somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ ভাইর সাথে একরাত আড্ডা

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ ভাই , এক সময়ে তিনি দু'হাতে ছড়া লিখেছেন শিশু কিশোরদের জন্য । সেই সময়টা আশির দশকের শেষ এবং নব্বই দশকের শুরু। দৈনিক পত্রিকার শিশুকিশোরদের পাতায় নিয়মিতই তার লেখা প্রকাশিত হত । তার লেখার সাথে আমার পরিচয় ঘটে সম্ভবত ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে ।
একসময় এই তরুন ছড়াকারের সাথে আমার পরিচয়ও ঘটে দৈনিক সংবাদের খেলাঘর পাতার আয়োজনে নিয়মিত সাহিত্য সভায় । গোটা নব্বই দশক জুড়ে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম । তাই দেখা সাক্ষাত তেমন একটা আর হয়ে উঠেনি ।
এক সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরবচ্চ ডিগ্রী নিয়ে দেশ ছেড়ে যান সুদুর আমেরিকায় ।
এই আমেরিকায় প্রবাস জীবনেও তার লেখার গতি থেমে যায়নি । বরং গতি পেয়েছে বেশী । দুখের বিষয় হল তিনি শিশু কিশোরদের জন্য লেখা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন । মনোনিবেশ করেছেন কাব্য চর্চায় । বাংলা কবিতায় তিনি বেশ কিছু অসাধারন কাজও করেছেন । মাইকেল মধুসদনের পর বাংলা সাহিত্যে রচনা করেছেন স্বতন্ত্র সনেট ধারার । আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই একটি কাজই তাকে বাংলা কাব্য জগতে দীর্ঘকালের স্থায়িত্ব এনে দিবে ।
প্রবাসে নানান ব্যস্ততার মাঝেও তিনি দীর্ঘদিন যাবত সম্পাদনা করছেন বাই-লিংগুয়াল কবিতা পত্র " শব্দ গুচ্ছ" । যা ইতোমধ্যে সিরিয়াস পাঠকদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে । শুধু কি বাংলা ভাষা ভাষীদের মাঝে ?
তা কিন্তু নয় । এই " শব্দ গুচ্ছ" আমেরিকা সহ আন্তর্জাতিক কবিমহলেও বেশ প্রশংসা পেয়ে আসছে ।
আমাদের হাসান ভাই'র সাথে মাঝখানে আমার কোন যোগাযোগ ছিল না। মাঝে মাঝে তার কবিতা পড়তাম । কিন্তু ২০০৮ সালে এক আড্ডায় হঠাত একদিন আমার সাংবাদিক বন্ধু দীপু শিকদার বলছিলেন ,কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ বইমেলার জন্য দেশে এসেছেন ।
শুনেই আমার মনে পড়ে যায় অনেক কথা । আগ্রহ নিয়ে তাকে জিগেস করি,আপনি কি তাকে চেনেন ?
দীপু ভাই কিছু বলেন না। শুধুই হাসেন ।
আমি আবারো জিগেস করি, আপনার কাছে তার নাম্বার আছে ?
দীপু ভাই কিছু না বলে তার ফোন থেকেই হাসানভাইকে ফোন করে আমাকে ধরিয়ে দেন ।
আমি কথা বলি ।
হাসান ভাই প্রথমে রনি বলায় চিনতে পারেননি । যখনি আমার পুরো নাম বলেছি তিনি সাথে সাথে চিনে ফেলেন ।
তারপর আমি এই কথা ,সেই কথা বলে পরেরদিন দেখা করি বাংলা একাডেমির বহেরাতলার লিটিল ম্যাগ চত্বরে । বিদেশ থাকায় হাসান ভাই'র চুলে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে ।একমাথা ঝাকড়া চুল ।ঠে।ঠের কোনে লেগে আছে সেই চিরচেনা দিলখোলা ,প্রানবন্ত হাসি ।
তারপর থেকে প্রতি বছর নিয়মিত ফেব্রুয়ারী মাসে বইমেলায় হাসান ভাইর সাথে আমার দেখা হয়ে আসছে । আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে এখন অনেক বেশী জোরালো । অনেক বেশী যোগাযোগ হয় ফেসবুকের কল্যানে ।
হাসান ভাইর স্ত্রীও একজন স্বনামধন্য কবি, নাজনীন সীমন । তিনি অসাধারন কিছু গল্প লিখেছেন ,কবিতাতো বটেই । হাসান ভাইর কারনে তিনি আমার ভাবী । আবার বন্ধু দীপু ভাইর কারনে তিনি আমার বড় আপা। আমার সুবিধা মতন আমি কখনো আপা, কখনো ভাবী ডাকি । আমার ডাবল দাবী, ডাবল আত্মীয়তা ।
হা:হা:হা:হা:হা: ...কি মজা !
এইবার আমেরিকা যাব যখন ভাবছিলাম,তখন একদিন ফেসবুকে হাসান ভাইর কাছ থেকে ফোন নাম্বার চেয়ে রাখি । আমেরিকা যাব আর হাসান ভাই ,আপা-ভাবীর সাথে একবার দেখা করব না -এইটা কি করে হয় ?
আমেরিকা যাবার পর নিজস্ব কিছু কাজ থাকায় যোগাযোগ একটু দেরি করে করি । এ নিয়েও হাসান ভাই মন খারাপ করেন।
তারপর একদিন হাসান ভাইকে বলি,কাল অবশ্যই আপনাদের বাসায় যেতে চাই ।
পরের দিন হাসান ভাই শত ব্যস্ততার মাঝেও কুলিজ এভিনিউ থেকে আমাকে নিয়ে জ্যামাইকা ঘুরিয়ে দেখান । তারপর তার উডেন হ্যাভেনের বাসায় নিয়ে যান ।
সেইদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসান ভাইর বাড়িতে চমৎকার সময় কাটিয়েছিলাম । অনেক আড্ডা ,অনেক কথা হয়েছিল আমাদের । সাহিত্য,সংস্ক্রিতি, রাজনীতি কিছুই বাদ যায়নি ।আড্ডা দিতে দিতে রাত অনেক হয়ে যায় । কথা বলতে বলতে কত কিছু যে খেয়েছি তা আর এখন মনে নেই ।
সব শেষে সীমন আপার হাতের রান্না করা চমৎকার সব খাবার খেয়ে আনন্দের ঢেঁকুর তুলে আমি ফিরে আসি কুলিজ এভিনিউর সুমনের বাসায় ।অবশ্যই মাঝরাতে হাসান ভাইকে কস্ট দিয়ে তার গাড়িতে চড়ে ।
অনেকদিন মনে থাকবে এই রাতটির কথা ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৩৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩


৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

একটি সরকার পতনের দিনকে আমরা কীভাবে পড়ব- জনতার বিজয় হিসেবে, নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার নেপথ্যে ঘটে যাওয়া এক জটিল ক্ষমতা- হস্তান্তর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×