somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Energy Saving- হতে পারে আমাদের দেশের জন্য অনুকরণীয়।

১৪ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী Energy ব্যবহারকারী দেশ কোনটি তাহলে নির্দিধায় উত্তর আসবে- "আমেরিকা"। উৎপাদন এবং ব্যবহার- দুটোতেই তারা প্রথম। আমার আজকের বিষয় আমেরিকানদের Energy নিয়ে নয়। কারণ, আমেরিকান এবং তাদের দেশকে স্বশরীরে প্রত্যক্ষ করার সময় আমার মাত্র কয়েকটা দিনের। গত বছরের মাঝামঝি (আগষ্ট-এ) মাত্র সপ্তাহখানেকের জন্য টেক্সাস গিয়েছিলাম। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিটির (প্রেসিডেন্ট বুশ) বাগানবাড়ী যেখানে, সেই টেক্সাস যাওয়ার অনুভুতিটা অবশ্যই একটুখানি ভিন্ন ছিল। না, বুশের বাগানবাড়ী দেখার কথা মনেছিলনা। তবে যেখানে তৈরী হয় মহাকাশে যাওয়ার বিশাল বিশাল রকেট-স্পেসশিপ, NASA-এর সেই "জে. এফ. কেনেডি স্পেস সেন্টার"-টা দেখার সুযোগ মিস করিনি। মাত্র ৩০ ডলার এক্সট্রা খরচ হয়েছিল তাতে। সঙ্গে ছিলেন শাহ নেওয়াজ ভাই আর উনার উইনিতে Postdoctoral fellow এক কোরিয়ান সহ পৃথিবীর ভিবিন্ন দেশ থেকে আসা শ'খানেক বিজ্গানী। সেই সপ্তাহ খানেকের দেখায় আমেরিকান এবং তাদের দেশ সম্পর্কে কিছু লেখার দুঃসাহস আমার নেই। তবে টেক্সাসের মাল্টিলেয়ার ফ্লাইওভার আর অন্তহীন সমতল ভুমি আমাকে যারপরনাই বিমোহিত করেছে। পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা এই জাপানের মানচিত্রের সাথে তার কোন তুলনা চলেনা।

আসল কথায় আসি। আমাদের এখানে সবে গরম পড়তে শুরু করেছে। জুলাই-আগষ্ট এখানে সবচেয়ে বেশী গরম পড়ে। তাপমাত্রা ২৫-৩৫ ডিগ্রী পর্যন্ত উঠানামা করে। বাতাতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকাতে তাপমাত্রা আরো বেশী মনে হয়।

আমি আমার প্রফেসরের এসিসষ্ট্যান্ট হিসাবে একটা ক্লাশনেই সপ্তাতে একদিন। কেমেষ্ট্রির উপর ১:৩০ মিনিটের একটা লেকচার। ইংরেজীতে দিতে হয়। ইংরেজীতে কেমিষ্ট্রির উপর দক্ষতা বাড়ানোই আমার লেকচারের উদ্দেশ্য। খুব বেসিক কিছু অধ্যায়ের উপর লেকচার দেই আমি। প্রথম যেদিন আমি লেকচার দিতে গেলাম, ক্লাশরুমের ডেকোরেশান দেখেতো আমার মাথা চক্কর দিতে শুরু করল। কি নেই এদের ক্লাশরুমে। (ক্লাশরুমের বর্ণনাটা এখানে দিতে চাইছিনা। সম্ভব হলে পরে কখনো আলাদা পোষ্টে লিখব এ সম্পর্কে।)

গত সপ্তাহে ও যথারীতি সেই ক্লাশটা নেয়ার জন্য গেলাম। প্রচন্ড গরমে আমি ভিজে যাচ্ছিলাম আরকি। তাই ক্লাশে ডুকে এসি-র কোলিং সিসটেমটা আরো বাড়িয়ে দিতে গিয়ে দেখি বোর্ডের নীচে জাপানীতে কি যেন লেখা। যদিও পুরোটা পড়তে পারিনি তবু যেটা বুঝতে পারলাম তা হল "রুম টেম্পারেচার ২৭-২৮ এর মধ্যে রাখতে হবে"। ২৭-২৮ ডিগ্রী আমাদের দেশে কম হলেও শীতপ্রধান দেশে এটা মোটেও কম নয়। ছাত্রদেরকে গরমে একটু বিচলিত বলেই মনে হল। কিন্তু কেউ-ই এসি-র পাওয়ার বাড়াচ্ছেনা। ব্যাপারটা আমার কাছে খটকার মনে হলেও অবাক হইনি। কারণ, এনারজি সেভিং-এর অংশ হিসাবে আমাদের ফেকাল্টির বেশ কিছু লিফ্ট-ও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ব্যাপারটা আমি আগেই জেনেছিলাম। কিন্তু যে ব্যাপারটা আমাকে ভাবিয়েছে, তা হল জাপানীদের ও এনারর্জি সেভিং-এর জন্য লিফ্ট-এসি বন্ধ রাখতে হয়? এদেরতো ইলেকট্রিসিটির অভাব নেই। কোনদিন লোডসেডিং-এ পরতে হয় না।

এর বিপরীতে আমাদের দেশের চিত্রটা একবার কল্পনা করলাম। আমাদের দেশে সরকারী অফিসগুলোতে ফেন-এসি-বাতি ব্যবহারের যে চিত্র আমরা দেখি, তাতে মনে হয় না সেখানে ইলেকট্রিসিটির উৎপাদনে কোন ঘাটতি আছে। মনে হয় না ওই দেশে ইলেকট্রিসিটির অভাবে প্রতিদিন ১০-১৫ বার লোডসেডিং হয়। মনে হয়না ইলেট্রিসিটির অভাবে কলকারখানায় উৎপাদন কম হয়।

কোন জিনিস যথেষ্ট পরিমাণ থাকলেই যে তা যথেচ্ছা ব্যবহার করা উচিৎ নয়, এটা আমাদের কে বুঝাবে। আমাদের অঢেল গ্যাস কে আমরা যে ভাবে অপব্যবহার করছি, তার জন্য খুব নিকট ভবিষ্যতেই আমাদেরকে আফসোস করতে হবে। তার দায় শোধ করতে হবে কড়ায় গন্ডায়। লিফ্ট-এসি বন্ধ রেখে এনার্জি সেভ করা খুব বড় কোন ব্যাপরা না, কিন্তু এই ছোট্র ঘটনাটা থেকেও অনেক বড় কিছু শিখার আছে আমাদের মত দরিদ্রদের।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×