somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগে যদি জানতামরে বন্ধু....

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এক একটা “এক্সপেকটেশন“ এ কতো কতো “ফিলিংস“ জড়িয়ে থাকে তা যদি কেউ জানতো।


বসের কাছে একগাদা ধমক খেয়ে বিকালে অফিস ছুটি নিয়েছে তারেক। গতরাতে তার বউ বলেছিল বিকালে সিনেমা দেখাতে নিয়ে যাবে কি না। সকালে অফিসে ঢুকেই তারেক ছোটখাটো একটা প্ল্যান করে ফেললো, কিভাবে কিভাবে বউকে সারপ্রাইজ দেয়া যায়। লাল গোলাপ, সিনেমা শেষে শহরের সবচে দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, একটা নীল শাড়ি। ইনিয়ে বিনিয়ে কতো কথা বলবে আজ। খুব একটা সময় দেয়া হয়না বউকে। মিষ্টি কথাগুলো শুনে বউ তার নিশ্চই কেঁদে ফেলবে। একথা ভেবে তারেকের নিজের চোখই ছল ছল করতে লাগলো। তাই বড় স্যারের ত্যারা ত্যারা কথাগুলো গায়ে মাখছে না। লাল গোলাপ হাতে নিয়েই তারেক বউকে ফোন দিল-হ্যালো তুমি একটু বাসা থেকে বেড়ুবা? অপর প্রান্ত থেকে ক্লান্ত গলা- না গো। আজ বেড়ুতে মন চাইছে না, অন্য একদিন প্লিজ। তারেক হাল ছাড়ে না- অন্যদিন নয়, প্লিজ আজি বেড়ুতে হবে। বউ এবার ঠাট্টা করে বলে-সাহেবের দেখি অনেক গোসসা। কিন্তু আজ আমি বেড়ুবো না। তারেক গোলাপের পাপড়িগুলোতে মোচড় দেয় আর মনে মনে বলে-তোমার জন্য সারাটি দিন কতো পরিকল্পনা করেছি তা যদি একটিবার জানতে।


রনি আর কবির খুব ভাল বন্ধু। কোনদিন এদের ঝগড়া ঝাটি হয়নি। অনেক বন্ধুত্বের মাঝে ইগো জাতীয় কিছু বিষয় কাজ করে। যেমন এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে রেখে ঘুরতে গেলে অন্য বন্ধুটি রাগ করে। একজনের খোজ খবর না নিয়ে অন্য কারো সাথে মাখামাখি করলে মেজাজ চটে যায়। তাদের মাঝে তেমন কিছু নাই। খবর নিলে ভাল, না নিলে নাই। রনি পরশু দিন কথা দিয়েছিল- দুজন বসে ফিজিক্সের প্রবলেমগুলো সলভ করবে। কবিরের আজ একটা জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়ার কথা। ওদের কলেজের ক্লাস ক্যাপ্টেন সেলিমের জন্মদিন ছিল। তবু কেন জানি তার হঠাৎ রনিকে সময় দিতে মন চাইলো। আসলে ফিজিক্সের প্রবলেমগুলো বড় বিষয় নয়, বহুদিন রনির সাথে আড্ডা হয় না। কবির সেলিমকে মিথ্যে বাহানা দেয়- তার আজ পেট খারাপ, বাসায় কেউ নাই, জন্মদিনের পার্টিতে আসার মতো কাপড় ধোয়া নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। কবিরের মিথ্যে বলতে ভাল লাগে না, তবু রনির সাথে বহুদিন আড্ডা দেয়া হয় না সেটাই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। দুপুরে রনির কলেজ মাঠে আসার কথা। বিজ্ঞান ভবনের সিড়িতে এগারটা থেকেই বসে থাকে কবির। কতো কথা জমা করে সে- কেমিস্ট্রি ম্যাডামকে কিভাবে ফাঁকি দিলো, পাশের বাসার ঝুমকি বেনী দুলিয়ে তাকে দেখে হেসেছে, গত শুক্রবার তার চাচার ঘরে একটা ভাই এসেছে, সিনেমা হলে নতুন ছবি, এটা সেটা আরো কতো কতো কথা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো রনি আসার নাম নেই। সন্ধ্যের একটু আগে রনি আসলো, “কিরে দোস্ত কখন এলি? আজ আর ফিজিক্স নিয়ে মাথা গরম করবো না। আমি সেলিমের জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছি। যাবি নাকি?” কেন জানি খুব রাগ লাগে কবিরের। বিষাদ যেন ভর করে সদ্য গজানো দাড়ি গোফে ভরা কচি মুখে। “তুই না কথা দিয়েছিলি রনি?” ফিক করে হেসে দেয় রনি, “ধুর পাগল, রাগ করছিস কেন? আচ্ছা যা স্যরী।” রনি জানে শত অবহেলা করলেও বা শত ঝগড়া হলেও কবির আর তার বন্ধুত্ব কখনো নষ্ট হবে না। তাই কবিরের কাঁধে হাত রেখে বলে-স্যরী বললাম তো। কবির শুধু দাঁত কিড়মিড়িয়ে ভাবে- একবার যদি জানতি তোর জন্য কতো মিথ্যে বলেছি আমি, তাহলে হয়তো…... কবির এবার হেসে দেয়- না রে দোস্ত রাগ করিনি। তোর উপর রাগ করা যায়? তুই যা সেলিমের জন্মদিনে। আমার আজ পেট খারাপ, বাসায়ও কেউ নাই, তাছাড়া জন্মদিনের পার্টিতে আসার মতো কাপড় ধোয়া নেই।
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×