somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুয়েটের টিম প্রথম হলো “Universal accessibility in public transport” প্রতিযোগিতায়

১৫ ই মে, ২০১৩ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“Inter University design contest – Universal accessibility in public transport” প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে আমাদের বুয়েটের টিমঃ “আলোকের যাত্রী“। নামের সাথে কাজের মিল রেখে তাদের করা ডিজাইন পেয়েছে প্রথম পুরস্কার। এই প্রতিযোগিতার শুরুটা এভাবেঃ

আপনাদের মনে আছে গত ২ মার্চ ২০১২ তে বি-স্ক্যান আয়োজিত হুইলচেয়ার র‌্যালীর কথা !?
ঘরবন্দী অগুনতি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এই মানুষগুলোর উপস্থিতি জানান দিতেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সিআরপি’র সহযোগিতায় এই র‌্যালীর আয়োজন করেছিলাম আমরা। যেখানে বিপুল সংখ্যক হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তিগণ উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে।
সেদিন সেখানেই মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন বিআরটিসি কতৃক র‌্যাম্পযুক্ত বাস আমদানী করার কথা। মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে আমরা নব উদ্যোমে ঝাপিয়ে পড়ি আমাদের স্বপ্নের প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কাজে।


এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে একটি ডিজাইন প্রতিযোগিতার আহ্বান করা হয় ২৪শে মার্চ এবং এখানে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮২টি দলের হয়ে অংশ নেন ২৯০ জন। প্রতিযোগিতাটি সম্পর্কে বিস্তারিতে এর হোমপেজে দেখতে পারেনঃ http://iudc.esab.org.bd/index.html। আমাদের বুয়েট থেকে অংশ নেনঃ

* Debabrata Karmakar
* Tanmoy Biswas
* Pankaj Kumar Sutradhar
* Tapos Paul।


প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ডিজাইন

হুইল চেয়ারে চলাচলকারীর জন্যে বর্তমানে রাস্তার অবস্থা, নতুন করে অবকাঠামো নির্মানের খরচ, নতুন করে প্রশিক্ষন দেয়ার চিন্তা এইসবগুলো জিনিস মাথায় রেখে তারা এমন একটা ডিজাইন করেছেন যেখানে সর্বনিম্ন পরিবর্তন প্রয়োজন। একজন হুইল চেয়ারে চলাচলকারীর বাসের জন্যে অপেক্ষা, বাসে উঠা, বাসে চলা, বাস থেকে নামা সব কিছু নিচে ছবি দিয়ে বর্ণনা করা হলো এখানে। দেখে নিন কিভাবে কাজ করবে এই সিস্টেমঃ

এখানে প্রথমে মনে করি হুইল চেয়ারে চলাচলকারী একজন বাসে করে ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কগুলোর একটি ফার্মগেট~গুলিস্তান যেতে চান। বাস থামার আগে তিনি নির্ধারিত একটা জায়গায় এসে অপেক্ষা করবেন এবং বাস ড্রাইভার বাসটাও সেখানেই থামাবেনঃ



উপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন বাসের দরজা এবং সাদা প্ল্যাটফর্ম যেখানে হুইল চেয়ারে চলাচলকারীরা অপেক্ষা করবেন। খেয়াল করবেন এখানে একটা ফাঁকা জায়গা রয়েছে। এখানে বাস ড্রাইভার একটা সুইচ ট্রিগার করবেন (যেটা থাকবে তার ড্রাইভিং হুইলের সাথে) এবং নতুন একটা পাটাতনের মতন দৃশ্যমান হবেঃ



এটি পরবর্তীতে বাসের উচ্চতা এবং হুইল চেয়ারে চলাচলকারীর দূরত্বের সমান করে দিবে এবং হুইল চেয়ারে চলাচলকারী বাসে প্রবেশ/বের হতে পারবেন।

বাস ছাড়ার পরে তিনি বাসের রড ধরে ভারসাম্য রাখতে পারবেন না, তাই তার সামনে একটি আলাদা ফিতের মতন থাকবে যেটি তাকে একজায়গায় আটকে থাকতে সহায়তা করবে।



এখানে একটা জিনিস এড়িয়ে গেলাম আমরাঃ এই যে উনি ঠিকমত উঠবেন, বাসটা ঠিকমত থামাবে, বাসে উনাকে কেউ ধাক্কা দিবে না এইসব কিভাবে হবে? উত্তরঃ আমাদের মানসিকতা আমরা বদলাবো (কালো-আলো’র মতন বদলানো নয়, মানুষের জন্যে বদলানো। তখন এইগুলো কোন সমস্যা নয়, আমাদের বুয়েটিয়ানরা আপনাদের অতটাই বিশ্বাস করেন যতটা আপনারা আমাদের করেন)।


ফলাফল

একটি ছবি বোধহয় একহাজার শব্দের চেয়েও বেশী কথা বলে, তাই ছবি শেয়ার করি কিছুঃ




জার্মানীতে আমি সব বাসেই হুইল চেয়ারের মানুষদের উঠানামার দৃশ্য দেখি, আমি আমার নিজের দেশেও একই দৃশ্য দেখার ইচ্ছা রেখে শেষ করছি।

মূল সোর্সঃ http://www.buetian.com/archives/293
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১৩ রাত ৮:২৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পেঁয়াজ নিয়ে বিপ্লব টিপ্লব, সরকার বদল টদল হবে নাকি?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:১৬



পেঁয়াজ এমন একটা খাদ্য, যেটার অভাবে মানুষ মরে না, পুষ্টিহীনতায়ও ভোগে না, পেঁয়াজু আলচারের সৃষ্টি করে; তা'হলে, পেঁয়াজ নিয়ে সরকার ও মানুষ এতো চিন্তিত কেন? জাতি প্রয়োজনীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমকামিতার স্বরূপ অন্বেষন - সূচনা

লিখেছেন নীল আকাশ, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০২



যত দিন যাচ্ছে পৃথিবী যেন ততই পাল্টে যাচ্ছে। ছোটবেলায় শিখে আসা অনেক শিক্ষাই এখন যেন মূল্যহীন হয়ে পরেছে। ছোটবেলায় বন্ধুরা হাত ধরাধরি করে এখানে সেখানে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতাম। আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি লেখা পাঠিয়েছেন তো? আজ কিন্তু শেষ দিন!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২১

কাউন্ট ডাউন চলছে - - -
আর মাত্র ১৫ দিন!
আমাদের ব্লগারদের দারুন রোমাঞ্চকর আয়োজন “ব্লগ ডে” উদযাপন করতে যাচ্ছি।

দারুন একটা স্মরনিকার কথা আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন সকলেই।
তাতে লেখা জমা দেবার আজ কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

...কুয়াশা মাড়িয়ে আমার অনেক রৌদ্র আছে, স্বর্ণালী প্রান্তরে... কবিতা সংকলন ও সেরা-৩০, নভেম্বর ১৬-৩০, ২০১৯!!

লিখেছেন বিজন রয়, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০১


সেরা-৩০ঃ
০১. স্বপ্নবাজ সৌরভ - অসমাপ্ত ছবি
০২. নীল আকাশ - কবিতাঃ সুন্দরী আমি, হার্টথ্রব মডেল হতে চাই! - ৩
০৩. সোনালী ডানার চিল -বিবেক, তুমি কি সহমরনের এ্যাটোমিক পিরানহা!
০৪. লাইলী আরজুমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধিনাক ধিনাক তাক ধিন আজকে দাদার জন্মদিন :)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৬



হইহই রইরই সুর কলরব, সুখের বাজনা বাজে
হাওয়া নিয়ে এলো খবর, আজ আমাদের মাঝে
এই পরিবারে এক সদস্য নাম জানো কী বিজন?
ব্লগ বাড়িটা কেনো তবে, আজকে আছে নির্জন?



জন্মদিনের বার্তা দিতে, এলেম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×