somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এপোলো তোমাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা!

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৬ সাল, তখন আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করি৷ দিনের কাজ শেষে গুলশান-২ এর একটি রেস্তোরায় বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি৷ আমার অফিস কলিগ এহসানের ভাইয়ের সাথে তার ছেলেবেলার বন্ধু এপোলো ভাইও আছেন, তিনি খুলনা থেকে এসেছেন৷ আড্ডায় জানতে পারলাম এপোলো ভাই দক্ষিন কোরিয়া যেতেই এবার ঢাকায় এসেছেন৷ এপোলো ভাই খুলনার সম্ভ্রান্ত ফ্যামিলির ছেলে, আর্থিক অবস্থা মোটামুটি, ফ্যামিলির আর্থিক অসচ্ছলতা বিবেচনায় এনে তিনি প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷

ছয়মাস পর আমাকে ব্যক্তিগত কাজে দ: কোরিয়া যেতে হয়েছিল৷ যদি সুযোগ হয় তাহলে এপোলো ভাইয়ের সাথে দেখা করা যাবে, এই ভেবে এহসান ভাইয়ের কাছ থেকে এপোলো ভাইয়ের এড্রেস নিয়েছিলাম৷ সউলে যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম, রেস্তোরা, দোকান, রেল থেকে শুরু করে সপিং সেন্টার সব জায়গায় দুর্বল ভাষাগত সমস্যার কারণে এপোলো ভাইকে আমার ভীষণ দরকার৷ এপোলো ভাইকে ফোন করতেই তিনি একেবারে খুশিতে চমকে উঠলেন৷ সেদিন বিকেল থেকেই আমরা সউলের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে শুরু করলাম৷

ছয়মাসে কোরিয়ান ভাষা জানা এবং বিভিন্ন জায়গা চেনা যে কোন মানুষের জন্য অসম্ভব৷ কিন্তু এপোলো ভাই যেভাবে কোরিয়ান ভাষায় কথা বলছেন তা দেখে আমার মনে প্রশ্ন জন্ম নেয়া স্বাভাবিক৷ শেষ পর্যন্ত জানতে পারলাম তিনি এখানে এর আগেও এসেছেন, দীর্ঘ ৮ বছর অবৈধ অভিবাসনে থাকা অবস্থায় ধরা পরে দেশে ফিরে গেছেন, আবার এবারও অবৈধ ভাবেই ফিরে এসেছেন৷ থাকছেন আন্ডার গ্রাউন্ড স্যাঁতসেঁতে একটি ঘরে যেখানে দিনের আলোতো দুরের কথা নি:শ্বাস নেওয়ার মত পর্যাপ্ত বাতাসও প্রবেশ করতে পারেনা৷ পরিবারের সকলের সুখের জন্য নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন বছরের পর বছর৷ দেশে পাঠাচ্ছেন মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা, নিজের সুখের বিনিময়ে অবদান রাখছেন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে৷

দ: কোরিয়ায় অবস্থানের সময় এপোলো ভাইয়ের মত এমন অনেক এপোলোদের সাথে পরিচয় হয়েছে৷ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন এমন লক্ষ লক্ষ এপোলোরা৷ এমন লক্ষ লক্ষ এপোলো তাদের জীবনের হাসি কান্নাগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এমন করেই উৎসর্গ করছেন৷ এপোলোদের আত্মত্যাগে বাংলাদেশের ইউএস ডলারের রিজার্ভ দিন দিন বেড়েই চলছে৷ কিন্তু আমরা কি কখনো এপোলোদের এই আত্মত্যাগের কথা স্বরণ করি? আসুন লক্ষ লক্ষ এপোলোদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, নিজের অনুভুতিগুলো শেয়ার করি৷

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসি ছাড়াই ঘর থাকবে বরফ শীতল: মেনে চলুন বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিপস

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬


তীব্র তাপপ্রবাহে (Heatwave) জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন ঘর ঠান্ডা রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ঘর শীতল রাখতে যে সবসময় এসির (Air Conditioner) প্রয়োজন হবে, তা নয়। বিশেষজ্ঞরা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুল শুধু ভুল, আমি কি করছি ভুল?

লিখেছেন রবিন.হুড, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

আমি টাকার পিছনে না ছোটার কারনে আমার হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় সে সময়টুকু সামাজিক কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করছি। আবার বিলাসিতা পরিহার করার কারনে অল্প কিছু টাকা সাশ্রয় করছি যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×