somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রূপম রিজওয়ান
আরো সতেরোটা বছর পর মধ্যবয়সী রূপমের মনে ওর জীবনের অপূর্ণতাগুলো নিয়ে অনেক আক্ষেপ জন্মাবে; কিন্তু টাইম ট্রাভেল করে ও আর সতেরো বছর বয়সে ফিরে আসতে পারবে না। তাই ভবিষ্যত রূপমের অপূর্ণতাগুলোকে যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে যা করার,তা এখনি করতে হবে,এক্ষুনি....

নালন্দাকেন্দ্রিক বৌদ্ধ ঐতিহ্যের পতন: বঙ্গবিজেতা তুর্কি সেনাপতি বিন বখতিয়ার খলজি-ই কি ইতিহাসের একমাত্র খলনায়ক?-(পর্ব:২)

২৫ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পর্ব ১ এর পর থেকে...
সাত শতকের শুরুর দিকের কথা। গুপ্ত সাম্রাজ্য অস্তমিত প্রায়; ভারতবর্ষ ততদিনে খন্ড-বিখন্ড হয়ে স্বাধীন আঞ্চলিক রাজা-মহাসামন্ত-অধিপতিদের অধীনে চলে গিয়েছে। উত্তর ভারতের থানেসরের সিংহাসনে তখন পুষ্যভূতি রাজবংশের বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী রাজা রাজ্যবর্ধন(৬০৫-৬০৬)। সে যুগে রাজকীয় বিয়েগুলো কেবল দুটো আত্মা বা পরিবারের মিলন ছিল না; এর আড়ালে থাকতো দুই রাজ্যের মাঝে বহু রাজনৈতিক সমীকরণ, দুই রাজবংশের সন্ধি। তাই হুনদের সামাল দেওয়া সাবেক রাজা প্রভাকরবর্ধনের কন্যা, থানেসরের রাজা রাজ্যবর্ধনের ভগ্নি রাজ্যশ্রীর সাথে কনৌজের মৌখরি রাজবংশের গ্রহবর্মনের বিবাহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টির কারণ হয়। পুষ্যভূতিদের সাথে জাতশত্রু মৌখরিদের সন্ধি পূর্ব ভারতের অপর এক রাজার রাতের ঘুম কেড়ে নিল। উত্তরে মিলিত দুই শক্তির প্রভাববলয় পূর্বদিকেও বিস্তার লাভের শঙ্কায় চটপট তিনি পাল্টা সন্ধি করে নিলেন পুষ্যভূতি-মৌখারিদের প্রতিবেশি মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে। তিনি আর কেউ নন-পূর্ব বঙ্গের কথিত প্রথম স্বাধীন নৃপতি গৌড়রাজ(কিংবা মহাসামন্ত) শশাঙ্ক।

এদিকে নিজ রাজধানীতেই অকস্মাৎ খুন হলেন কনৌজের গ্রহবর্মণ; অপহৃত হলেন গ্রহবর্মণের স্ত্রী রাজ্যশ্রী;সন্দেহের তীর শশাঙ্কের মিত্র মালবদের দিকে। ভগ্নিপতির হত্যার প্রতিশোধ ও বোনকে উদ্ধারের জন্য মালবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন থানেসরের রাজা রাজ্যবর্ধন; কনিষ্ঠ ভ্রাতা হর্ষবর্ধনের হাতে রাজ্যের দায়িত্ব অর্পণ করে রাজা যুদ্ধে গেলেন হস্তিবাহিনী,পদাতিক বাহিনী সমেত ১০,০০০ অশ্বারোহীর বিশাল বাহিনী নিয়ে। গুড়িয়ে দিলেন মালবদের প্রতিরোধ; উদ্ধার করলেন ভগ্নি রাজ্যশ্রীকে। মিত্র মালবদের পরাজয়ে বিপর্যস্ত-দিশেহারা রাজা শশাঙ্ক ডাক দিলেন শান্তি আলোচনার (হিউয়েন সাং এর বক্তব্য)। কিংবা নিজের কন্যার সাথে রাজবর্ধনের বিবাহের প্রস্তাবও হয়তো দিলেন(হর্ষচরিতের বক্তব্য)। কিন্তু শশাঙ্কের মনে অন্য ফন্দি; আলোচনার নামে শত্রুশিবিরে ডেকে এনে হত্যা করলেন থানেসররাজ রাজ্যবর্ধনকে! ভ্রাতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে সিংহাসনে বসলেন কনিষ্ঠভ্রাতা হর্ষবর্ধন।---রূপকথার মতো শোনালেও মোটামুটি এটাই হলো হিউয়েন সাং ও বাণভট্টের বয়ানে উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহাসিক 'হর্ষবর্ধন বনাম শশাঙ্ক' দ্বৈরথের পটভূমি।



শশাঙ্কের দ্বারা কি নালন্দা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে?

প্রথমে আসা যাক রাজা শশাঙ্কের(৫৯০-৬২৫) প্রসঙ্গে। প্রাথমিকভাবে (সম্ভবত) গুপ্তদের অধীন এই মহাসামন্ত একসময় হয়ে ছোট ছোট বেশ কিছু রাজ্যকে জুড়ে হয়ে ওঠেন বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি। প্রতাপশালী এ শৈব রাজা রাজত্বকে টেনে নিয়ে যান উড়িষ্যা পর্যন্ত। অভিযান পরিচালনা করেন মগধেও। উত্তরের মৌখরিদের সাথে শত্রুতার জের ধরে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়েন থানেসরের পুষ্যভূতিদের সাথেও। ঘটনাক্রমে তাকে অবতীর্ণ হতে হয় হর্ষবর্ধনের সাথে এক ঐতিহাসিক অমীমাংসিত যুদ্ধে। এই শশাঙ্কই আজকের পর্বের অন্যতম 'সম্ভাব্য খলনায়ক'-হিউয়েন সাং যাকে বলেছেন 'বিষাক্ত গৌড় সাপ'।



হিউয়েন সাং ও বাণভট্টের লেখনীতে রাজা শশাঙ্ক চরম বৌদ্ধবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন মূলত তার মগধ অভিযানের জন্য। ক্ষমতাবলয়কে উত্তরে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে মগধে পরিচালিত এ সামরিক অভিযানে নালন্দাকেন্দ্রিক বহু বৌদ্ধমন্দির-বিহার ধ্বংসের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। হিউয়েন সাং-এর বৃত্তান্ত অনুযায়ী রাজা শশাঙ্কই নালন্দার অনতিদূরে অবস্থিত বোধিগয়ায় অবস্থিত পবিত্র বোধিবৃক্ষের বিটপ ধ্বংস করেন,যার নিচে বসে গৌতম বুদ্ধ বোধিসত্ত্ব লাভ করেন! শুধু তাই নয়, গৌতম বুদ্ধের পদচিহ্নকে ধ্বংস করেন/ গঙ্গাজলে নিক্ষেপ করেন। জেনে নেওয়া যাক খোদ হিউয়েন সাং-এর বক্তব্য- "Lately Sasanka-raja,when he was overthrowing and destroying the law of Buddha, forth with came to the place where that stone is for the purpose of destroying the sacred marks (গৌতমবুদ্ধের পদচিহ্ন). Having broken it into pieces, it came whole again, and the ornamental figures as before; then he flung it into the river Ganges.In later times,Sasanka-raja, being a believer in heresy, slandered the religion of Buddha and through envy destroyed the convents and cut down the Bodhi tree (বোধিগয়ায় অবস্থিত বোধিবৃক্ষ), digging it up to the very springs of the earth; but yet be did not get to the bottom of the roots. Then he burnt it with fire and sprinkled it with the juice of sugar-cane, desiring to destroy them entirely, and not leave a trace of it behind." [সূত্র ১]

শশাঙ্কের মগধ অভিযানে নালন্দাকেন্দ্রিক মগধের বৌদ্ধস্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ব্যাপারে হিউয়েন সাং ও বাণভট্টের বক্তব্যে কোন অস্পষ্টতা নেই বটে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খোদ নালন্দাতে কি এর কোন আঁচ পড়েনি? হিউয়েন সাং রাজা শশাঙ্কের ধ্বংসযজ্ঞ বর্ণনায় 'বৌদ্ধস্থাপনাসমূহ' ধ্বংস হবার কথা বলেছেন,আলাদা করে নালন্দার কথা উল্লেখ করেন নি(ঠিক যেমনটি মিহিরকুল বা বখতিয়ারের বেলায়ও হয়েছে)। তবে পরবর্তীতে 'পুনর্সংস্কার' করা বিহারগুলোর বিবরণে নালন্দার নাম ঠিকই আছে। ধোঁয়াশাটা এখানেই!
সুদূর কর্ণসুবর্ণ থেকে এসে মগধে বোধিগয়া পর্যন্ত যিনি পৌঁছেছিলেন, তিনি কি ষাট মাইল দূরের নালন্দায় আঘাত হানবেন না? ব্রিটিশ আমলে নালন্দার ধ্বংসাবশেষ নিয়ে গবেষণা করা ব্রিটিশ গবেষক H. Heras লিখেছেন,"....Hence we cannot imagine this kin (Shashanka) going from the Ganges to Gaya and passing so near Nalanda, the greatest centre of Buddhism in those days, without leaving there the effects of his bigotry. That most likely was a new occasion on which the buildings of Nalanda were razed to the ground and its inhabitants murdered or dispersed." [সূত্র ১,পৃ.১৫]



প্রশ্ন উঠতে পারে হিউয়েন সাং ও বাণভট্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে। হিউয়েন সাং নিজে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু; বোধিবৃক্ষ উৎপাটন এবং বুদ্ধের পবিত্র পদচিহ্ন ধ্বংসের বিবরণ দিতে গিয়ে তার 'আবেগ প্রশমনে ব্যর্থতা'র দিকে আঙুল তুলে অনেক ভারতীয় পন্ডিতই শশাঙ্ক সম্পর্কে হিউয়েন সাং এর মূল্যায়নকে আমলে নিতে চান না কিংবা এড়িয়ে যান। হিউয়েন সাং-এর বিবরণ কিছুটা অতিরঞ্জিত যদিও হয়েও থাকে,তবু তার বিরুদ্ধে মগধে নালন্দা বলয়ের বৌদ্ধস্থাপনাগুলো ধ্বংসের অভিযোগকে কি এতটা অবহেলে 'বানোয়াট' বলা যায়? হিউয়েন সাং কিন্তু বৌদ্ধধর্মের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার জন্য সময়ে সময়ে নিজ সম্প্রদায়কেও তুলোধুনো করতে ছাড়েননি। আর তাছাড়া সাত শতকের উত্তর-পূর্ব ভারতের যেকোন রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সাং এর কথা তুলতেই হয়। অন্যদিকে বাণভট্ট স্বয়ং শৈব ধর্মের অনুসারী।

অবশ্য শশাঙ্কের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য একটা মোক্ষম যুক্তিও রয়েছে। তা হলো শশাঙ্কের আমলেই রাজধানী কর্ণসুবর্ণের সন্নিকটেই রক্তমৃত্তিকা বিহারের উপস্থিতি। নিজ রাজধানীর কাছেই বৌদ্ধবিহারে আঘাত না হেনে কেন তিনি মগধ যাবেন সেখানকার বৌদ্ধস্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে আসতে? এটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে শশাঙ্কের মগধ অভিযানের কারণ বৌদ্ধ-বিদ্বেষ নয়; বরং নালন্দাকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব ভারতে পুষ্যভূতি বা অন্যদের দ্বারা বৌদ্ধপ্রভাববলয় বিস্তৃত হয়ে গৌড় পর্যন্ত যেন পৌঁছাতে না পারে,সে জন্যই হয়তো শশাঙ্ক এ নিষ্ঠুর ও ধ্বংসাত্মক নীতি অবলম্বন করেছিলেন।



এবার আসা যাক শশাঙ্কের প্রতিদ্বন্দ্বী হর্ষবর্ধনের(৬০৬-৬৪৭) প্রসঙ্গে। ভ্রাতা রাজ্যবর্ধনের হত্যাকান্ডের পর তিনি থানেসরের রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। পরবর্তীতে কনৌজে অভিন্ন শক্তির হাতে নিহত ভগ্নিপতি গ্রহবর্মনের শূন্য সিংহাসনও কব্জা করে মোটামুটি বিশাল এক সাম্রাজ্যের অধিপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কাজেই উদ্ভূত পরিস্থিতি হর্ষের জন্য 'শাপে বর' গোছেরই হয়তো ছিল। তদুপরি, শশাঙ্কের নাকের ডগায় কামরূপের(বর্তমান আসামের দিকে) রাজা ভাস্কর বর্মনের সাথে সন্ধি করে পূর্ব ভারতেও নিজের অবস্থান পোক্ত করে নেন। একের পর এক রাজ্যজয়/সন্ধির মাধ্যমে মগধসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশাল একটি অংশকে নিজের সাম্রাজ্যের আওতায় নিয়ে আসেন। অবশ্যসম্ভাবীভাবে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন গৌড়াধিপ শশাঙ্কের সাথে।এসময়টিতে ব্রাহ্মণ-বৌদ্ধ দ্বন্দ্ব ও সংঘাতও চরমে ওঠে। গণহারে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণদের যথাক্রমে উত্তর ও পূর্বে আশ্রয়গ্রহণ,সে সময়কার সাহিত্য রচনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট। রাজা হর্ষবর্ধন মহাযান বৌদ্ধ দর্শনের প্রচারের জন্য কনৌজে 'মহাসংগীতি সভা' আয়োজন করলে সেখানে স্থানীয় হিন্দু ব্রাহ্মণরা বিদ্রোহ করে বসেন;হর্ষ অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এ বিদ্রোহ দমন করেন; প্রাণ হারান বহু ব্রাহ্মণ। একটি প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে,ব্রাহ্মণ-বৌদ্ধ এ সংঘাতকালে নালন্দায় সহ-অবস্থানরত বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণদের মাঝে পরিস্থিতি কি ছিল?



একটা কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার বলে রাখা ভালো, সভাকবি বাণভট্টের প্রথম দিককার লেখনীতে হর্ষ কিন্তু শৈব(শিব পূজারি) হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। তবে পিতা প্রভাকরবর্ধন ছিলেন সূর্যপুজারি ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রাজ্যবর্ধন ছিলেন বৌদ্ধমতাবলম্বী। কাজেই নিতান্তই বৌদ্ধধর্মের প্রতি অনুরাগ নাকি মগধ ও উত্তরপূর্ব ভারতের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মন জয়- হর্ষের বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। স্পষ্টতই, রাজা শশাঙ্ক ও রাজা হর্ষবর্ধন হিন্দুত্ববাদ ও বৌদ্ধত্ববাদের আড়ালে আসলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলেরই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এ যুদ্ধের ডামাডোলে নালন্দার মূল শিক্ষালয় ক্ষতিগ্রস্ত হোক অথবা নাহোক,নালন্দা বলয়ের বৌদ্ধস্থাপনাগুলো নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নির্জীব স্থাপনা ছাড়িয়ে, মগধ ও বাংলায় মহাযানী বৌদ্ধ ও হিন্দু ব্রাহ্মণদের মাঝে স্থায়ী দ্বন্দ্বের বীজ উপ্ত হয়েছিল-শশাঙ্ক-হর্ষ অমীমাংসিত রাজনৈতিক দ্বৈরথের সবচেয়ে বড় ক্ষতি বোধহয় এটাই ছিল।



বৌদ্ধ-ব্রাহ্মণ দ্বন্দ্বের জেরে নালন্দা/নালন্দার গ্রন্থাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে?

এবার একটু অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। নালন্দার প্রধান গ্রন্থাগার 'ধর্মগঞ্জ'এ অগ্নিকান্ডের একাধিক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইচ্ছাকৃত একটি অগ্নিসংযোগের কথা বৌদ্ধভিক্ষু সুম্পা কানের লেখা 'Pag Sam Jon Zang' এ জানা যায়(আঠারো শতকে তিনি মূলত বেশ কিছু প্রাচীন তিব্বতি গ্রন্থ সংকলন করেন)। তিব্বতি ভাষায় লেখা মূল বইটির সারসংক্ষেপে ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডি.এন ঝা লিখেছেন, "During the consecration of the temple built by Kakutsiddha at Nalendra [Nalanda] “the young naughty sramanas threw slops at the two tirthika beggars andkept them pressed inside door panels and set ferocious dogs on them”. Angered by this, one of them went on arranging for their livelihood and the other sat in a deep pit and “engaged himself in surya sadhana” [solar worship] , first for nine years and then for three more years and having thus “acquired mantrasiddhi” he “performed a sacrifice and scattered the charmed ashes all around” which “immediately resulted in a miraculously produced fire”, consuming all the eighty four temples and the scriptures some of which, however, were saved by water flowing from an upper floor of the nine storey Ratnodadhi temple." [সূত্র ৩]
'তীর্থিকা ভিক্ষু' বলতে হিন্দু ভিক্ষু বা ব্রাহ্মণদের বোঝানো হতো। এখানে লক্ষণীয় বিষয় যে,দুজন মাত্র হিন্দু ভিক্ষু বা ব্রাহ্মণ অপমানিত হয়ে নয়/বারো বছর 'সূর্য সাধনা' করে মন্ত্রসিদ্ধি লাভ করে নালন্দার ৮৪ টি মন্দির ও গ্রন্থাগারে একযোগে অগ্নিসংযোগ করেন-খোলাচোখে এটা হয়তো যুক্তিগ্রাহ্য নয়। বর্তমানে ভারতীয় ঐতিহাসিকদের মধ্যে ডি এন ঝা ব্যতীত অধিকাংশই তাই ব্রাহ্মণদের হাতে নালন্দায় অগ্নিকান্ডের এ বর্ণনাকে আমলে নিতে চান না। কিন্তু তাই বলে এ ধরণের কোন একটি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কিছু ব্রাহ্মণের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাকে কি একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় ? এমনটিও তো হতে পারে, কোন এক বৌদ্ধ-ব্রাহ্মণ সংঘাতের জের ধরে নালন্দায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল,কালক্রমে তাই অতিকথিত হয়ে তিব্বতি লেখকের গ্রন্থে মিথ/কিংবদন্তির অবয়বে স্থান পেয়েছে। বিশেষত,চীন ও তিব্বতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনা তিব্বতি নথিপত্রে মিথ আকারে উল্লেখিত হয়েছে-এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। যা রটে,তা কিছু তো বটে। যাহোক,এ অগ্নিসংযোগের সম্ভাব্য সময়কাল পরবর্তী পর্বে খোলাসা করা হবে।



এবার আরেকটি তিব্বতি/চীনা সোর্সের বিবরণ নিয়ে কথা বলা যাক। যদিও এটি যথেষ্টই বিতর্কিত এবং 'বানোয়াট চীনা(তিব্বতি) মিথ' হিসেবে অনেক পন্ডিতই অগ্রাহ্য করেন। তবে হ্যান্স বেকারের The World of the Skandapurana(পৃষ্ঠা:১২৮), ডি ডি কোসাম্বি The Culture and Civilisation of Ancient India in Historical Outline(পৃষ্ঠা:১৮০), এস এন সেনের Ancient Indian History and Civilization (পৃষ্ঠা:২৬১) গ্রন্থগুলোতে এটি উল্লেখ করা হয়েছে। কনৌজের মহাসংগীতিসভায় ব্রাহ্মণ হত্যাসহ নানাবিধ কারণে হর্ষবর্ধনের প্রতি স্থানীয় ব্রাহ্মণদের ক্ষোভ থাকার যথেষ্ট কারণ ছিল। আলোচ্য মত অনুযায়ী,হর্ষের মৃত্যু হয়েছিল কোন এক ব্রাহ্মণ গুপ্ত ঘাতকের হাতে। অতঃপর কনৌজের সিংহাসন বাগিয়ে নেন হর্ষেরই অনুগত ও চুক্তিবদ্ধ এক রাজা A-lo-na-shun। খুব সম্ভবত এই A-lo-na-shun ছিলেন তীরহূতের রাজা অর্জুন ; যিনি হর্ষবর্ধনের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন। ব্রাহ্মণদের প্রতি 'অত্যাচারী' রাজা হর্ষের মৃত্যু ও স্বধর্মী রাজা অর্জুনের সিংহাসনে আরোহনের পরপরই উগ্র ব্রাহ্মণদের একটি দল দীর্ঘকাল হর্ষবর্ধনের পৃষ্ঠপোষকতা ও মনোযোগ পেয়ে আসা নালন্দায় আক্রমণ করেন এবং অগ্নিসংযোগ করেন। পরবর্তীতে রাজা অর্জুন কর্তৃক আক্রান্ত হওয়া থেকে রেহাই পেতে চীনা প্রতিনিধি Wang Hiuen Tsee নেপালে পালিয়ে যান এবং নেপালের তৎকালীন রাজাকে অবহিত করেন। নেপালের রাজা অর্জুনকে পাল্টা আক্রমণ করেন এবং বন্দি করেন। অতঃপর তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত নালন্দাকে পুনরায় সংস্কার করেন।[সূত্র ৬,৭]----এই মতবাদটি খুবই বিতর্কিত, কেননা এটি হর্ষের মৃত্যু,উত্তরাধিকার সম্পর্কে 'প্রচলিত ইতিহাসের' সাথে সাংঘর্ষিক। তবে এ বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার,ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীন যুগের,বিশেষত নয় শতকের আগ পর্যন্ত কথিত ইতিহাসগ্রন্থগুলো অনেকটাই পৌরাণিক স্টাইলে লিখিত। অপর একটি উৎস- রাজাদের জীবনচরিত ও রাজলিপিগুলো; কিন্তু খুব স্বাভাবিকভাবেই এগুলোর অধিকাংশই নির্দিষ্ট রাজার স্তুতিতে ভরপুর; অনেকক্ষেত্রে পরস্পর সাংঘর্ষিক। কাজেই এত এত মত-পথের ভিড়ে স্রোত যেদিকে বয়েছে, বর্তমানের ইতিহাসের বইগুলো সেভাবেই লেখা হয়েছে, এখানে শেষ কথা বলে কিছু নেই। কিন্তু নালন্দার বৌদ্ধবলয়ের সাথে তিব্বতি বৌদ্ধবলয়ের ঐতিহাসিক ও নিবিড় সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে তিব্বতি এই সোর্সগুলোর যথেষ্ট মনোযোগ পাওয়ার আবেদন রাখে বৈ কি। তাছাড়া মোটিভের কথাটাও ভেবে দেখলে ব্রাহ্মণদের দ্বারা নালন্দার ক্ষতিগ্রস্ত হবার ক্ষেত্রে হর্ষবর্ধনের প্রতি ক্ষোভ বেশ শক্ত একটা মোটিভ হতে পারে।



পালযুগের অন্তে কেন স্থানীয় রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা হারায় নালন্দা?

মাৎস্যন্যায়ের যুগের অন্তে মহাযানী বৌদ্ধ গোপালের হাতে পাল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন নালন্দার জন্য একটি লাইফলাইন হিসেবে এসেছিল। পাল রাজারা বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য- উভয় ধর্মেরই পৃষ্ঠপোষকতা করেন ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ব্যাপারে উদার ছিলেন। পালযুগে নালন্দায় উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতি ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। নালন্দা থেকে প্রাপ্ত অধিকাংশ নিদর্শনই পালযুগের;সেখানকার দেয়ালচিত্রে বৌদ্ধ ও হিন্দু উভয়ধর্মের চিহ্নই পাওয়া গেছে। এসময় নালন্দায় মূলত মহাযান ও মহাযানেরই একটি শাখা বজ্রযান-এ দুই ধারার মিশ্রিত বৌদ্ধদর্শন বিকাশ লাভ করে। পালরাজারা নালন্দার আদলে জগদ্দল,ওদন্তপুরী,সোমপুর,বিক্রমশীলা-এ চারটি মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।



পালযুগের পরে ত্রয়োদশ শতকে বখতিয়ার খলজি বাংলার শাসন অধিগ্রহণের আগপর্যন্ত হিন্দু সেন রাজারা (১০৯৭-১২০৩) বাংলার একটি বড় অংশের অধিপতি ছিলেন। সেন রাজারা ধর্মীয় দিক থেকে মোটেও পালরাজাদের মত উদার ছিলেন না, জাতপ্রথার ব্যাপারে তারা অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। সেনদের সময়ে শৈব হিন্দুরা শাসকদের আনুকুল্য পায়, বৌদ্ধরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। প্রথম পর্বে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। সেনযুগে রচিত বেশ কিছু পুরান গ্রন্থ ও ব্রাহ্মণ্য আখ্যানে বৌদ্ধদের প্রতি শ্লেষ ও অকথ্য বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায়; আর যাই হোক, সেন যুগে ব্রাহ্মণ-বৌদ্ধ সম্প্রীতির টিকিটিও ছিল না,সেটা হলফ করে বলা যেতেই পারে। গণহারে বৌদ্ধধর্মগুরু/ভিক্ষুগণ তিব্বত বা নেপালে চলে যেতে থাকেন।সম্ভবত এসময়েই চর্যাপদ রচয়িতাদের অনেকে গৌড়/মগধ ত্যাগ করেন।

সেই সাথে বৌদ্ধসমাজের অধঃপতনও অব্যাহত থাকে। স্বয়ং হিউয়েন সাং সাড়ে তিনশত বছর আগেই ভারতে বৌদ্ধধর্মের ক্রমপতন দেখে গেছেন। তাঁর সময়েই বৌদ্ধদের ১৮ টি গোত্রের মাঝে বিরোধ ও মৌলিক স্বাতন্ত্র্য দাবির কথা তিনি উল্লেখ করেন। সাড়ে তিনশ-চারশো বছর পর বৌদ্ধ রাজাদের আনুকূল্য ও পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়ে শৈব/হিন্দু রাজাদের আমলে বৌদ্ধধর্মে যে অন্তঃকলহ আরো কতটা ব্যাপকতা লাভ করবে সেটা সহজেই অনুমেয়। সে সময়কার অনেক বড় বড় বৌদ্ধধর্মগুরু ও পন্ডিতদের প্রচলিত বৌদ্ধ নীতি ও আদর্শের বাইরে গিয়ে স্থানীয় শাসক গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে বা আনুকূল্য লাভের চেষ্টা করতে দেখা যায়। কিছুটা নিম্নস্তরের বৌদ্ধসমাজে গৌতমবুদ্ধের আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক তন্ত্রসাধনা বিস্তার লাভ করে। সবমিলিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রভাববলয়ের মৃত্যু বা ধ্বংস একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। নালন্দা গৌড়ের সীমানার বাইরে হলেও সেন রাজাসহ সমসাময়িক অন্যান্য রাজারা হরহামেশাই নালন্দায় প্রভাব খাটাতে চেয়েছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই নালন্দায় বৌদ্ধদর্শন চর্চায় স্থবিরতা নেমে আসে; মহাযানী বৌদ্ধদের স্থলে হিন্দু ব্রাহ্মণরাই অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন; কিন্তু হর্ষবর্ধন বা পালরাজাদের মত সেযুগে আর তেমন কোন স্থানীয় রাজা-শাসক নালন্দার পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসেন নি। স্থানীয় শাসকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও সম্ভবত সুদূর নেপালের রাজার সুদৃষ্টি অবশ্য নালন্দা পেয়েছিল। তাই গুরুত্ব হারালেও মৃতপ্রায় অবস্থায় কোনমতে নালন্দা টিকে ছিল তুর্কিদের আসার আগ পর্যন্ত। তবে বখতিয়ারের মাত্র কিছুকাল পূর্বে এগারো শতকেই স্থানীয় এক রাজার মগধ অভিযানে নালন্দার বিধ্বস্ত হবার উল্লেখ কিন্তু অপর একটি তিব্বতি টেক্সটে রয়েছে। [সূত্র ৩] যার সাথে বখতিয়ারের অভিযানকে গুলিয়ে ফেলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে! পরবর্তী পর্বে এ সম্পর্কে আরো তথ্য থাকছে।

একটা বিষয় অবশ্যই বিবেচ্য, নালন্দা কোন ধনভান্ডার নয়- এটা একটি বিহার এবং শিক্ষালয়; কাজেই এর পতনের জন্য বখতিয়ার বা অনুরূপ কারো দ্বারা বিধ্বস্ত হয়ে 'অপঘাতে মৃত্যু' খুব জরুরি নয়। সময়ের স্রোতে গুরুত্ব ও জৌলুস হারিয়ে ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে 'স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত মৃত্যু'ও খুব সম্ভব। আর ভারতে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ও জৌলুস হারানো কিংবা স্থানীয় রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়া-কোনটির দায়ই বিদেশি কোন শক্তির উপর বর্তায় না। তবে নালন্দার গ্রন্থাগারে থাকা নব্বই লক্ষ বই নিশ্চয়ই রাতারাতি হাপিস হয়ে যেতে পারে না; সেজন্যই একজন/একদল বিধ্বংসী খলনায়ককে ইতিহাসের প্র‍য়োজন। আর তাই কেবল মিনহাজ ও ধর্মস্বামীর বৃত্তান্তের ভিত্তিতে(উভয়ের নির্ভরযোগ্যতা যথেষ্টই প্রশ্নবিদ্ধ) বখতিয়ারকেই একমাত্র দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। অথচ এক দফায়ই সকল বই ধ্বংস হয়েছে,এমনটা তো না ও হতে পারে। উপরে উল্লেখিত তিব্বতি/চীনা সোর্সগুলো আমলে নিলে বলতেই হয়,অন্তত এক দফায় স্থানীয় ব্রাহ্মণদের দ্বারা নালন্দার/নালন্দার গ্রন্থাগারের ক্ষতিগ্রস্ত হবার যথেষ্ট মোটিভ ছিল। যেহেতু তিব্বতি বৌদ্ধবলয়ের মূল উৎসভূমি নালন্দা-এটা একরকম অবিসংবাদিতভাবে প্রমাণিত;সেহেতু প্রাচীন তিব্বতি নথিপত্রগুলো(যেগুলোর একটা বিরাট অংশ এখনো অনুবাদ করা হয় নি) নালন্দার উত্থান-পতন সম্পর্কে অনেক রহস্যের উন্মোচন করতে পারে বৈ কি। কিন্তু সে বিষয়ে অধিকতর গবেষণা করার দায় যাদের , তাদের যথেষ্ট সদিচ্ছা কিংবা সদিচ্ছা থাকার যথেষ্ট কারণ আছে কি?

তথ্যসূত্র:
১)Journal of the Bihar and Orissa Research Society, PART I. Vol. XIV 1928 pp. 1-23
২)Nalanda University: When History Is Not History
৩)How history was unmade at Nalanda-DN Jha
৪)Chapter 13: The Rein of Harsha
৫)Buddhist shrines massively destroyed by Brahmanical rulers in "pre-Islamic" era: Historian DN Jha's survey
৬)নালন্দা ধ্বংসে বখতিয়ার খিলজি: ইতিহাসের নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে
৭)নালন্দা পতন বা ধ্বংসের ইতিহাস: মূল কারণ কি ছিল?
ছবিসূত্র: গুগল।(যুদ্ধের ছবিগুলো রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে)

.......................................................................................................................................................................



২০০৬ সালে ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা তাঁর প্রেসিডেন্সিয়াল ভাষণে কিছু তিব্বতি রেফারেন্স উল্লেখ করে স্থানীয় কিছু উগ্রবাদীর দ্বারা নালন্দা ও নালন্দার গ্রন্থাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে-এমন বক্তব্য ও যুক্তি পেশ করে একটি বিশেষ মহলে ব্যাপক সমালোচিত হন। কেবল মিনহাজ-ধর্মস্বামীর বক্তব্য নিয়ে পড়ে না থেকে তিব্বতি সূত্রগুলো অনুসন্ধান ও গবেষণায় মনোযোগী হতে জোর দেন তিনি। কিন্তু অচিরেই এ বর্ষীয়ান ঐতিহাসিককে 'নালন্দা মেন্টর গ্রুপ' থেকে অপসারণ করা হয়। এছাড়াও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ প্রফেসর 'The Myth of The Holy Cow' গ্রন্থে কিছু বৈদিক বিবরণের সহায়তায় প্রাচীন ভারতে ব্রাহ্মণদের গো-মাংস ভক্ষণ প্রমাণে যুক্তি উপস্থাপন করেন। এজন্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তিনি উগ্রবাদীদের কাছ থেকে হত্যার হুমকিও পেয়েছেন। সবশেষ ২০১৮ সালে ডি এন ঝার লেখা বেশ কিছু তিব্বতি রেফারেন্সসহ "Against the Grain: Notes on Identity, Intolerance and History" বইটি প্রকাশিত হলে নালন্দা ধ্বংসের বিকল্প সম্ভাবনাগুলো আলোচনায় আসে। বলাই বাহুল্য, এ দফায়ও তিনি বিশেষ একটি মহলে ব্যাপক সমালোচিত হন। উল্লেখ্য,নালন্দা ধ্বংসের নেপথ্য কারণ নিয়ে বিতর্ক ইতোপূর্বে ভারতের আইনসভা পর্যন্ত পৌঁছেছিল,যেখানে স্বনামধন্য দুই সাংসদ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পেশ করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:২৬
২০টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার লেখা প্রথম বই

লিখেছেন ফারহানা শারমিন, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৩



ছোটবেলা থেকেই প্রচন্ড রকম কল্পনাপ্রবণ আমি। একটুতেই কল্পনাই হারিয়ে যাই। গল্প লেখার সময় অন্য লেখকদের মত আমিও কল্পনায় গল্প আঁকি।আমার বহু আকাংখিত বই হাতে পেয়ে প্রথমে খুবই আশাহত হয়েছি। আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- নয়

লিখেছেন করুণাধারা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০২



আগের পর্ব: নতুন জীবন- আট

অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমার বোন পেট্রার জন্মকে স্বীকৃতি দেয়া হল। আমাকে জানানো হল আমার একটা বোন হয়েছে। আমি বোন দেখতে গেলাম, দেখি মায়ের পাশে ছোট একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন নীল আকাশ, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩৬



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×