somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তববাদী রাজনীতিতে জামায়াতকে সাধুবাদ

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কি করলে রাজনীতি এখন সচল থাকবে? জনগন কিংবা জনগনের সাথে দলের একটা ভারসাম্য আসবে সেসব নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলাপ ছিলো। যদি কয়েকটা উল্লেখযোগ্য ঘটনার আলোকে আমি বলে তবে,২০১৩ সাল থেকে এটার উৎপত্তি। এই আলাপ আমি একা তুলিনাই,সেসময় থেকে অল্প অল্প করে সেটা আসে ২০২৪ জুলাইয়ের আগ মহূর্ত অব্দি। যদিওবা শিবির বিভিন্ন নামে বেনামি ব্যানারে কাজ করেছে যার ফলস্বরূপ শিবির এখন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে একচ্ছত্র পপুলারিটি নিয়ে জয়ী হচ্ছে।

একটু ফিরে যাই পেছনে...

মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে চালানো মিথ্যা ট্রাইব্যুনাল ও শাহবাগের তুমুল ইসলাম বিদ্বেষ যখন চারদিকে শুরু হয় তখন আলাপ উঠে একটা সমঝোতায় যাওয়া দরকার। দলীয় স্ট্যান্ড এবং আদর্শবাদী রাজনীতি থেকে সরে আসার। এইটা আবার ইন্টারন্যাশনাল একটা আলাপ ছিলো,জামায়াতের ততকালীন নেতারা কেউই এইসবের তোয়াক্কা করেনি,নির্ভয়ে লড়ে গেছেন,সত্যর হাতিয়ার কে আকড়ে ধরে শাহাদাত কে আপন করে নিয়েছিলেন।

এরপর কিছু সময় বিএনপিকে ভেঙে দেয়,এরপর যখন সাধারণ নাগরিকদের পালা আসলো তখন সাধারণ নাগরিকরা আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করলো বিএনপির ছায়ায়,কিন্তু একের পর এক আন্দোলনের নামে বানচাল কর্মসূচি মানুষকে বিএনপি থেকে বিমোহিত করে তোলে। তখনো আমরা দাবি তুলেছি একটা যে জামায়াতের মধ্যে একটা প্র‍্যাগম্যাটিক পলিটিকাল সিচুয়েশন ক্রিয়েট করতে। আমরা সমালোচনা করেছি,ভালোভাবে খারাপ ভাবে। আমরা বলেছি এই দেশের লক্ষকোটি শিবির জামায়াত ছাড়াও সাধারণ মানুষের একাত্বতার একটা জায়গার বড্ড বেশি প্রয়োজন। আমরা জমায়াতকে বলেছি,আপনারা জামায়াতের নাম পরিবর্তন করুন দরকার হলে। কারণ জামায়াত একটা আদর্শবাদী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দল,অতএব যে নামেই তারা আসবে নাম নিয়ে তাদের কোন কর্মীগত সমস্যা থাকবেনা। সাধারণ মানুষের দরকার ছিলো শুধু ট্যাগবিহীন একটা শক্ত দাড়ানোর প্ল্যাটফর্ম।

এই ছিল্প অতীতে আমাদের আশ্রয় খোজার নানা পন্থা,ঐক্যবদ্ধ না হলে কখনোই ফ্যাসিজম নির্মূল সম্ভব নয় বলেই কোন একটা শক্তিশালী ঐক্যমত গড়ে তোলাই ছিলো আমাদের মূল লক্ষ্য।

আপনি যখন স্বৈরশাসক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তখন আপনাকে বাস্তবাদী হতে হবে। সময়ের সঙ্গে,পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি শুধুমাত্র নিজের আদর্শিক কিংবা নিজের দলীয় এজেন্ডার মধ্যে একটা অবকাঠামো তৈরী করে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাতারে দাড়াতে পারবেন না। আপনি যদি জুলাই গনঅভ্যুত্থান কে লক্ষ্য করেন তখন কেউ কোন কিছু তোয়াক্কা করেনি,কেউ দ্বিধা করেনি নিজেকে রাজাকার বলতে,কেউ আপোষ করেনি বুলেটের সাথে। কারণ কি? কারণ একটাই,রাজনীতি পরে দেখা যাবে,আগে আমাদের এই পিশাচকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্যে একটা শক্তিশালী শেইল্ডে পরিণত হওয়া,যার ফলাফল পিশাচ খুনি এখন দিল্লিতে।

প্র‍্যাগম্যাটিক পলিটিক্স খারাপ নয়,বরং আপনি যদি প্র‍্যাগম্যাটিক পলিটিক্স না করেন তবে ধরে নিতে হবে আপনি সময় উপযোগী কিংবা রাষ্ট্রের মানুষের জন্য রাজনীতিটা ঠিক ভাবে করছেন না। যদি ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখি তবে,আল্লাহ একই কাজ করেছেন। মদকে হারাম করেছেন কয়েক স্তরে,রাসূল সাল্লাহি আসসালাম যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন শক্তিশালী হয়ে,প্রজ্ঞার সঙ্গে চুক্তি করেছেন,নিজেদের উন্নতি করেছেন ফের তরবারি হাতে নিয়েছেন। একদিনে জাহেলিয়াত নির্মূল করতে পারেন নি,আল্লাহ ও একদিনে সকল হারাম হালাল ঘোষণা দেন নি।

জামায়াতের অফিশিয়াল লগো পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানিনা তবে যদি হয়েও থাকে তবে দোষের কিছু নেই,যদি হয়েও থাকে বরং প্র‍্যাগম্যাটিক পলিটিক্সে জামায়াতকে সাধুবাদ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:২৪
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×