somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেনাবাহিনীর অজানা কথা (পর্ব – ২)

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৪। অসংখ্য মানুষের মত আমারও এক সময় ধারনা ছিল সেনাসদস্যরা বুঝি অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। এবার আসুন ব্যাপারটা ভাল করে তলিয়ে দেখি। সেনাসদস্যদের বেতন, ভাতা দেশের পে স্কেল অনুযায়ী অন্যান্য সরকারী কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মত একই রকম। সেনাসদস্যরা শুধু মাত্র প্রতিরক্ষা ভাতাটা একটু বেশি পেয়ে থাকেন। আমার মনে হয় এটা পৃথিবীর সব দেশের সেনাবাহিনী পেয়ে থাকে। এখন আসেন রেশনের কথায়; রেশন বাংলাদেশে সেনাবিহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্যরাও পান। আর একজন সদস্যের রেশন এর বাজার মূল্য কোনভাবেই ২০০০ টাকার বেশী না। একজন সেনাকর্মকর্তা বিয়ে না করা অবধি বাড়ী ভাড়া ভাতা পাননা। যা অন্য সকল সরকারী কর্মকর্তা অবিবাহিত হলেও পেয়ে থাকেন। সরকারী একজন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা সবসময় সরকারী গাড়ি পান কিন্তু একই স্ট্যাটাসের একজন সামরিক অফিসার ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য কোন গাড়ী পাননা। সপ্তাহে তারা টাকার বিনিময়ে শুধুমাত্র একদিন সরকারী গাড়ী ব্যবহার করতে পারেন। তাও ৬০ কিলোমিটার রেডিয়াসের মধ্যে। এবার আসি জাতিসংঘ মিশনের কথায়; প্রথমেই বলে রাখি বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র সেনাসদস্যরাই মিশনে যায়না। পুলিশ সদস্যরাও যায়। একটা উদাহরন দেই তাহলে অনেকটা পরিষ্কার হবে। একজন মেজর পদবীর অফিসার যদি এক বছর মিশন করেন তাহলে পান ২২০০X১২=২৬,৪০০ ডলার বাংলাদেশী টাকায় যা মাত্র ২১,১২০০০ টাকা। এক বছর পরিবার পরিজন রেখে একটা বিপদ সংকুল দেশে পড়ে থেকে ২১,০০০০০ টাকা উপার্জন কি খুব একটা বেশী? এই টাকাটাও যে সঞ্চয় হয় তা কিন্তু না। বেশীরভাগ সেনাকর্মকর্তা একটা গাড়ী কিনে বা বিদেশ ঘুরে এর সিংহভাগ শেষ করে ফেলেন। একটা উন্নত দেশে রেস্টুরেন্ট এর ওয়েটার হলে এর থেকে অনেক বেশী আয় করা যায়। আর আমাদের দেশে কর্পোরেট জগতে যারা আছেন তারা তো দেশে বসেই এর চাইতে বেশী টাকা রোজগার করেন।
৫। এবার আসি ক্যাডেট কলেজ, বি ইউ পি, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ এসবের কথায়। আমাদের অনেকের ধারনা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেবল সেনাসদস্যদের সন্তানরাই সুযোগ পায়। আসলে কিন্তু তা নয়। একটু খোজ নিলে দেখবেন এসব প্রতিষ্ঠানে বেশীরভাগ বেসামরিক মানুষের সন্তানরাই পড়ালেখা করে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নীতিমালার আলোকে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় বলে কোন সেশন জট নেই, রেজাল্টও ভালো। তাছাড়া সেনাবাহিনী নিজেদের টাকা খরচ করে অটিস্টিক শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনা করে। সব সেনানিবাসেই এরকম একটি করে স্কুল আছে। সেসব স্কুলগুলোতে আপনার, আমার মতো বেসামরিক লোকজনের বাচ্চা কাচ্চারা লেখাপড়া করে।
৬। অনেকেই নাখোশ ঢাকা সেনানিবাসের অবস্থান নিয়ে। তাদের যুক্তি- ঢাকা শহরের মাঝখানে সেনানিবাসের অবস্থান অনেক সমস্যার তৈরী করছে। আমিও একমত এ ব্যাপারটাতে। কিন্তু আমাদের ভেবে দেখতে হবে ঢাকা সেনানিবাস যখন তৈরী হয়েছিল তখনকার ঢাকা শহর কোথায় ছিল। আমাদের মত ছোট দেশ যার জনসংখ্যা ১৭ কোটি এমন দেশে ঢাকা শহরের বাইরে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে আরেকটি সেনানিবাস বানানোটা ওত সহজ নয়। আর ঢাকা সেনানিবাস অন্যান্য কনভেনশনাল সেনানিবাস এর মত নয়। এখনে মুলতঃ সেনা, নৌ ও বিমান সদর অবস্থিত। তাছাড়া রয়েছে কিছু লজিস্টিক স্থাপনা। এসব স্থাপনা রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছাকাছি থাকাটা বাঞ্ছণীয়। ঢাকা সেনানিবাসকে ঢাকার অদূরে নিয়ে যাওয়া আর বঙ্গভবন, গণভবন বা সচিবালয় ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব অনেকটা একই রকম। দুনিয়ার কোথাও বিমান বন্দর ও শহরের মাঝে থাকেনা। আমাদের কিন্তু আছে, তাই আমাদের এই চিন্তা সমূহে একটু পরিবর্তন আনতে হবে। আমেরিকার মত দেশ যাদের সম্পদের কোন সীমাবদ্ধতা নেই সেখানেও পেন্টাগন শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত। অনেকে বলেন সেনানিবাসের ভিতর দিয়ে বেসামরিক মানুষকে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়না। কথাটা আংশিক সত্য মাত্র। ঢাকা সেনানিবাসের ভিতরে অহরহ বেসামরিক যানবাহন ও মানুষকে চলতে দেখি আমি। ঢাকা সেনানিবাসে প্রচুর বেসামরিক জনসাধারণও থাকেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে অহেতুক সেনানিবাসে ঘুরাঘুরি করতে চাইলে একটু আপত্তি আসতেই পারে।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×