somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভিনদেশের ভাষা, মানুষ, এবং বাস্তবতা।

২২ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা জাপান এবং এর মানুষগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখেন তারা অবশ্যই এদের ইংরেজীর উপর ভীষণ দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র-শিক্ষক সবার ক্ষেত্রেই কথাটা প্রযোজ্য। তবে তারা ইংরেজী বলার চেয়ে লেখায় এবং পড়ায় যথেষ্ট ভাল। ইদানিং অবশ্য অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। জাপানের বড় বড় শহরগুলোতে সাধারণ মানুষ ইংরেজী টুকটাক বলতে পারে। যদিও তাদের সেই ইংরেজী আমাদের দেশের স্কুলপড়ৃয়াদের চেয়ে লো লেবেলেরই হবে বলে আমার ধারণা।

গত তিন বছরেও জাপানীটা শিখা হয়ে ওঠেনি আমার। আসলে কোন একটা ভাষায় টুকটাক কথা বলা বা বুঝার জন্য তিন বছর সময়টা যথেষ্টই বলতে হবে। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে সেটা হল, দরকার হয়নি। সাধারণত জাপানে পড়তে আসা সব ছাত্রকেই মূল কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে প্রথম ৬ মাস জাপানী ভাষা শিখতে হয়। এটা অনেকটা অলিখিত বাধ্যতামুলক এবং অনেকাংশে কোর্স টিচারদের উপর নির্ভর করে। আমি আসার পরও আমার প্রফেসর আমাকে জাপানী লেংগুয়েজ কোর্সে ভর্তি করিয়েছিলেন। আমার সাথে একজন ইন্ডিয়ানও ছিলেন। ডঃ রমেশ। পোষ্টডক্টরেট করতে এসেছিলেন। আমরা দু'জনই যেতাম লেংগুয়েজ ক্লাশে। এক মাস ক্লাস করার পর একটা ক্লাস টেষ্ট হল এবং তাতে আমি আর ডঃ রমেশ দু'জনই আন্ডার স্কোর করলাম। প্রথম প্রথম জাপানী ভাষা শেখার যে ছোট খাট ইচ্ছেটা ছিল, ক্লাস টেষ্টের পর মাথা থেকে সেটা একদম ইরেজ হয়ে গেল। ফলাফল যেটা হল, ক্লাসে আমরা অনিয়মিত হয়ে গেলাম এবং এক পর্যায়ে একদমই আর ক্লাস করতাম না। লেংগুয়েজ-এর শিক্ষকরা আমাদের প্রফেসরকে চিঠি বা ই-মেইল এ আমাদের অনুপস্থিতির কথা জানালেন। প্রফেসর আমাদের সাথে কথা বল্লেন এবং আমাদের অনাগ্রহতা দেখে আর ঘাটালেন না। লেংগুয়েজ ক্লাসটা চালিয়ে গেলে হয়তো এদের ভাষাটা কিছুটা হলেও শিখতে পারতাম। কিন্তু আমার অনাগ্রহতা আর আমরা প্রফেসারের আসকারায় ভাষাটা অজানাই রয়ে গেল।

আমি জাপানী ভাষা না জানলেও সব কিছুই কিভাবে যেন চালিয়ে নিতে পারি। এখানে এসে প্রথমে একটা ষ্টুডেন্ট ডরমিটরিতে ছিলাম দুই বছর। তারপর আইনেই বাধ্যবাধকতায় সেই ডরমিটরি ছাড়তে হল গত অক্টোবরে। এখানে প্রাইভেট বাসা ভাড়া নেয়া মহা ঝামেলার। কিন্তু সেই মহা ঝামেলার কাজটা যখন আমি একা একা-ই করে ফেল্লাম, আমার প্রফেসর শুনে যেন বিশ্বাসই করতে পারলেননা। এটা কি ভাবে সম্ভব। এদের ভাষা না জানা একটা মানুষ কি ভাবে এমন একটা ঝামেলার কাজ করে ফেলল? কিভাবে করলাম, আমি নিজেও যানি না। তবে যেটা হয়েছিল, আমি ইংরেজী বিহীন এই জাপানী সমাজে চলতে গিয়ে গত দুই বছরে একটু জাপানী আর একটু ইংরেজী মিশিয়ে এদের সাথে কথা বলার একটা বিশেষ পদ্ধতি রপ্ত করে ফেলেছি। একটু কষ্ট হলেও ওই বিশেষ পদ্ধটিটা আমার অনেক কাজে লাগে। আমার এক বছর পরে জাপানে আসা নিউজিল্যান্ড প্রবাসী এক শ্রীলংকান ছেলেও আমার মতই ভাষাগত সমস্যায় পড়েছিল। বেচারা ভাষা না জানার কারণে প্রায় একমাস তিন বেলা শুধু ন্যুডুল্স খেয়ে কাটিয়েছিল। কিভাবে বাজার করতে হবে, কোথায় কি পাওয়া যাবে, কিছুই জানত না। একদিন আমার সাথে পরিচয় হঠাৎ করেই। তার অবস্থা অবগত হয়ে আমার খুব কষ্টই হয়েছিল। তারপর তাকে আমার ইংরেজী মিলিয়ে জাপানী বলার কায়দাটা শিখিয়ে দিলাম। খুব তাড়াতাড়িই শিখে ফেলল কায়দাটা। এখন আমার সাথে দেখা হলে প্রথমেই এক গাল হেসে তারপর কথা বলে। তার ওই হাসি "ভাষাগুরু"-র প্রতি তার তাচ্ছিল্লতা নয়, কৃতজ্গতার বহিপ্রকাশ।

যা বলার জন্য এত কথা, সেই আসল কথাটাই বলা হল না। আমার এই এক অভ্যাস। কোন কথা বলতে গিয়ে তার ভূমিকায় এত কথা বলে ফেলি যে, শেষ পর্যন্ত আসল কথাই বলা হয়না। ইংরেজী সম্পর্কে জাপানীদের দুর্বলতা এবং সেই সম্পর্কিত আমার কিছু বাস্তব উপলব্দি শেয়ার করতে চেয়েছিলাম। তার পরিবর্তে জাপানী ভাষা এবং এ নিয়ে আমার ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও বাস্তবতার গল্পই বলা হয়ে গেল। জাপানীদের ইংরেজী নিয়ে কিছু বলা হল না। অন্য একটা পোষ্টে সে সম্পর্কে বলার ইচ্ছে রইল।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×