somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওদের স্বপ্ন আর কতবার কোরবানী হবে???

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবসময়ই সাধ আর সাধ্যের দ্বন্দ্ব নিয়েই আমাদের মত মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর পথচলা। কুরবানী ঈদের সময়ও ব্যাপারটা একই রকম। পশুর হাটে গিয়ে সাধ আর সাধ্যের ইকুইলিব্রিয়াম পয়েন্টে কোন একটা ছাগল কেনার জন্য ঘন্টাখানেক ধরে হাটের এপাশ থেকে ওপাশের মোটামুটি সমস্ত বিক্রেতার সাথে ছাগলগুলোরও পরিচিতি হয়ে যায়। ঈদের এক দিন বাকী। জোড়াগেটের হাটে আমাদের অবস্থাটাও এর থেকে খুব একটা ভিন্ন কিছু ছিলো না। যেটা পছন্দ হয় সেটার দাম হিসাবের বাইরে; আর যেটার দাম সাধ্যের মাঝে সেটাকে কেমন যেন কুরবানী করার জন্য পছন্দের সীমারেখায় আনাটা বেশ কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিলো। ঘন্টাখানেকের ঘোরাঘুরির পর আল্লাহ সাধ আর সাধ্যের ব্যালান্স করে একজন বিক্রতা মিলিয়ে দিলেন। ছাগলটার চেহারাটা আসলেই পছন্দ করার মত ছিলো। বাঙ্গালীর চিরায়ত দামাদামীর পর্বটা শেষে যথেষ্ট আনন্দের সাথে ছাগলটা কিনে সিটি কর্পোরেশনের ফি পে করার সময় যখন ওদের কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো হল; তখন সেই আনন্দটা অনেকটা ম্লান হয়ে গেল। “ছাগলটা আমার খুব প্রিয়; জুট মিলে চাকরি করি। ঐখানেই ছাগলটারে পুষে নিজেই বড় করেছি তো। আল্লাহ ইচ্ছা করলে আর বেতনটা পাইলে হয়ত বাড়িতেই এবার আল্লাহর ওয়াস্তে কুরবানী দিতাম ছাগলটা। বোনাস পাইসি; কিন্তু বেতন পাই নাই। এদিকে মেয়ে, জামাই আসছে। ঈদের খরচের জন্য ছাগলটারে... ”। কথাগুলো আসলেই আর শোনার মত পরিস্থিতি ছিলোনা আমার মনে। আর তার অবস্থাতো ওই কয়েকটি মুহুর্তের জন্য বুঝতেই পারছিলাম। আপনজনের মত ছাগলটাকে যে তিনি ভালোবাসতেন সেটা আরো ভালো করেই বুঝতে পারলাম যখন তিনি আমাদের সাথেই রাস্তা পর্যন্ত ছাগলটাকে নিজেই ধরে নিয়ে আসলেন। সন্তানের প্রতি ভালোবাসার জন্য সন্তানের মতই হয়ত সযত্নে পালন করা পশুটাকে তিনি আজ বিক্রি করছেন। হয়ত চাইছিলেন আরো কিছুটা সময় তার পছন্দের পোষা ছাগলটা তার চোখের সামনে থাকুক। আসলেই এক দিকে যেমন পছন্দসই একটা কুরবানীর পশু কিনতে পারার ভালো লাগা তেমনি অন্যদিকে বিক্রেতার প্রতি একটা সহানুভূতি সব মিলিয়ে কেমন যেন একটা মিশ্র অনুভূতি কাজ করছিলো।
বাসায় ফেরার পর ভাবছিলাম ওই মানুষটির কথা। ভাবছিলাম উদ্ভট আমাদের দেশের কথা। মাত্র চার-পাঁচ হাজার টাকার জন্য একজন মানুষকে তার খুব পছন্দের কুরবানীর পশুটিকে বিক্রি করে দিতে হয়। অথচ সরকারের কাছে তার প্রাপ্য বেতন সময় মত পেলে হয়ত তিনি তার স্বপ্ন পূরন করতে পারতেন। পাশাপাশি জুট মিলের সরকারীগুলো লোকসানের ধোয়া তুলে চলে না; অথচ বেসরকারীগুলা ঠিকমতই চলে; সমস্যাটা তাহলে কোথায়? সমস্যা হল আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের স্বজনপ্রীতি; আমাদের দূর্নীতির মানসিকতা; আমাদের হীনতা। আমরা কোন একটি মানুষকে মাসে কোটি টাকা বেতন দিই; অথচ প্রাপ্য মাত্র কয়েক লক্ষটাকা খরচ করে কয়েক হাজার মানুষকে ঈদের আনন্দ করার সূযোগ করে দিতে আমাদের দেশ পারে না। কোন একটা প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে নেওয়াটা দোষের হয় না; কিন্তু, কোন একটা সরকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র কয়েক লক্ষটাকা লোকসান করাটা বিরাট ক্ষতির। হায়রে দেশ!!!। সুদ-ঘুষের টাকায় কয়েকলাখ টাকা দামের উট কুরবানী দেন যারা; তারাই খেটে খাওয়া মানুষের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাত করেন। আবার তারাই সবার সামনে মার্সিডিজে চড়ে স্যালুট নিয়ে বেড়ান আর খেটে খাওয়া মানুষগুলো নিজের পোষা পশুটিকে বিক্রি করে এক হাতে চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি যায় নিজেকে সান্ত্বনা দিতে দিতে।
আর কতদিন এভাবে একদল মানুষ অন্যায়ভাবে অর্থের পাহাড় গড়বে আর একদল মানুষ তাদের প্রাপ্যটুকুও পাবে না? আর কতদিন ভালো মানুষগুলো, সৎ মানুষগুলোর সততা, ন্যায়, আদর্শ অসত মানুষগুলোর অর্থের দাপটে অর্থহীন হয়ে যাবে? আর কতদিন সরকার, রাষ্ট্র হবে শুধুই ধনীদের; অন্যায়কারীদের; চাটুকারদের; অসত মানুষদের? ওই বিক্রেতার তো কোন অনুকম্পার প্রয়োজন নেই; শুধু তার প্রাপ্য বেতনটাই তো তার স্বপ্নগুলোকে জীবন্ত রাখতে পারত। দেশ, সরকার, রাষ্ট্র এসবের কি কিছুই করার নেই প্রাপ্য অধিকারটুকু; পাওনাটুকু সময়মত মানুষের হাতে পৌছে দেবার? কিছুই কি করার নেই তাদের মুখে হাসি ফোটাতে না পারলেও অন্তত সবার অজান্তে যাতে চোখ মুছতে না হয় সেটার ব্যবস্থা করার? অপেক্ষায় রইলাম সেই দিনের...


প্রকৌশলী এস এ এহসান রাজন
প্রভাষক
কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ
খুলনা পাবলিক কলেজ, খুলনা।
E-mail: [email protected]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×