somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নচারিনী...

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে আগে কখনো এতো সুন্দর আকাশ দেখি নি। হয়ত বা, আকাশের এই সৌন্দর্যটা দেখা হয়ে ওঠেনি। আকাশে মেঘ নেই; নেই রোদ্দুরও। কেমন যেন একটা অসাধারণ স্নিগ্ধতা। পাশ থেকে নীরবে বয়ে চলা ছোট্ট নদীতে তেমন উন্মত্ত স্রোত নেই; আকাশে উড়ে যাওয়া নাম না জানা পাখিগুলো যেন পানিতে পড়া ছায়ার সাথে ঝাঁক বেধে উড়ে যাবার প্রতিযোগিতা করছে। আশেপাশের সারিসারি গাছের পাতাগুলো যেন সেই বাতাসে কেমন একটা অন্যরকম সুগন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। হয়ত; এগুলো প্রতিদিনই হয়। সারাদিন বই পড়া, আর প্রোগ্রামিং এর ব্যস্ততায় হয়ত আমিই এগুলো কখনো চোখ মেলে দেখতে পাই নি। নাকি, আজ ও আমার পাশে বলেই আকাশটা এতো স্নিগ্ধ; নদীটা এতো প্রশান্ত; পাখিগুলোর মাঝে এতো আনন্দ। ঠিক বুঝতে পারছি না। এই গোধূলী লগ্নে পাশাপাশি অনেক পথ হেটে এসেছি আমি আর শান্তা। দুজনের জীবনেই এই প্রথমবারের মত কোন কারন ছাড়াই পাশাপাশি পথচলা। আশেপাশের মানুষগুলো যেন কেমন করে তাকাচ্ছিলো। দূরের মাঝীগুলোও যেন আমাদের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিলো; সম্ভবত আমাদের জন্য শুভকামনা করছিলো। পাখীগুলোও মনে হয় অনেকক্ষন ধরে আমাদের এই নিশ্চুপ হেটে চলা দেখে নিজেদের ভাষায় কিছু মন্তব্য করছিলো। দুই জন পাশাপাশি চলতে চলতে খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো একে অপরের হাত ধরে হাঁটি। প্রতিদিনই তো আড্ডাবাজি, মারামারি; খুনসুটি-তে হাজারোবার দু’জন দু’জনার হাত ধরা হয় ভার্সিটিতে; কিন্তু, আজ যেন কেমন অন্যরকম লাগছে। এমন নানাকিছু ভাবছি; ঠিক সেসময় শান্তা বললো “এই... আমার হাত ধর্‌ তো; কেমন যেন ভয় ভয় করছে... মানুষগুলোকে দেখছিস কেমন করে আমাদের দিকে অষ্টম আশ্চর্যের মত তাকাচ্ছে? ”। সত্যিই, ও যেন কেমন করে আমার মনের কথাগুলো পড়তে পারে। “ঐ পাগলী; তোর আবার ভয়ও লাগে নাকি? আমি তো জানতাম তোকে দেখেই সবাই ভয় পায়...”- কথাটা বলেই ওর নরম তুলতুলে হাতটা ধরলাম; নতুন করে বুঝলাম ও কাঁচের নয়। “এই তুই কি বললি?” - শুরু হল ওর সেই চিরাচরিত গুন্ডামী; সেই পিচ্চিদের মত করে হাত নেড়ে, মুখ ভেংচিয়ে, কিল-ঘুষিসহ একেবারে নন-স্টপ দস্যিপনা। কে বলবে, যে এই মেয়েটিও একটু আগে কথাই বলছিলো না লজ্জায়। এভাবেই আরো হাঁটতে হাঁটতে কখন যে সূর্যটা অস্ত যাওয়া শুরু করেছিলো খেয়ালই করিনি। একসময় হঠাৎ গোধূলীর আকাশের দিকে তাকাতেই কেমন যেন একটা গোলাপী আভায় আকাশের সাথে আমাদের মনটাও ভরে গেল অন্য রকম আনন্দে। বসে পড়লাম সবুজ ঘাসের উপরেই। ও আমার হাতদুটো তখনো শক্ত করে ধরে রেখেছে। দু’জনেই ভাবছিলাম যে পৃথিবীটা এতো সুন্দর কেন? ভাবছিলাম, যদি আমরা চলে যেতে পারতাম কোন একটা ভীন গ্রহে; যেখানে পড়াশুনার ঝামেলা নেই; জটিলতা নেই; কষ্ট নেই। দুইজনের মনে কেমন করে যেন একই কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিলো; কেমন যেন একটা কো-ইন্সিডেন্ট। ঝগড়া আর হাসিতে দুজনে একেবারে হারিয়ে যাচ্ছিলাম অন্য ভূবনে। ধীরে ধীরে গোলাপী আকাশটা রাতের কোলে ঢলে পড়তে শুরু করল। কেমন যেন মুহূর্তের মধ্যে হাজারো তারা আর সেই সাথে এক পূর্নিমার চাঁদ নিঃসঙ্গ আকাশটাকে ভরিয়ে তুললো। চাঁদটা যেন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো; আর সেই সাথে তারাগুলো যেন আমাদেরকে জানাচ্ছিলো সম্ভাষন। এক অসাধারণ ভালোলাগায় ভরে থাকা মনটা তখন একটি কথাই বলতে চাইছিলো। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে হাত দুটো হাতে নিয়ে হৃদয়টা জানাতে চাইছিলো ওকে আমি কতটা ভালোবাসি। সেই অস্ফুট চোখদুটো কেমন যেন সজল হয়ে উঠছিলো। বাঁধভাঙ্গা চোখে ঠোটদুটো সেই ছোট্ট শব্দটা উচ্চারন করবে; ঠিক এমন সময় মনে হল পিঠের উপর কে যেন জোরে কিল মারছে। হ্যা; তাইতো... চোখদুটো খুলতে খুলতে মাথ উঠাতেই দেখি সেই দস্যিরানী শান্তার যুদ্ধসাজে প্রশ্ন; “ওই গাধা... তোর হইছে কি? সেই ব্রেকের পর থেকেই ফ্রি-স্টাইলে ডেস্কের উপর ঘুমাচ্ছিস... ফাজিল একটা... সারারাত গেম খেলবি; ফেসবুকে চ্যাটিং করবি... আর ক্লাসে এসে ঘুমাবি আর দিবাস্বপ্ন দেখবি... আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ল্যাব টেস্ট দিবি না? স্যার তো মনে হয় অলরেডি শুরু করে দিসে...” – যেন এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেল শান্তা। “হ্যা; এই তো... এই তুই আমাকে আগে ডাকিস নি কেন?”- আমি এই কথা বলতেই ওর মেজাজ গেল আরো চড়ে। “এই শয়তান... তুই দিনের বেলায় ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখবি; আর আমি তোকে ডাকার জন্য বসে থাকব? আমি তোর কি পিএস হই নাকি?” – তাইতো... ঝগড়া করতে করতে শান্তার সাথে এগিয়ে গেলাম ল্যাবের দিকে... তারপরও ওকে বলতে পারলাম না... আমার স্বপ্নে যে ছিলো সে তো আর কেউ নয়... ঐ দস্যিরানী... ওকে জানাতে পারলাম না ওকে একটু আগেই যে কথাটা আমি জানাতে চেয়েছিলাম। জানি না... আমার স্বপ্নের মতই ঐ ছোট্ট শব্দ “ভালোবাসি”-টা ওকে কখনো বলা হবে কী’না... কখনো একসাথে গোধূলী দেখা হবে কী’না... কখনো ওর হাতদুটো ধরে নদীর তীরে হেটে বেড়ানো হবে কী’না... !!!

[email protected]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×