somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রলাপ (?)

২১ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সময় মরতে তাকে হতই হয়ত। ক্ষিদের জ্বালায়, নয়ত বখাটেদের অত্যাচারে আত্মহত্যায়। নয়ত নিজের পেটের ক্ষিদে নেভাতে আরেকজনের শরীরের ক্ষুধা মেটানোর পয়সায়, প্রতিনিয়ত ধুকে ধুকে।

অথবা বাঁচার ছোট্ট একটা স্বপ্ন হয়ত বাকি ছিলো তার। সেলাই মেশিনের সাথে সাথে মেশিন হয়ে যাওয়া হাত দু'টোর দিকে কখনও তাকানোর অবকাশ কি পেতো সে? যদি পায় বা নাও পায়, সেই হাতেই উঠে আসার কথা তার সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল--বেতনের সামাণ্য ক'টা টাকা। আসমা আক্তারের বেঁচে থাকার খড়কুটো।

-----------------------------------------------------

গতকাল গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত নারী শ্রমিক আসমা আক্তার পুলিশের গুলিতে মরেছে নাকি ছুটোছুটি করতে গিয়ে বাসচাপায়--এই নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশের কথার মাঝে আছে দ্বিমত। প্রশাসন আর তার চাকরের ক্ষমতায় সাধারণের মৃত্যুও বড় তুচ্ছ হয়ে যায়, সে নিজের দোষে মরেছে কিনা সেই তর্কের সামনে।

অথবা রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম এলাকার মজনু-- সে কি মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হবার পর বিচারের অধিকারটুকুও পেতে পারে না? পারে না, আমাদের মহাপরাক্রমশালী র‌্যাব বাহিনীর হাতে পিটুনি খেয়ে মরে যাবার জন্যে এদেশের মানুষের আজ আর বিচারের প্রয়োজন হয় না। বেঁচে থাকার মত সামাণ্য মৌলিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনের দিন এটা নয়!

-----------------------------------------------------


ভাস্কর চৌধুরীর কবিতা,"আমার বন্ধু নিরঞ্জন" থেকে লিখছি---

" মানুষকে এত ক্ষুদ্রার্থে নেবেন না ৷
মানুষ এত বড় যে ,
আপনি যদি 'মানুষ ' শব্দটি একবার উচ্চারণ করেন
যদি অন্তর থেকে করেন উচ্চারণ
যদি বোঝেন এবং উচ্চারণ করেন ' মানুষ' -
তো আপনি কাঁদবেন।
.
.
.
তুমি দুষ্কৃতি মারো , বান্গালী মারো ,
হিন্দু-মুসলমান মারো , গেরিলা - তামিল মারো ,
এভাবে যেখানে যাকেই মারো না কেন
ইতিহাস লিখবে যে এত মানুষ মরেছে ৷
বড়ই করুণ এবং বড়ই দু:খজনক
শক্তির স্বপক্ষে তুমি যারই মৃত্যু উল্লেখ করে
উল্লাস কর না কেন
মনে রেখো মানুষই মরেছে।"


"কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি"....সুকান্ত সেই কবে কবিতাকে ছুটি দিয়ে হারিয়ে গেলেন। তারপর পদ্মার পানি বইতে বইতে শুকিয়ে চর হলো, তবু কবিতার ছুটি ফুরলো না। তাই বুঝি অত বছর আগের শেখা "মানুষ" শব্দটি বুকে আর কাঁপন ধরায় না। এত তুচ্ছ শব্দ উচচারণ করে আজ আর আমরা কাঁদি না!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৯
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৪৬ঃ দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং

লিখেছেন কিরকুট, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

১৯৪৬ সালের আগস্ট। ব্রিটিশ ভারত তখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্নের ভেতরেই জমতে শুরু করেছে বিভাজনের কালো মেঘ। ধর্ম, রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছিল। সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×