somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

'পার্থিব' উপন্যাস রিভিউ

১৯ শে মে, ২০২০ রাত ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



'পার্থিব' উপন্যাসের লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।
উপন্যাসটি আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশি হয় ১৯৯৪ সালে। এর আগে ধারাবাহিক ভাবে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে লেখক মানুষের নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়ার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন অত্যন্ত চমতকার ভাবে। 'পার্থিব' মানে- পৃথিবী-সংক্রান্ত, জাগতিক, ইহকাল বুঝায়। 'পার্থিব' বিশাল এক উপন্যাস। ৭১৩ পৃষ্ঠা। এত বড় উপন্যাস কিন্তু পড়তে একটুও বিরক্ত লাগে না। আমি উপন্যাসটি এবার নিয়ে তিনবার পড়লাম। যত পড়ি তত ভালো লাগে। লেখক সহজ সরল ভাবে কি সুন্দর করেই না লিখে গেছেন! আমাদের দেশে কি বর্তমানে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাথে তুলনা করা যায় এমন কোনো লেখক আছেন?

পুরো উপন্যাসে অনেক গুলো চরিত্র।
অথচ কোথাও একটুও জট পাকায় নি। এই বিশাল উপন্যাসে কে যে কেন্দ্রিয় চরিত্র সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান। প্রতিটা চরিত্রই আমাকে মুগ্ধ করেছে। যখন যার অংশ পড়েছি তাকেই প্রধান চরিত্র বলে মনে হয়েছে। উপন্যাসটি পড়তে শুরু করলেই বুঝা যায় লেখক খুব দরদ দিয়ে, পরম মমতায় চরিত্র গুলো তৈরি করেছেন। প্রতিটা চরিত্রের প্রতি লেখক সমান ভালোবাসা দেখিয়েছেন। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে এমন হয়েছে- আমি যেন চরিত্র গুলোর সাথে মিশে গিয়েছি। তাদের আনন্দে আনন্দ পাই। তাদের কষ্টে পাই। লেখকের লেখার গুনের জন্য মনে হয় উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্র যেন আমি নিজ চোখে দেখছি।

উপন্যাসটি শুরু হয় বিষ্ণুপদকে দিয়ে।
তিনি তার গ্রামের ভাঙ্গা ঘরের উঠানে বসে ভাবেন। ভাবতে থাকেন। তার ভাবতে বড় ভালো লাগে। বিষ্ণুপদ'র অনেক গুলো ছেলেমেয়ে। কিন্তু কোনো ছেলে মেয়ে'ই তেমন লেখাপড়া হয় হয়নি। তবে তার বড় ছেলে কৃষ্ণবিশ্বাস একজন পরিবেশ বিজ্ঞানী। তিনি তার বউ আর ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন কোলকাতায়। তিনি জীবনে সাফল্য পায় শতভাগ। পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরে বেড়ায় কৃষ্ণবিশ্বাস। বিখ্যাত সব ইউনিভার্সিটিতে লেকচার দেন। কৃষ্ণবিশ্বাস একটা বই লিখেন 'ডার্লিং আর্থ’ প্রকাশিত হয় আমেরিকা থেকে। কৃষ্ণবিশ্বাসের এক বোনের নাম বীনাপানি। সে যাত্রাদলের সাথে জড়িত। বীনাপানির স্বামী নিমাই। নিমাই খুব ধার্মিক এবং সৎ লোক।

উপন্যাসে একটা চরিত্র আছে 'চয়ন' নাম।
বড় দুঃখী ছেলে। তার মৃগী রোগ আছে। ইংরেজি আর অংকে সে বেশ পটু। টিউশনি করে বেশ কয়েকটা। কৃষ্ণজীবনের মেয়ে সোহানীকে পড়ায়। টিউশনি করেই সে অনেক টাকা জমিয়ে ফেলে। এই টাকা দিয়ে সে পৃথিবীর ভালোর জন্য কিছু করতে চায়। চয়নের দাদা আর বৌদি আছে। তারা অনেক দুষ্টলোক। তারা চয়নকে অনেক অপমান করে। এমন কি খুব মারে। চয়নকে হাসপাতালে ভরতি হতে হয়। অনিন্দা নামের একটা মেয়ে চয়নকে খুব পছন্দ করে ফেলে। চয়নকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে নাটক সিনেমা দেখায়। চয়ন নাটক সিনেমা দেখে কোনো আনন্দ পায় না। চয়ন শুধু চায় কোনো রকমে বেঁচে থাকতে। বেঁচে থাকাটাই তার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।

হেমাঙ্গ নামে দারুন একটা চরিত্র আছে।
হেমাঙ্গ বড় অদ্ভুত মানুষ। সে শুধু ইলেকট্রিক জিনিসপত্র কিনে। নদীর ধারে সে ছোট্র একটা বাড়ি কিনে। অফিস বাদ দিয়ে সে নদীর পাড়ের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকে। এদিকে হেমাঙ্গের বাবা মা চিন্তায় অস্থির। ঘটনা চক্রে হেমাঙ্গের রশ্মি নামে একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। রশ্মির সাথে বিয়ে হতে হতে হয় না। রশ্মি শিক্ষিতা আধুনিক মেয়ে। বিদেশ থেকে লেখাপড়া করেছে। হেমাঙ্গের এক বোন চারুশীলা সে মনে প্রানে চেয়েছিলো রশ্মির সাথে হেমাঙ্গের বিয়ে হোক। চারুশীলা অদ্ভুত এক নারী। তার স্বামী বিরাট ধনী। চারুশীলা কোনো উছিলা পেলেই বাসায় পার্টি দেয়। যাই হোক, অনেক নাটকীয়তার পর ঝুমকি নামে একটা মেয়ের সাথে হেমাঙ্গের বিয়ে হয়।

উপন্যাসে আরো অনেক চরিত্র আছে।
মনীশ। মনীশের স্ত্রী। তাদের ছেলে মেয়ে। কাকা, আপা, কুসুম, বাসন্তী, বাকা মিয়া, সজল, পটল, গোপাল। আরো অনেকে। বহু ঘটনা। বহু চরিত্র। এবং সবার সাথে সাথে সবার একটা কাকতালীয় ভাবে যোগাযোগ আছে। লেখক মানুষের জীবনের নানা টানাপোড়েন, উত্থানপতন, ঘাত-প্রতিঘাত ফুটিয়ে তুলেছেন নিপুন হাতে। পার্থিব উপন্যাসের প্রথম লাইন হচ্ছে- "বাদামতলায় রামজীবনের পাকা ঘর উঠছে ওই ।" আর শেষ লাইন হচ্ছে- "এসো আমার সঙ্গে তুমিও কাঁদো, এসো কান্নায় একাকার হয়ে যাই। একাকার হয়ে যাই।" উপন্যাসটি বুঝিয়ে দেয়- জীবন কি। জীবনের অর্থ কি। মানুষ কি চায়। মানুষের শেষ পরিনতি কি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২০ রাত ১:৩৬
২৬টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×