somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝুলন্ত পাটের রশি

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এক দেশে এক রাজা ছিলো মোটাসোটা, বোকাসোকা।
রাজা হবুচন্দ্রের মত, আর তার মন্ত্রী ছিলো গবুচন্দ্রের মত....! কিন্তু রাজার রানী ছিলেন খুব বুদ্ধিমতি, বিচক্ষণ, রাজা তার রানীকে খুব ভালবাসতেন।

রাজার শখ হলো রানীকে নিয়ে সমুদ্র ভ্রমনে যাবেন।
রাজা তো আর আমাদের মতো আমজনতা না, যে কোন জাহাজে উঠেই, "মাঝি বাইয়া যাওরে গান গাইতে গাইতে ভ্রমন করবেন।"
রাজা বলে কথা, মন্ত্রীকে খবর দিয়ে বলা হলো, "রাজ কোষাগার থেকে যত মোহর লাগে নিয়ে, সোনা, রুপা, মনিমুক্তা খচিত জাহাজ তৈরি করতে...।"

যেই কথা সেই কাজ, চোখ ধাঁধানো সেই জাহাজ তৈরি হতে ছয় মাস ছয় দিন সময় লাগলো।
প্রতিদিন রাজ্যের প্রজারা সেই চোখ ধাঁধানো জাহাজটা দেখতে যায়, ঝলমলে জাহাজটা দেখে আর অবাক হয়....!
শুভ দিনক্ষণ দেখে রাজা, রানীকে নিয়ে জাহাজে চড়লেন। আগে তো বডিগার্ড ছিলো না তাই নিজেদের সেফটির জন্য প্রধান সেনাপতিকে নিলেন, মন্ত্রীকেও সাথে নিলেন।
রানী যদি অসুস্থ হয়ে যায় তাই রাজ বৈদ্যকেও নিলেন।
আর নিলেন জল্লাদকে,যদি কারও গর্দান নিতে হয়...….!
রাজা জাহাজ দেখে খুব খুশি হলেন, তবে টেনশনে আছেন রানীর পছন্দ হবে কি না।
রানীরও জাহাজ পছন্দ হলো, যাক রাজা এবার মহাখুশি...।

রানীকে ঘুরে ঘুরে জাহাজ দেখাচ্ছেন, হঠাৎ জাহাজ থেকে সমুদ্রের দু'হাত উপরে ঝুলে থাকা একটা রশি দেখে রাজা চিৎকার করে উঠলেন, "এত সুন্দর মনিমুক্তা খচিত জাহাজে পাটের রশি ঝুলে আছে কেন...?"
মন্ত্রীকে ডাকা হলো, মন্ত্রী নিজেও জানে না এই রশি কিভাবে এখানে এলো? হয়তো জাহাজ নির্মাণের সময় কোন শ্রমিক এটাতে ঝুলে কাজ করেছে, পরে খুলতে ভুলে গেছে। এখন রাজাকে একথা বলে রেহাই পাওয়া যাবে না।
বোকা মন্ত্রীর মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো বললো," মহারাজ আপনি বা রানী যদি পড়ে যেতে নেন, তাহলে যেন এই রশি ধরে ঝুলে থাকেন তাই এটা ঝুলানো হয়েছে..!"
বোকা রাজা তার বোকা মন্ত্রীর কথায় খুব খুশি হলেন, "যাক মন্ত্রী আমার আর রানীর সেফটির কথা ভেবেছে।
রাজা খুশি হয়ে বাংলা সিনেমার রাজাদের মত, তার গলার মুক্তার মালা মন্ত্রীর দিকে ছুড়ে মারলেন।"
মন্ত্রী তার সব গুলো দাত বের করে হাসি দিয়ে, মালাটা ক্যাচ নিল।
রাজা রানী সমুদ্র দেখছেন আর মুগ্ধ হচ্ছেন, "আহা কি সুন্দর, কি সুন্দর...!"

হঠাৎ রানীর গা গুলিয়ে, মাথাটা কেমন করে উঠলো।
আরে না, অন্য কিছু না একে বলে 'মোশান সিকনেস'। জার্নি করলে দুলুনিতে অনেকসময় এমন হয়, আমাদের অনেকের বাস জার্নি করলেও এমনটা হয়।
রানীর হচ্ছে জাহাজ জার্নিতে, তখন তো বমির ট্যাবলেট , মাথা ব্যাথার ট্যাবলেট ছিলো না।
বৈদিককে ডাকা হলো, "উনি এসে গাছ গাছড়ার শিকড় দিয়ে ঔষধ বানিয়ে রানিকে খাইয়ে দিলেন। এবং রানীকে শুয়ে বিশ্রাম নিতে বললেন...। "

রানী বিশ্রাম নিচ্ছেন, রাজা একা একা সমুদ্র দেখছেন আর ভাবছেন," এভাবেই যদি মুক্ত বাতাসে জীবন কাটানো যেতো, কেন রাজপ্রাসাদের বন্দী জীবন...?
প্রতিদিন গৎবাধা রাজসভা, রাজকার্য আর ভাল লাগে না।"
হঠাৎ রাজার চোখ গেলো ঝুলন্ত রশিটার দিকে, চিৎকার করে মন্ত্রীকে ডাকলেন।
মন্ত্রী ভাবলো হয়তো আরেকটা মুক্তার মালা পাবে, তাই আহ্লাদে গদ গদ হয়ে এসে বললো,"কি হুকুম জাঁহাপনা....?"
রাজা অগ্নিঝড়া চোখে বললেন," মন্ত্রী, আমাদের বাঁচার জন্য আপনি যে রশিটা ঝুলিয়েছেন, সমুদ্রে জোয়ার আসলে জোয়াড়ের পানি বাড়লে রশি তো ডুবে যাবে...!
রশি ডুবে গেলে আমি আর রানী কি ভাবে ঝুলে থাকবো....?"
এবার বোকা রাজার,বোকা মন্ত্রী আর কোন উত্তর খুজে পেলেন না।
রাজা সেনাপতিকে বললেন, "সেনাপতি এখনি জল্লাদকে খবর দাও, মন্ত্রীর এত বড় স্পর্ধা আমাদের সেফটির ব্যবস্থা পুরোপুরি ভাবে করেনি...!"
জল্লাদ এসে মন্ত্রীকে হাত পিছনে বেঁধে নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসালো, মন্ত্রী কেঁদে কেঁদে বলছে, " মহারাজ আমাকে মাফ করে দিন, বাড়িতে আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে।"
জল্লাদ তলোয়ার শান দিচ্ছে, তলোয়ার শান দেওয়ার আওয়াজে আর মন্ত্রীর কান্নায় রানীর ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
রানী কেবিন থেকে দৌড়ে বের হয়ে সিনেমার নায়িকার ষ্টাইলে বললেন," না আ আ আ আ, এহতে পারে না...!
অথচ তিনি যানেন না কি হয়েছে....!
সিনেমার নায়িকারাও ঘটনা কি হয়েছে না জেনেই, না আ আ আ এ হতে পারে না বলে দৌড়ে আসে।

রানী এসে রাজার মুখে সব শুনে কিছুক্ষণ হাসলেন। তারপর বললেন, "মহারাজ, জোয়ারে পানি যতই বাড়ুক...... জাহাজ তো পানির উপরেই থাকবে আর রশিও ঝুলবে আগের মতই....!"
রাজা তার টেকো মাথা চুলকে ব্যাপারটা চিন্তা করে বললেন,
"মন্ত্রীকে ছেড়ে দাও।"

মন্ত্রী মনে মনে বললেন," বাপরে, বুদ্ধিমতি রানীর জন্য আজ বড় বাঁচা বেচে গেছি, নয়তো আজ রাজার বোকামির জন্য গর্দানটা গিয়েছিলো...!

এদিকে রাজা মনে মনে ভাবছে," হায় আল্লাহ, মন্ত্রীর বোকামির জন্য কত নিরীহ মানুষের গর্দান কাটা পড়েছে।
এবার রাজ্যে ফিরে, বিচক্ষণা, বুদ্ধিমতী রানীকে রাজসভার উপদেষ্টা বানাবেন।
রাজ্য পরিচালনার যে কোন কাজে বুদ্ধিমানের পরামর্শ নিবেন, বোকার পরামর্শ আর না......
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩৭
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসালসুল (অনন্ত পশ্চাদগমন), প্রথম সৃষ্টি ও ‘আকল’: কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সতর্ক অনুসন্ধান

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭


ভূমিকা
সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন হলো,সবকিছুর শুরু কোথায়? যদি প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার আগে আরেকটি সৃষ্ট বস্তুর প্রয়োজন হয়, এবং সেই নির্ভরতার ধারা কখনো শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×