somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জ্বীনের ক্ষমতা- ২

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খিলগাঁও, বাগিচা এলাকায় আমরা আড্ডা দিতাম।
বাগিচা মসজিদের ঠিক উলটো পাশেই চুন্নুর চায়ের দোকান। এই চায়ের দোকানে একসময় রোজ আড্ডা দিতাম, আমরা চার পাচজন বন্ধু মিলে। বিকাল থেকে রাত আট টা পর্যন্ত আমাদের আড্ডা চলতো। কয়েক ঘন্টায় ৩/৪ শ' টাকা আমাদের চা সিগারেটের বিল হতো। চায়ের দোকানের পাশেই রেললাইন। রেললাইনের পাশেই বস্তি। খুব ঘনবসতি এলাকা। অবশ্য পুরো ঢাকা শহরই লোকজনে ভরা। কোথাও নিরিবিলি পরিবেশ নেই। বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে চা সিগারেট খেতাম আর জমিয়ে আড্ডা দিতাম। আমাদের আড্ডার বিষয় ছিলো- রাজনীতি, সাহিত্য, মেয়েমানুষ, ইতিহাস এবং চলমান দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম গুলো। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আমাদের আড্ডা চলতো।

দীর্ঘদিন ঐ এলাকায় আড্ডা দেওয়ার ফলে-
আশে পাশের সমস্ত লোকজনের সাথে আমাদের একটা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা কয়েক বন্ধু মিলে রেললাইনের পাশে বস্তি এলাকায় লোকজনদের শীতের জামা, কম্বল ইত্যাদি দিতাম। ঈদের সময় ছোট বাচ্চাদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতাম, অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসার জন্য টাকাও দিতাম, এমন কি একজনকে একটা ভ্যানগাড়িও কিনে দিয়েছিলাম। এছাড়া রেললাইনে হাত, বা পা কাটাপরা অনেকেই আমাদের কাছে সাহয্যের জন্য আসতো। আমরা আমাদের সাধ্য মতো যাকে যা পাড়তাম, দিতাম। যাই হোক, এই রেললাইনে নিজের চোখে দেখা একটা ঘটনা আজ আপনাদের বলব। খুব মর্মান্তিক ঘটনা। দুঃখজনক ঘটনা। অশিক্ষা, ধর্মীয় গোড়ামি আর কুসংস্কার একটি জাতির জন্য অভিশাপ।

একদিন আমি একা রেললাইনে বসে আছি।
সময় আনুমানিক সকাল এগারোটা হবে। রেললাইনের পাশে বস্তিতে থাকা এক মহিলাকে জ্বীনে ধরেছে। মহিলার বয়স হবে ২০/২২ বছর। মহিলার দুই সন্তান আছে। স্বামী একজন রিকশাচালক। মহিলা বিকটভাবে চিৎকার দিচ্ছে, লাফাচ্ছে, অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছে, কাউকে কাউকে রেললাইন থেকে পাথর উঠিয়ে মারতে যাচ্ছে। ভয়াবহ অবস্থা। শেষমেষ চার পাঁচজন পুরুষলোক মহিলাকে ঝাপটে ধরে রেখেছে। মহিলা আর নড়াচড়া করতে পারছে না। তবে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়েই যাচ্ছে। এই বস্তির পাশেই একটা মাজারের মতো করেছে। লাল কাপড় বিছানো হয়েছে। সেখানে মানুষ দান খয়রাত করে। উক্ত মাজারের লোকজন মাঝে মাঝে ওরস টরস করে। মাহফিল করে। জিকির হয়,গান বাজনাও হয়। সেখান থেকে একজন পীর বাবাকে ডেকে আনা হয়েছে। জ্বীন তাড়াবার জন্য। জ্বীন তাড়াবার জন্য উনি অতি ওস্তাদ লোক। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।

পীর বাবা এসেই হুকুম দিলেন-
মহিলাকে বেঁধে ফেলো। মহিলার হাত এবং পা খুব শক্ত করে বাধা হলো। মহিলার শাড়ি এলোমেলো হয়ে আছে। চারিদিকে উৎসাহী জনতার বেশ ভিড়। এই ভিড়ের মধ্যে আমিও আছি। আছে, মহিলার স্বামী ও দুই সন্তান। পীর বাবা বললেন, এই মহিলার উপরে খুব খারাপ জ্বীন আসর করছে। পীর বাবা মহিলার গলা টিপে ধরলেন। বেশ কয়েকটা থাপ্পড় মারলেন। ফু-টু দিলেন। বললেন, যা তুই যা। এই মহিলার কাছ থেকে দূরে চলে যা জ্বীন। তা না হলে আজ তোকে শিক্ষা দিয়ে দিবো। জ্বীনে ধরা মহিলার মুখ দিয়ে তখন ফেনা বের হচ্ছে। যাই হোক, পীর বাবার হুকুমে একটা শুকনা মরিচ পুড়িয়ে আনা হলো। পীর বাবা জ্বীনে ধরা মহিলার নাকের ফুটো দিয়ে গরম শুকনা মরিচ ঢুকিয়ে দিলেন। জ্বীনে ধরা মহিলা কাটা মূরগীর মতো লাফাচ্ছে। যদিও ঠিকভাবে লাফাতে পারছে না। তার হাত পা বাধা। পীর বাবা, অদৃশ্য জ্বীনের উদ্দ্যেশে বললেন, এখন যা। না গেলে তোর জন্য আরো বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে।

পীর বাবার শাস্তি এখানেই শেষ না।
এরপর পীর বাবা জ্বীনে ধরা মহিলার হাতের আঙ্গুল সর্বশক্তি দিয়ে উল্টো দিকে টেনে ধরলেন। সম্ভবত মহিলার হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে। মহিলাটি আল্লাহ গো বলে বিকট চিৎকার দিলেন। পীর বাবা বলে চলেছেন, যাবি কিনা বল? যাবি? শরীর থেকে বের হবি? পীর বাবা মহিলার বুকের উপর দাড়ালো। মহিলা বিকট চিৎকারে আমার বুকে হাহাকার করে উঠলো। আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম- থামেন। অনেক হইছে। আশে পাশের বেশ কয়েকজন মানুষ আমার উপর রেগে উঠলো। তারা মজাদার একটা খেলা দেখছিলেন। সেই খেলা তারা দেখতে চান। একজন মহিলা ব্যথায় ছটফট করছে। আর একদল মানুষ তা দেখে আনন্দ পাচ্ছে! মানুষ এত নিষ্ঠুর! আমি পীর বাবাকে বললাম, থামেন। অনেক হইছে। এই মহিলাকে আমি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। তখন আশে পাশে থেকে আওয়াজ উঠলো। পীর বাবাকে তার কাজ করতে দেন। এটা ডাক্তারের কাজ না। এর আগেও পীর বাবা অনেক জ্বীনে ধরা রোগীর চিকিৎসা এইভাবে করেছেন। এবং তারা সেরে উঠেছেন।

(নোটঃ আমাদের দেশটা দরিদ্র। বেশির ভাগ লোকজন মূর্খ। এই অমানবিক আর মূর্খ লোকজনদের বেশির ভাগই আবার পিশাচ শ্রেনীর। মন মানসিকতা অতি নিম্মমানের। একজন মানুষের উপর অমানবিক অত্যাচার হচ্ছে। তা তারা দেখে আনন্দ পায়। বিনোদন পায়। অত্যাচারিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। একজন সুস্থ মানূষেরও যদি হাতের আঙ্গুল পুরো শক্তি দিয়ে উলটো দিকে টানা হয়- সেই মানুষ ব্যথায় ছটফট করবে, বিকট চিৎকার দিবে। এবং তখন তাকে যা বলতে বলা হবে সে তাই বলবে। নাকের মধ্যে গরম শুকনা মরিচ ভরে দিলে কেমন লাগে তা কি কেউ ট্রাই করতে চান? হায় জ্বীন!)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কাজে যোগদান ভুল হচ্ছে, ইউরোপ আমেরিকায় শীপমেন্ট বন্ধ থাকার কথা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:১৭



গত ৪০ বছরে, গার্মেন্টস'এর মালিকরা ও অন্যান্য মধ্যভোগীরা যেই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছে, তাতে তাদের কর্মচারীদের বিনা কাজে ২/১ বছর মিনিমাম বেতন দেয়ার ক্ষমতা তারা রাখে। গার্মেন্টস'এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কেলা?

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৮




মানুষ মারার সব আছে, আহত অথবা অসুস্থ মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করার কিচ্ছু নেই। কেন জানেন? আঁতেলরা বলেন, মানুষ মানুষকে মারতে পারে, মানুষ মানুষকে বাঁচাতে পারে ন। জন্ম মৃত্যু মুসলমানদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

— করোনার সাথে পথে চলতে চলতে———

লিখেছেন ওমেরা, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



সারা পৃথিবী লক-ডাউন হয়ে আছে কভিড- ১৯ করোনা আতংকে। মানুষের প্রতিটা মূহুর্ত কাটছে ভয় আর উৎকন্ঠায়। এই মূহুর্তে সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র ব্যাতিক্রম দেশ,সেই দেশের বাসিন্দা আমি, নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

থটস

লিখেছেন জেন রসি, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৬





১৮৪৬ সালে মার্কস এবং এঙ্গেলস মিলে “The German Ideology” নামে একটা বইয়ের পান্ডুলিপি লিখেছিলেন। কিন্তু বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। এই বইতে তারা শুধু ভাববাদকেই না ফয়েরবাখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কমপক্ষে গার্মেন্টস'এর ছুটিটা নিজ হাতে কন্ট্রোল করতে পারতো

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৫২



শেখ সাহেব জানতেন যে, উনার মেয়ে বুদ্ধিমতি নন, সেজন্য মেয়েকে রাজনীতিতে আসতে দেননি; কিন্তু রাইফেল জিয়া শেখ হাসিনার জন্য পথ রচনা করে গেছে। কমবুদ্ধিমানরা অনেক সময় খুবই নিবেদিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×