একজন সম্ভাবনাময়ী তরুণী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। খুনের আগে মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রজন্মের তারুণ্য জেগে না উঠলে তনু অন্ধকারের অতলেই হারিয়ে যেত।
গণমাধ্যম অজানা উদ্দেশ্যে কলম-কাগজ তুলে রাখলেও ভাগ্যিস যে স্যোশাল মিডিয়া সরব ছিলো। আর তাতেই সরকার-প্রশাসন এবং শেষবধি গণমাধ্যমও সক্রিয় ভূমিকা দেখাতে বাধ্য হচ্ছে।
এর মধ্যেও কিছু লক্ষণীয় ব্যাপার-
১. একটি অশালীন, আপত্তিকর, রক্তাক্ত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; যেটি মোটেও তনুর মরদেহ নয়।
২. হিজাব সত্ত্বেও কেন ওকে ধর্ষণের এবং খুনের শিকার হতে হলো? এ বিষয়টি সামনে এনে ধর্মীয় বিষয়াদি টানাটানি চলছে।
৩. প্রশাসনের অতৎপরতার আলোকে প্রশ্ন ওঠানো হচ্ছে- ৪৫ বছর আগে সংঘটিত ধর্ষণের বিচার হচ্ছে, অথচ এখনকার ঘটনার বিচার হচ্ছে না।
৪. তনু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। লেখা আছে- মরে গেলে বোন/ বেঁচে থাকলে 'মাল'।
সারা দেশে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের সচেতন মানুষ যেভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন, তাতে আশাবাদি হওয়াই যায়। তনু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক সুবিচার হবেই। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়বেই।
তনু বলে ছড়িয়ে দেওয়া রক্তাক্ত ছবিটি যারা পোস্ট করে এখনো মোছেননি, তাদের প্রতি আবারও অনুরোধ রইলো। এই ছবিটি ছড়ানো আমাদের মানসিক বিকৃতিরই প্রকাশ।
'মরে গেলে বোন, বেঁচে থাকলে মাল'- বাক্যটি অব্যক্ত থাকলে কী এমন ক্ষতি হয়? ইস্যুটির সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ বাক্যটি যায় কি না ভেবে দেখবেন।
যে মেয়েটি আমার বোনের মতো, তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মনোভাব আমার থাকতে পারে না। সুতরাং আমি বলতেই পারি- মরে গেলে বোন, বেঁচে থাকলেও বোন। বিশ্বাস করি, আপনিও তেমনটাই ভাবছেন।
আমাদের অবিরত বিতর্কের জোয়ারে না শেষপর্যন্ত মূল দাবিটাই ভেসে যায়! জাতি হিসেবে আমরা বাঙালি বিতর্কে অনেকটাই এগিয়ে- সেটা সবখানে না দেখালে হয় না?
না। একটু একটু করে যে দাবিটি আমরা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি, সেটি ভেসে যেতে পারে না। কোনো বিতর্ক নয়। সম্ভাবনাময়ী তরুণী তনু ইস্যুতে আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন। জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সরব থাকতেই হবে। এখনকার আন্দোলন প্রথমে বাক্সবন্দি থাকে, তারপর ছড়িয়ে পড়ে রাজপথে।
এর মধ্য দিয়েই জেগে ওঠে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, সেটা নিশ্চয়ই গত দুদিনের টের পেয়েছেন। কুমিল্লায় প্রতিবাদী মানুষের ভিড় গতকাল চোখ এড়ায়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সারা দেশে ব্যক্তি থেকে শুরু করে সংগঠনপর্যায়ে আন্দোলন জোরালো হচ্ছে।
কোটি মতের অমিল থাকতেই পারে। তবে দাবি একটাই- প্রশাসন তৎপর হও। তনুর খুনিকে ধরো। উচিত বিচার করো।
#Justice For Tonu
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



