আজকের রাজশাহীর জনসভায় দলের নেতা-কর্মীদের হরতালের জন্য প্রস্তত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পাশাপাশি ১৯ মে ঢাকার সমাবেশ থেকে এই সরকার পতনের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। আজ বুধবার রাজশাহীতে বিএনপির মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।
রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারের হাতে মানুষের জানমালের আর নিরাপত্তা নেই। তাই এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।
দিনে দিনে মানুষ বাড়ছে । বাড়ছে সমস্যা। এই সব সমস্যার কোন সমাধানের কোন কথা বলেন না কোন নেতা-নেত্রী। তারা মনে করেন, একমাত্র তারা ক্ষমতায় গেলেই দেশের মানুষ ভাল থাকবে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, দেশের ক'টি প্রধান দল কোন ক্রমেই তাদেরকে বিরোধী দলের আসনে দেখতে চান না। তাদের চাই গদি। এই গদির জন্য বলির পাঠা হবে জনগণ। তাদেরকে পাঠা বানাতে আবার আসছে হরতাল। আবার অর্ধদিবস, পূর্ণদিবস, ১৬ ঘন্টা, ২৪ ঘন্টা, ৪৮ ঘন্টা, ৭২ ঘন্টা আর ৯৬ ঘন্টার মহাদুর্ভোগের কাল আসছে। সবাই তৈরি হোন দুর্ভোগের দিন পার করতে। এমনিতেই বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ই দুর্ভোগের মধ্যে থাকে। হরতাল তাদের এই দুর্ভোগের মাত্রা আরো বাড়াবে। হরতাল করাটা কোন মুরোদের মধ্যে পড়ে না।যারা হরতাল সর্মথন করেন,আমার মনে হয়, তারা কেবলই নেতা। পাবলিক না। আপনাদের কারণেই ৩৯ বছরে দেশের কোন উন্নতি হয়নি। আর উন্নতির কোন আশা আছে বলেও মনে হয় না।
যে যত যাই বলুন না কেনঃ হরতাল কর্মসূচী শেষ পর্যন্ত জনগণের বিরুদ্ধেই যায়। হরতালের ভু্ক্তভোগী সরকার নয় ; জনগণ। হরতালে সরকারের কিছুই হয় না। যা ক্ষতি হবার তা জনগণেরই হয়। আজ পর্যন্ত কেউ শুনেছেন যে, হরতালের কারণে কোন মন্ত্রী কষ্ট পেয়েছেন? হরতাল আহবানকারী বড় নেতাদেরও কিছুই হয় না। আয় বন্ধ হয় গরীব মানুষের। হরতাল আহবান কারী কোন নেতা হরতালে মারাও যায় না। মারা যায় বস্তি থেকে ভাড়া করে আনা অতি দরিদ্র মানুষ যে কিনা মৃত্যুর পর পরই আবার নেতা বনে যায়। তার নামে আবার মিছিলও হয়ঃ "---"- এর রক্ত বৃথা যেতে দেবনা----।
যারা দেশকে ভালবাসে তারা চিরকালই হরতালের বিরোধিতা করে যাবে। যারা কেবল দলকে ভালবাসে এবং নানান ধান্ধাবাজির মতলবে থাকে তারা হরতালের পক্ষে নানান ঠুনকো যুক্তি দেখাবে। হরতাল করবে।যে কোন হরতালই দেশের জন্য সমান ক্ষতিকর, সেটা এরা ডাকুক, ওরা ডাকুক কিংবা তারা ডাকুক। আমি হরতালকে ঘৃণা করি। আপনি যদি নেতা হোন তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কারণ বাংলাদেশের নেতাকে কিছু বলে লাভ নেই। আর আপনি যদি পাবলিক হন তাহলে , হরতালকে না বলুন! হরতাল আহবানকারী অপরিণামদর্শী নেতাকে না বলুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১০ সকাল ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




