somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকায় বৃষ্টিমুখর একদিন

০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঢাকায় এসেছি বেশ ক'মাস হলো। পরিবারের সাথে সময় কাটছে, অনেকটাই পারিবারিক জীবনে থিতু হয়ে এসেছি। ছেলে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে, মেয়ে মা-বাবার কোলে, বিছানায় ঘুমিয়ে দিব্যি দিনাতিপাত করছে। গত বছরে কন্যা'র রাজকীয় আগমনেই, নিউ ইয়র্ক ছেড়ে আসা। কম-বেশী নিউ ইয়র্ক যে মিস করছি না তাও নয়। তবে আমার রাজকন্যার আগমনে ওসব অনেকটাই এখন মলিন। মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় কন্যার এই সান্নিধ্য বেশ উপভোগ করছি।

কন্যা কোন কিছুই বলতে পারে না তবে তার উচ্চারিত আবোল-তাবোল শব্দের মানে গবেষণা করতে করতে আমার দিন পেরিয়ে রাত চলে আসছে। দু'একটা শব্দের মর্মাথ বের করতে পারলে আমি গিন্নীকে বা গিন্নী আমাকে শিখিয়ে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে কন্যার সুবাদে নতুন শব্দ ও ভাষা সেখাও হয়ে যাবে। সে এক বিরাট অধ্যায়, এক উপন্যাসসম বই লিখেও শেষ করা যাবে না।

ক'দিন ধরেই ঢাকার আকাশ বেশ মেঘলা, শুনেছি বৃষ্টিবলয়ের আগমন ঘটেছে বাংলাদেশে। বিষয়টি আমার জন্য খুশির হলেও বেশীরভাগ খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক তথা অনেকের জন্যেই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন আমি ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি দেখিনি। খুব সম্ববত ঢাকায় আবহাওয়াও অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। সেই টানা ৩/৪/৫ দিনের বৃষ্টি আর এখন দেখা যায় না। ঢাকায় যখনই বৃষ্টি হয়, বাসায় থাকলে আমি জানালার পাশে কিংবা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। কখনো কখনো জানালার বাইরে হাত দিয়ে বৃষ্টি উপভোগ করার চেষ্টা করি। বাইরে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভেজার সুযোগ বা ইচ্ছে কোনটাই এখন আর হয় না। পাছে, ঠান্ড-জ্বরে আবার বিছানা বন্দী হয়ে যাই সেই ভয়ে।

আমাদের বাড়ির আগে বা পেছনে এখনো কোন বাড়ি হয়নি তাই আমাদের এপার্টমেন্টের উত্তর-দিক্ষণ দিকটা বেশ খোলা-মেলা। বৃষ্টির শব্দ, ফুরফুরে বাতাস, সবুজের ঘ্রাণ অনেকটাই উপভোগ করতে পারি। অবশ্য খুব বেশী জোরে বৃষ্টি হলে দরজা-জানাল সব বন্ধ করে দিতে হয়। জানালার গায়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা দেখার মাঝেও বেশ আনন্দ পাই। আমি কাঁচ ছুঁয়ে দেখি কিন্তু পানি আমাকে ছুঁতে পারে না। রাস্তায় ভিজতে ভিজতে রিকশাওয়ালাদের পরিশ্রম চোখে পড়ে। ক'দিন আগে বৃষ্টির সময় রিকশায় চড়তে গিয়ে খানিকটা অসুস্থ মানুষকেও রিকশা চালাতে দেখেছি। আরেকজনতো বৃষ্টি দেখে, রিকশা চালানো বন্ধ করে আমাকে রিকশায় বসিয়ে রেখে রিকশাওয়ালা অন্য একটা বাসায় গেইটের নিচে গিয়ে দাঁড়ালো। আমি কিছু বলিনি কারন ওকে দেখেই খানিকটা অসুস্থ মনে হয়েছে। পাঁচ/দশ মিনিট দেরী হলে আমার কোন সমস্যা নেই তবে রিকশাওয়ালা অসুস্থ হয়ে গেলে তার কিছু সমস্যা অবশ্যই আছে।

গিন্নী আজ গরুর মাংস রান্না করেছে। ভাবছিলাম সাথে ভূনা খিচুড়ী করতে বলবো তার আগেই দেখলাম চুলোতে সে ভাত বসিয়ে দিয়েছে। ঘরের অনেক সিদ্ধান্তই এখন উনার ইচ্ছেতেই হয়। তবে আমাকে যে একেবারেই জিজ্ঞেস করেনা তাও নয়। খিচুড়ী আমার বেশ পছন্দের, সাথে নানা পদের ভর্তা হলেতো কথাই নেই। কালো জিরা ভর্তা, বেগুন, আলু, ধনেপাতা, কাঁচা কলা, বরবটি ভর্তা আর হ্যাঁ ডিম ভাজিও থাকতে হবে। বোনাস হিসেবে খাওয়ার পর কোন কোল্ড ড্রিংঙ্কস হলে ষোলোকলা পূর্ণ হয়। সাদা ভাত আমার পছন্দের খাবার নয় তবে রুটি চলে ৩৬৫ দিনই। তাতে আমার মোটেও সমস্যা হয় না।

ছুটির দিনে ছেলেটার মন খারাপ। দু'দিন বাসায় বসে থেকে থেকে সে বোর হয়ে গেছে। বেরুতেও পারছে না, কোথাও খেলতেও যেতে পারছে না। বিকেল থেকে অনুরোধ আসছে আমি যেন ছেলেকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে আসি। যদিও আমি বাসা থেকে খুব একটা বের হই না। রাত জেগে টুকটাক কাজ করা আর দিনের বেলায় মূলত ঘুমানোই আমার প্রাতিহ্যিক কর্মকান্ড। সন্ধ্যে বেলাম মাগরিব নামাজ পড়ে আমি প্রায়ই চা খেতে বের হই। রেস্টুরেন্টটা বাসা থেকে খানিকটা দূরে। ত্রিশ টাকা চা খেতে গিয়ে ১০০/১২০ টাকা ভাড়া গুণছি আজ প্রায় দু'বছরের বেশী সময় ধরে। যে টাকা রিকশা ভাড়ায় খরচ হয়েছে তাতে একটা ছোটখাটো বাইক কেনা সম্ভব ছিলো হয়তো। কোন একদিন ধুপ করে কিনেও ফেলতে পারি, বলা মুশকিল।

আসরের নামাজের পর থেকেই ছেলে অল ড্রেসড-আপ হয়ে বসে আছে। মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করিনি, আকাশ মেঘলা, আবার কখন বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। বাপ-ব্যাটা রিকশায় চড়ে বসলাম, যাচ্ছি সেই রেস্টুরেন্টে, কিছু টুকটাক কেনা কাটাও আছে। ছেলে আমার সাথে বসে চা খাচ্ছে, সাথে গরম গরম বাটার নান। বেশ তৃপ্তি নিয়ে খেলো। আসার পথে মেয়ের জন্য ডায়পার কেনার ফরমায়েশ ছিলো। বার বার এগুলো কেনা একটা বিরক্তির একটা ব্যাপার বলে মনে হয়। ৫০ পিসের একটা ব্যাগ আমাকে মাসে ২/৩ বার কিনতে হয়। চেক আউট করতে যাবো ওমনি ছেলের আবদার এলো চিপসের, দাম ৪০০টাকা। সে এই চিপস আগেও খেয়েছে তবে আজ আর তার আবদার রাখতে ইচ্ছে হলো না, দেখিয়ে দিতেই সে চুইংগাম নিয়ে নিলো। আমাল থেকে গিন্নী শেমাই নিয়ে আসতে বলেছিলো, সেটা চেক আউট করার আগেই আবার ছেলের আবদার ডোনাট খাবে। ডোনাট স্বাস্থের জন্য ভালো নয় বলেও কিনে দিতে হলো। কথা আর না বাড়িয়ে বাড়ির পথে রওনা হলাম। আকাশ গুড় গুড় করছে, মাঝে মধ্যে ফোঁটা, ফোঁটা বৃষ্টিও গায়ে পড়ছে। রিকশা চলেছে, সাথে সুন্দর ঠান্ডা বাতাস গা জড়িয়ে যাচ্ছে, আমরা বাড়ি ফিরছি পেছনে ফেলে একটা দিনের বহু স্মৃতি।

ছবি: এ.আই.
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৪
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×