somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কি ছিল সেই সময়,ভালবাসা না আবেগ

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যখন অষ্টম শ্রেনিতে পড়তাম তখন বিশাল এক ঝামেলাই পরে গিয়েছিলাম।তখন মাদ্রাসাতে পড়তাম। যখন রেজিসটেশন এর সময় আসল মাদ্রাসাতে তখন আমার রেজিসটেশন করতেছিলনা ।কারন আমার ৫ম শ্রেনির সার্টিফিকেট নাই।আমি ৫ম শ্রেনির পরীক্ষা দেইনি।এই জন্য আমার রেজিসটেশন হয়তেছিল না।তখন আমার মাথা পুরাই নষ্ট।তখন আমার যে কি অবস্থা তা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না।যখন আর এক দিন বাকি রেজিসটেশন এর তখন আমার ভাইয়া রাজু বলল টেনশন কর না,মাদরাসাতে হল না ত কি হয়ছে,স্কুল আছে না।তুমি এক কাজ কর স্কুল এ রেজিসটেশন করে ফেল।তখন আমার এলাকা কাঁপানো কান্না অল্প থামল।তখন তরিঘড়ি করে স্কুল এ ভর্তি হলাম।স্কুলে তখন এই নিয়ম ছিল যে,৫ম শ্রেণিতে এক্সাম না দিলেও ৮ম শ্রেণিতে এক্সাম দেওয়া যাই।(২০১৩তে)।যাই হোক অনেক কাঠখড় পেরিয়ে অবশেষে স্কুলে ভর্তি হলাম।তখন আমার গুরুত্তপূর্ণ চার টি মাস চলে গিয়েছিল।আগে কোন দিন স্কুলে পড়ি নাই। জীবনের প্রথম যখন স্কুলে পড়তে গেলাম তখন আমার অন্য রকম অনুভূতি হয়তেছিল মনের ভেতর।কারন কোন দিন মেয়েদের পাশে বসি নাই আর কথা বলা ত অনেক দূরে।কিন্তু স্কুলের প্রথম দিন আমাকে মেয়েদের পাশে বসতে হয়েছিল।একদিন দুদিন করে আমাদের half yearly exam চলে এসেছিল।এক্সাম অনুযায়ী আমার অত পড়াশুনা হয় নাই। এর মাঝে স্কুলে অনেক বন্ধু জোগার করে ফেলেছিলাম।আর মেয়েদের ধারেকাছে যাই নি।কারন মেয়েদের আমি খুব ভয় পাই।কিন্তু এক্সাম এর সীট পড়ছিল আমাদের শ্রেণির প্রথম মেয়ে ইসরাত জাহান এর পাশে।প্রথম অনেক ভয় পেয়েছিলাম।পরে তা কেটে যাই।আমার টেস্ট এক্সাম আসতে আসতে তার সাথে আমার ভাল খাতির হয়ে যাই।এই অল্প খাতিরে কখন যে আমি তাকে ভালবেসেফেলি তা আমি জানি না।শ্রেণির অন্য বন্ধুরা আমাকে প্রায় বলত ইসরাত কে যেন আমি আমার ভালবাসার কথা বলে দিই।কিন্তু আমি সাহস পাইনি,আমাদের ভাল সম্পর্কটা যদি নষ্ট হয়ে যাই।টেস্ট এক্সাম চলে গেল,আমার মনের কথা বলা হল না।দেখতে দেখতে ফাইনাল (J S C)এক্সাম চলে আসল।তবুও বলা হল না,না বলার কথা।আর এদিকে আমার বন্ধুরা আমাকে আমার ভালবাসার কথা বলতে খুব চাপ দিতেছিল।আমি ঠিক করলাম যেদিন আমাদের (J S C)এক্সাম এর রেজাল্ট দিবে সেদিন আমি তাকে আমার,না বলার কথা বলব।দিনটি 31 December 2013, সকাল থেকেই অন্য রকম অনুভুতি বিরাজ করতেছিল আমার মনে।অনেক দিন পর ইসরাত কে আমি ভালবাসার কথা বলব। অনেক আনন্দ লাগতেছিল।৫টা সময় তার সাথে দেখা করতে গেলাম তার বাড়ীর পাশে।গিয়ে দেখি আমার আগেই সে এসে অপেক্ষা করতে ছিল আমার জন্য।
ইসরাত বললঃ ওই কি খবর তুমার,রেজাল্ট এর খবর কি?
আমি বললামঃ বেশি ভাল না। 4.44 পাইছি। তুমি কি পাইছ?
ইসরাত বললঃ মনটা খুব খারাপ (A+)পাইলাম না।4.56 পাইছি। তুমার ব্যাপার বুজলাম না,তুমি(A+) পাইলা না কেন,তুমি ত অনেক ভাল এক্সাম দিছ।
আমি বললামঃ থাক ওসব কথা।তুমার কথা বল।
ইসরাত বললঃ আমার কথা কি বলব,আমার কোন কথা আছে না কি।
আমি বললামঃ আচ্ছা ইসরাত তুমাকে একটা কথা বলব,রাগ করবা?
ইসরাত বললঃ কি এমন কথা যা আমি শুনলে রাগ করব।আচ্ছা বল রাগ করব না।তাড়াতাড়ি বল আমায় চলে যেতে হবে।
আমি আমার ব্যাগ থেকে একটি ডাইরি বের করে দিলাম তার হাতে।ইসরাত মুখ খোলার আগেই আমি বললাম,দয়াকরে ফিরত দিও না, আমি খুব কষ্ট পাব।
এই বলে আমি আর সেখানে দাড়ালাম না, চলে আসলাম। (সে জানে না যে ডাইরির ভিতর একটি চিঠি আছে)। যাই হোক, আমি তার চিঠির আশাই পথ চেয়ে থাকলাম।কিন্তু সে আমাকে কোন চিঠি লিখলনা।
এমন কি কোন যোগাযোগও করল না।আমি জানি না আমার কি ভুল ছিল। সে কি পারত না আমার হতে?
আজও তোমায় মনে পরে ইসরাত জাহান

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:২৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০০




জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth মূলত এমন এক উপন্যাস, যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, শ্রেণিবৈষম্য, বিচারব্যবস্থা, প্রতিশোধ এবং বুদ্ধিমত্তার লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×