somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের গভীর মোহভঙ্গ হয়েছে।

২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের গভীর মোহভঙ্গ হয়েছে।
----------------------------------
আমাদের গভীর মোহভঙ্গ হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম ড. ইউনূস একজন শিক্ষিত, সভ্য ও মানবতাবাদী মানুষ। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, অন্তত তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শ্রদ্ধা করবেন, বিভ্রান্ত জাতিকে একটি সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনবেন। আমরা আশা করেছিলাম, তাঁর নেতৃত্বে দেশে স্থিতি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বোধ ফিরে আসবে। কিন্তু আজ বাস্তবতা নির্মম আমাদের সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে।

ক্ষমতায় এসেই ড. ইউনূস দেশের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে আরও গভীর অরাজকতায় ঠেলে দিয়েছেন। তিনি যেন অন্ধকারের এক নতুন দূত। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত-শিবিরের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা আজ আর গোপন নয়। এক সময় যিনি “দরিদ্রের বন্ধু” নামে পরিচিত ছিলেন, আজ তিনি রাজাকারদের সর্দার হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। তাঁর পাশে এখন সেইসব মুখ, যারা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষ নিয়েছিল।

আজ তিনি জামাত-শিবিরের হাত ধরে বিরোধী মতকে দমন করছেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন, মুক্তচিন্তাকে শত্রু বানাচ্ছেন। দেশের নারী সমাজ আজ ভয়ে দিন কাটাচ্ছে স্বাধীনভাবে ঘর থেকে বের হওয়ার স্বাধীনতাও হারিয়ে ফেলেছে।

অর্থনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী, কর্মসংস্থান স্থবির, বিনিয়োগকারীরা পালিয়ে যাচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হু হু করে কমছে। সাধারণ মানুষ আজ অনাহারে, অথচ ড. ইউনূস মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে চলেছেন দেশ নাকি উন্নতির পথে! এই অত্যাচার, মিথ্যাচার ও স্বার্থপরতা জাতির সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে।

আমরা প্রশ্ন করি এই কি সেই নোবেল বিজয়ী, যিনি একসময় দরিদ্র মানুষের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? এই কি সেই ব্যক্তি, যিনি আজ জামাত-শিবিরের দোসর হয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন?
বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান। অথচ আজ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে, সংবাদকর্মীরা সেন্সরশিপের ভয়ে কলম ধরতে পারছে না, ভিন্নমতই যেন অপরাধে পরিণত হয়েছে।

আজ সময় এসেছে এই অন্যায়, এই মিথ্যাচার, এই প্রতারণার বিরুদ্ধে জাতিকে একজোট হওয়ার। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে কখনোই পরাজিত হয়নি, হবেও না।

আমরা চাই মুক্তি মিথ্যা, দুর্নীতি ও দেশদ্রোহীদের হাত থেকে।
বাংলাদেশ বাঁচবে, বাঁচবে সত্য, বাঁচবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৯:২৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×