somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঢাকার পথে পথে

১১ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ঢাকা শহরের পথে পথে আমি ঘুরে বেড়াই।
অনেকেই এই শহরে ঘুরে বেড়ায়। তবে তাদের দেখার চোখ নেই। তারা আমার মত করে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখে না। তারা ভীষন ব্যস্ত। এই শহরের সমস্যা গুলো কি কি তা আমার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। মেয়র সাহেবেরাও জানেন না। এই শহরের পথে পথে সারা দিন ঘুরে ঘুরে আমি অনেক কিছু দেখি। অদ্ভুত সব ব্যাপার আমার চোখে পড়ে। আমি অবাক হই, মুগ্ধ হই! আজ এই পোষ্টে ঢাকা শহরের অদ্ভুত কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। ঘটনা গুলো আমার নিজের চোখে দেখা। হয়ত তুচ্ছ সব ঘটনা। তুচ্ছ ঘটনাও আমাকে ভাবায়। কখনও কখনও আনন্দ দেয়। আসুন আজ কিছু অদ্ভুত ঘটনা জানি। আপনারা এই চাইলে এই পোষ্ট আমি ধারাবাহিকভাবে লিখতে রাজি আছি।

১। এক রাস্তার পাশের দোকানে চা খাচ্ছি।
সেই দোকানে সিংগারা পাওয়া যায়। এক লোক চায়ের ডুবিয়ে সিংগারা খাচ্ছে। বিস্কুট যেভাবে চায়ে ডুবিয়ে খায় ঠিক সেইভাবে সিংগারা চায়ে ডুবিয়ে খাচ্ছে। আমি আগে কখনও কাউকে চা দিয়ে সিংগারা খেতে দেখিনি। চা দিয়ে পুরি খেতে দেখেছি। কিন্তু সিংগারা খেতে কখনও দেখি নি।

২। একদিন সন্ধ্যায়।
এক তরুনী মেয়েকে দেখলাম। প্রেমিকের সাথে ঝগড়া করে নিজের হাত আর মাথা দেয়ালের সাথে বারি মারছে। হয়তো মাথা ফুলে গেছে, হাতে অবশ্যই ব্যথা পাচ্ছে। মেয়েটা খুব কাঁদছে। প্রেমিক হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে। আমি মেয়েটিকে বললাম, বোন প্লীজ এরকম করবেন না। কেন শুধু শুধু নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন। এটা ঠিক না। মেয়েটি আমার উপর খুব রেগে গেল।

৩। হাতিরঝিলের ঘটনা।
চক্রকার বাস সার্ভিস। এই বাস গন্তব্য ছাড়া মাঝপথে থামে না। এক মেয়ে বোরকা পড়া। সে বাস থেকে নামবে। নামবেই। কন্টাকটর বলছে, স্টপেজ ছাড়া আমাদের বাস থামাই না। ওই বোরকা পরা মেয়ে কন্টাকট কে খুব গালিটালি দিলো। তারপর চলন্ত বাস থেকে হঠাত ধূম করে লাফ দিলো। বাস থেকে লাফ দেওয়ার কিছু ছিলো না। বাস আর একটু সামনেই থামতো। অবশ্যই মেয়েটা বিরাট ব্য্যথা পেয়েছে।

৪। কাকরাইল মসজিদের সামনে।
রিকশাওয়ালার সাথে বিরাট গ্যাঞ্জাম বেধে গেল যাত্রীর। মারামারি হবে এমন অবস্থা। সমস্যা হলো- রিকশাওয়ালা দশ টাকা বেশি চেয়েছে। এই অপরাধে যাত্রী রিকশাওয়ালাকে কোনো টাকাই দিবে না। তুমুল বাকবিতন্ডা চলছে। বেশ ভিড় জমে গেছে। হঠাত এক ভদ্রলোক এসে রিকশাওয়ালাকে এক শ' টাকা দিয়ে বলল, এইবার থাবো। ঝামেলা শেষ। বলেই ভদ্রলোক চলে গেলেন। যেন কিছুই হয়নি।

৫। আমি চায়ের দোকানে বসে আছি।
সময় তখন সন্ধ্যা। এমন সময় ১২/১৩ বছর বয়সী এক মেয়ে এসে আমাকে বলল, আব্বা চা খাওয়াও। প্লীজ। আমি বললাম, আমাকে আব্বা বলছো কেন? মেয়েটা বেশ সেজে এসেছে। চোখে কাজল, ঠোটে লিপস্টিক। মেয়েটা আবারও বলল, আব্বা চা দিতে বলো। ও আব্বা। মেয়েটা মনে হয় প্রতিবন্ধী। আমি চা খাওয়ালাম। বিস্কুট খেতে বললাম। খেলো না। চা শেষ করে চলে গেল।

৬। কাওরানবাজারের সামনে ঘটনা।।
বেশ সেজেসুজে এক অফিসে যাচ্ছি। এমন সময় এক হিজড়ার পাল্লায় পড়লাম। বেশ সুন্দরী সে। খুব সুন্দর করে সেজেছে। কোনো কথা নেই, বার্তা নেই সে আমাকে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরলো। আর বলল, আহ তোমার মতো যদি একজন লাভার পেতাম! হিজড়া আমাকে এত জোরে জড়িয়ে ধরেছে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। আমি অনেক চেষ্টা করেও ছুটতে পারছিলাম না। যাই হোক, হিজড়া আমার কাছ থেকে টাকা পয়সা নিলো না। বরং আমাকে একটা চুমু খেল। আর বলল, তোমার কোনো কাজ করতে হবে না। তুমি আমার সাথে থাকো। যা চাও দিবো।

৭। কোনো এক ঈদের দিনের ঘটনা।
সন্ধ্যার দিকে বেইলী রোডে দাড়িয়ে আছি। দূর্দান্ত সুন্দর এক মেয়ে কাঁদছে। খুব কাঁদছে। মেয়েটা দারুন করে সেজেছে। অফ হোয়াইট শাড়ি পরা। একে তো ঈদের দিন, এত সুন্দর মেয়েকে কাদতে দেখে আমার ইচ্ছা করলো মেয়েটাকে বলি- প্লীজ তুমি কেদো না। কি হয়েছে আমাকে বলো। আসো যদি কাদতেই হয়, আমার কাধে মাথা রেখে কাদো। যাই হোক, মেয়েটাকে বললাম- বোন কাদবেন না প্লীজ। ঈদের দিনে কাঁদতে হয় না। মেয়েটা বলল, আইছে পীরিত দেখাতে। যান ফুটেন।

৮। গোড়ান বাসাবো এলাকার ঘটনা।
আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখন দেখলাম এক ছেলে দৌড়াচ্ছে। জান জীবন হাতে নিয়ে যেন দৌড়াচ্ছে। ব্যস্ত রাস্তা। আশে পাশে দুনিয়ার মানুষজন। একটু পরে দেখলাম। ছেলেটার পেছনে এক মেয়েও দৌড়াচ্ছে। মেয়ের হাতে একটা বটি। ভয়াবহ অবস্থা। কি অন্যায় করেছে ছেলেটা কে জানে!

৯। নরসিংদি গিয়েছিলাম।
ঢাকা ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল। বাস আমাকে নামিয়ে দিলো গুলিস্থান। গুলিস্থান পার্কের সামনে দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। তখন অন্ধকার থেকে দুই তিনজন মেয়ে বের হয়ে এলো। এদের মধ্যে একটা মেয়ে বেশ সুন্দর। সুন্দর মেয়েটা আমার সামনে এসে বলল, আজ রাতের জন্য আমাকে নিয়ে যাও। অনেক আদর দিবো তোমাকে। আর যদি জায়গা না থাকে তাহলে আমার ঘর আছে পার্কের ভিতরে সেখানেও যেতে পারো। এক শ' টাকা দিলেই হবে। আমি মেয়েটাকে দুই শ' টাকা দিলাম। আর বললাম, বোন বাসায় যান।

১০। গুলশান- ১।
একদিন কি একটা কাজে গুলশান গিয়েছি। গ্লোরিয়া জিন্স এর ফুটপাতের সা্মনে এক পাগল নারী বসে আছেন। কি যেন খাচ্ছে। মুখ ভরতি খাবার। ভালোও করে তাকিয়ে দেখি তিনি কাঁচা ফার্মের মুরগী খাচ্ছেন। খুব বিকট ভাবে চিবিয়ে কাঁচা ফার্মের মূরগী খাচ্ছে। দেখে আমার বমি পেয়ে গেল। এই আধুনিক যুগে এসেও এরকম দেখতে হলো!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২৮
১১টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিভ্রম

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪৪



ধর্মেশ্বর একজন চিকিৎসক। যথেষ্ট পরিমাণ পড়ালেখা করেছেন, দেশে ও প্রবাসে পড়ালেখা সহ ট্রেইনিং নিয়েছেন। তারপরও তিনি শহর ছেড়ে - জেলা শহর ছেড়ে অন্ধগ্রাম থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে আছেন। সম্ভব... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

×