থৈ থৈ জোছনায় ভেসে যাচ্ছে বারান্দা।
কি হয়েছে কে জানে! বারন্দার কার্নিশ ঘেঁসে দাঁড়িয়ে শরীর কাঁপিয়ে হাসছে নিতু। আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি! এত সুন্দর কি করে হয় মানুষ! জারুল পাতার ফাঁক গলে ক'ফালি জোছনা এসে পড়েছে নিতু'র মুখে। আমি অফুরন্ত মুগ্ধতায় বুঁদ হয়ে বললাম, 'তুমি কি জানো? তুমি এই অদ্ভুত পূর্ণিমার মুগ্ধ চাঁদের মতন?'
নিতু মাথা নেড়ে বলল, 'জানি'।
আমি বললাম, 'সত্যি জানো?'
নিতু হঠাৎ গম্ভীর হয়ে বলল, 'হু, এই চাঁদ আর আমার মধ্যে সত্যিই কোন তফাৎ নেই।অবিকল এক'।
নিতুর গলাটা কেমন কাঁপছে। চোখের কোণায় কি কিছু জমছে? আমি ওর হাতটা আমার হাতের মুঠোয় নিয়ে বললাম, 'জানো? আজকের চাঁদটা আর সব চাঁদের চেয়ে অনেক বড়। কি অপূর্ব জোছনা দেখেছ! কি অসাধারণ! পৃথিবীতে এরচেয়ে সুন্দর আর কি আছে?'
নিতু একবার চাঁদটার দিকে তাকাল। একবার আমার দিকে। তারপর ভীষণ ঠাণ্ডা গলায় বলল, 'আমরা শুধু জোছনাটাই দেখি, চাঁদের দহনটা দেখি না, দেখি?'
আমি অবাক চোখে নিতুর দিকে তাকালাম। সে ফিসফিস করে বলল, 'সবাই যেমন আমার হাসি দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকায়, হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কান্নাগুলো কখনও কেউ দেখে না। তেমনি চাঁদেরও। আমরা কেবল চাঁদের অদ্ভুত সুন্দর জোছনাটাই দেখি। ভয়াবহ সূর্যতাপে পুরে যাওয়া তার দহনটা আর দেখি না। দেখি?'
আমি স্থানুর মতন দাঁড়িয়ে রইলাম। কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেলাম না। নিতুর চোখের কোণায় জমে থাকা সেই কিছু একটা গলে গলে পড়ছে গাল বেয়ে। নীতু হাসছে শরীর কাঁপিয়ে।
চাঁদের দহন জোছনায় মাখামাখি হয়ে ইথারে ইথারে ভেসে যাচ্ছে তার অদ্ভুত হাসি...
----------------------------------------------------------------------------
দহন/ সাদাত হোসাইন
১০/০৮/২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


