somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''হারিয়ে গেছে আমাদের সংস্কৃতি,,

১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‪ "নাইউর"‬ (-_-)
ফারুক তুরাণ

উঠনে রিক্সা চলে আসছে। জোরে বেল বাজাচ্ছেন ড্রাইভার মামা। ড্রাইভার মায়ের বংশের কেউ না তবুও মামা ডাকা। এই ডাকার মধ্যেও দরদ আছে। বেল বাজানোর অর্থ একটা শাড়ি এনে দিতে হবে মামাকে। রিক্সার চারপাশ শাড়ি পেছিয়ে একটা ভ্রাম্যমাণ কুঠির বানানো হবে। এই কুঠিরে আবৃত রাখা হবে একজন নারীর লজ্জা, সম্মান এবং গ্রামীণ মুসলিম সংস্কৃতি।
হাফ পেন্ট পরে আমি রেডি।
.
সারা শরীরে তেলে মাখামাখি। অতিরিক্ত উচ্ছাসে পড়ে গিয়ে হাটুতে যে মাটি লেগেছিল সেটা শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ধোয়ার সময় নাই । তার থেকে রিক্সার গলা ধরে আরও তিন চারবার উঠনে ছক্কড় দেওয়া আনন্দের।
গলায় স্বর্ণের মোটা তাবিজ, কটকটে জামদানী শাড়ি, হাতে ছত্রাক্রান্ত ২০-১০০ টাকার নোট।
.
মা রিক্সায় উঠতে বাবাকে যে মুল্যবান কথা বললেন তা হল সন্ধ্যা হলে যেন মোরগ হাঁস ঘরে তোলা হয়। হাঁসের বাচ্চাগুলো অবশ্য রিক্সার পিছনে বেধেঁ নেওয়া হয়েছে। হাঁসের বাচ্চা দেখাশুনা করা বাবার সামর্থের বাইরে। মা নিজে এসব দেখাশুনা করবে। আমার এসব নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। আমার মাথাব্যাথা হচ্ছে আমার পকেটে মা টাকা রাখতে দিয়েছেন। এই টাকা দেখাশুনা করা এবং রিক্সায় বসে প্লান করা মাকে নয় ছয় বুঝিয়ে কিছু মেরে দেয়া। টাকা পয়সার ব্যাপারে মা আমাকে কলম কেনার টাকা পর্যন্ত বিশ্বাস করেন। আজ এই ঝুঁকি নেওয়ার কারন বুঝা যাচ্ছে না।অতিরিক্ত আনন্দে মানুষ ছোটখাটো ব্যাপার মাথায় রাখেনা। মা এই মুহুর্তে মহা সুখি।
.
রানি কুঠির চলছে । আমি কুঠিরে না। বাহিরে গদির নিচে বসে আছি। পা ঝুলিয়ে দিতে পারলে ভাল হত। রিক্সার পেডেল এর জন্যে পারছিনা। মাথা নিচু করে রাস্তা দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। তাতে নিজেকে স্থির মনে হয়। রাস্তাও একটা জীবন পাবে। কিন্তু হাঁসের বাচ্চারা অস্থির। ওদের খারাপ লাগা ভাল লাগা বুঝা যাচ্ছে না। আমরা নানা বাড়ি বাবার বাড়ি যাব , ওদের আনন্দিত হওয়ের কোন কারন নেই।
.
মামা রিক্সা থামান। আমার জুতা নাই । মামা যেখান থেকে জুতা খুঁঁজে আনলেন সেটা রিক্সা থেকে মিনিট পাঁচেকের পিছনের পথ। এক পাটি পড়েছে বলে কেউ নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখায় নাই। পায়ে ঝিঁ ধরেছিল কখন খুলে গেছে কে জানে।
.
সন্ধ্যা হয়ে আসছে । আমরা নানা বাড়ির কাছাকাছি । কেউ একজন দূর থেকে আমাদের দেখে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেলে। আলি হবে মনে হয়। ওর কোমরের নিচের অংশ কিছুটা সরু মাথা বড় হওয়ায় দুর থেকে চেনা সহজ । আমি কুঠিরের ভিতরে ঢুকে গেলাম। নামার সময় একটা ভাব থাকবে। রিক্সা উঠনে গিয়ে থামবে । মামা রিক্সা উঠানে রেখে দূরে গিয়ে দাঁড়াবে । অনেক মহিলা, বাচ্চাকাচ্চা জড় হবে।
.
কুঠির থেকে আগে মাথা বের করতে হবে। মাটিতে পা রাখতে যে কথা শুনতে হবে। কিরে তোর বাপে তোরে খাওন দেই না, এরকম শুকাই গেছস কেন? এটা প্রশ্ন না গ্রামীণ ফর্মালিটি। যে যার সম্পর্ক মত এসব ফর্মালিটি রক্ষা করবে । সবশেষে নানু আমাকে নিয়ে সিন্দুকের উপর বসিয়ে মাথায় রেখে বলবে তোর বাবা কেমন আছে? এটাও প্রশ্ন না এটা আকুতি । আমার অনাগ্রহ দেখলে হাতের আঙ্গুল টিপে দিবে। টিপতে টিপতে জানতে চাইবে তোর বাপের শরীর কেমন, তোরে আদর করেনি, তোদের পুকুরে মাছ আছে নি, কি খাস।নানুর এখন বয়স হয়েছে। শরীরে শক্তি কম। চোখের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা নাই। সামর্থের সব দিয়ে চোখ মুচে নিচ্ছেন। ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:৫৯
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×