু ছাপিয়ে প্রতিটা মুহুর্তে সেই দু:সহ স্মৃতিই কেন যে মনে পড়ছে মামণি, পড়তে পারছি না, কোন কিছুতে মন বসাতে পারছি না...এত দিন পরে বোকার মত আবারও প্রশ্ন করি, আম্মু, তুমি কেন চলে গেলে?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


