somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাইফ অফ সাই

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা মার আদরের সন্তান সাঈদি।কিন্তু তার বন্ধুরা সবাই তাকে স্কুলে গেলে,
"স তে সাঈদি,তুই রাজাকার,তুই রাজাকার।"
বলে খেপায়।
এই নিয়ে সাঈদি মিয়ার ব্যাপক ক্ষোভ।সে তাই স্বীয় ক্ষমতা বলে নিজের নাম চেঞ্জ করে "সাই" করে নিল।"সাঈদী" থেকে "সাই"। তার বাবা সেখানকার একটি বোট্যানিকাল গার্ডেনে বুনো জানোয়ারের দুই নাম্বার ব্যাবসা চালাইতেন।একদা একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিম্পাঞ্জী প্রেগনেন্ট হয়ে গেলে
স্থানীয় লোকজনের বাঁধার মুখে টিকতে না পেরে সাঈদীর বাবা সপরিবারে (ইনক্লুডিং দ্যাট শিম্পাঞ্জী) পাকিস্তানে যাবার ডিসিশান নিয়ে ফেলেন।যথা সময়ে জাহাজ
ছেড়ে যায়।
গভীর সমুদ্রে জাহাজ।হঠাত সাঈদি সাহেব তার স্বীয় মেশিনে প্রবল যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকেন।এমতাবস্থায়,তিনি কেবিন ছেড়ে জাহাজের উপরিভাগে চলে আসেন।
বলা বাহুল্য,জাহাজে কোন মেয়ে ছিল না।তাই তিনি আকাশ পানে চেয়ে, চাঁদের বুড়ির কথা চিন্তা করতে থাকেন।হঠাত শুরু হয় প্রবল ঝড়।ঝড়ের তান্ডবলীলায়
জাহাজ যায় ডুবে।দৈবক্রমে,সাঈদি সাহেব একটি লাইফবোটে আশ্রয় পান।লাইফবোটে আশ্রয় পেয়ে তিনি হত বিহ্বল দৃষ্টিতে ডুবন্ত জাহাজের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
একসময় জাহাজ ডুবে যায়।সাঈদী সাহেব একা লাইফবোটে বেচে থাকেন।রাত তখন প্রায় ৩ টা।তিনি আশেপাশের অবস্থা চিন্তা না করে ঘুম লাগান।

ঘুম থেকে উঠার পর তিনি আবিষ্কার করেন,লাইফবোটে তিনি একা নন।সেখানে আশ্রয় নিয়েছে একটি রাজকীয় বাঘ।সাঈদি মিয়া তো ভয়েই শেষ।কিন্তু ভয় পেয়ে হাল ছেড়ে দেবার পাত্র তিনি নন।তিনি অনেক ভাবে চেষ্টা করলেন,বাঘটিকে পানিতে ফেলে দিয়ে লাইফবোটের পূর্ন নিয়ন্ত্রন নেবার।কিন্তু বাঘ এর কূট বুদ্ধির সাথে তিনি পেরে উঠলেন না।এভাবে কিছুদিন টম এন্ড জেরি খেলার পর ,বাঘ এবং সাঈদি দুজনেই আবিষ্কার করল,তারা একে অন্যকে
ছাড়া এই গভীর সমুদ্রে অসহায়।তাই দুজনেই নানান কাজে দুজনাকে সাহায্য করতে লাগলেন।
দিনের বেলায় সাঈদী মাছ ধরেন,আর বাঘকে শান্ত রাখার জন্য সেই মাছ বাঘকে দিয়ে ফেলেন।সাঈদী আবার বিফ/মাটন ছাড়া কিচ্ছু খান না।
ঘটনাক্রমে একদিন সাঈদীর জালে এক বিশালাকায় লইট্যা মাছ ধরা পরে।বাঘ তো মাছের সাইজ দেইখা জব্বর খুশি।
বাঘের লোলুপ দৃষ্টি দেখে সাঈদী হুঙ্কার দিলেন,"ব্লাডী শিট,ডোন্ট ইউ নো দ্যাট আই লাভ দিস ফিস?মাই মেশিন উইল নট রান উইদাউট দিস ফিস।"
বাঘ অবাক বিষ্ময়ে সাঈদির দিকে তাকিয়ে থাকে।বাঘের চোখ দিয়ে দুই ফোটা পানিও বের হয়ে আসে।কিন্তু সাঈদি তার লইট্যা ফিস শেয়ার করতে নারাজ।
শেষ পর্যন্ত তারা দুইজনে অলিখিত চুক্তিতে আসেন,সব মাছ বাঘের কিন্তু লইট্যা মাছ ধরা পরলে ঐটা সাঈদির।অবুঝ বাঘ সাঈদীর লইট্যা ফিস প্রীতির রহস্য ভেদে অক্ষম হয়ে,শেষ পর্যন্ত মেনেই নেই।এভাবে আরো কিছু দিন চলল।কিন্তু লইট্যা ফিসের প্রবল ঐশী শক্তিতে সাঈদীর মেশিন দিন কে দিন আরো শক্ত হইতে লাগিলো।
একদিন রাতের ঘটনা।
বাঘ ঘুমিয়ে ছিল।সাঈদি তার মেশিন সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত বাঘের সম্ভ্রম হরন করল।আফটার অল বাপ কা বেটা।
বাঘ যখন বুঝতে পারলো,সে আর ভার্জিন নেই,তখন মনের দুঃখে লাইফবোটের মধ্যে নিজের মাথাটারে দুই তিন বার বারি মারল।
সেই থেকে দুইজনের অভিমান।সাঈদি মুখ কাচুমাচু করে থাকে,আর বাঘ বেচারা সারা দিন রাত কাঁদে।

বাঘ দিনরাত স্রষ্টার কাছে কি যেন প্রার্থনা করে,সাঈদী বুঝতে পারে না।সাঈদি বাঘের কাছে জিজ্ঞেস করে,কি এত প্রার্থনা কর সারাদিন?
বাঘ বলে,আমার দোয়া কবুল হইলেই টের পাইবা।একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে ,লাইফবোট একটা পরিত্যাক্ত দ্বীপে ঠেকেছে।দুই জনেই খুশি মনে দ্বীপের ভেতরে ছুটে যায়।তারা দুইজনেই আবিষ্কার করে দ্বীপের ঠিক মাঝখান বরাবর বিশাল এক গুহা।
সাঈদী গুহার মাঝে ঢুকে যায়।বাঘ কিছুক্ষন ইতস্তত করে শেষে লাইফবোটে ফেরত যায়।১০-১৫ মিনিট পরে আকাশ বাতাস ভেদ করিয়া,সাঈদীর আর্ত চিৎকার শোনা যায়।কিছুক্ষন পরে সাঈদীকে লেংরাইতে লেংরাইতে বোটের কাছে আসতে দেখে বাঘ জিজ্ঞেস করে,কি হয়েছিল?

সাঈদী বলে,গুহার ভেতরে ঢুকিয়া সে হঠাত দেখে রাকা কে (চাচা চৌধুরী আর সাবু মিলে রাকাকে এই গুহাতে আটকিয়ে রেখেছিল)।বলা নেই কওয়া নেই রাকা হঠাত এসে স্বীয় মেশিনের সদব্যাবহার করে সাঈদির উপর।
বাঘ তখন মুচকি হাসতে থাকে,মনে মনে সে বলে,যাক উপরওয়ালা শেষ পর্যন্ত তার ডাক শুনেছে।বাঘ যদিও আদতে নাস্তিক ছিল,শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করল, স্রষ্টা আছেন,এবং তিনি যখন তার বিচার করেন তখন ভিক্টিম এর আর উপায় থাকে না।

বিঃদ্রঃ
গল্পের সম্পুর্ন কাহিনী এবং চরিত্র সমূহ লেখকের অনুর্বর মস্তিষ্কের অনুর্বর চিন্তা মাত্র।জীবিত অথবা মৃত কোন মানুষ বা প্রানীর সাথে মিলে গেলে,তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র।
তবে কোন রাজাকার এর সাথে মিলাইলে মিলাইতেও পারেন,কারন রাজাকার রা আর যাই হোক মানুষ না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×