


আর্জেন্টিনার আরেকটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো আজ। দুই সোনালী যুগের(প্রথমটি ম্যারাডোনার সময়কাল আর দ্বিতীয়টি মেসির সময়কাল) শিরোপা জয়ে সময়ের ব্যবধান ছিলো ৩৬ বছর। দুই সোনালী যুগের দুই কিংবদন্তী ম্যারাডোনা আর মেসি আজীবন স্মরণীয় ও চর্চিত হবেন নিঃসন্দেহে বলা চলে।
১৯৯০ এর পর এবার ২০২৬ দুইটা ফাইনালে রানার্স আপ। দু'টো ছিলো দুই মহাতারকার টানা দ্বিতীয় ফাইনাল। দুইটিতেই দুই মহাতারকার ইতি! এ যেনো নক্ষত্রেরই পতন!
এই বিশ্ব এমন ফুটবল যাদু আর কবে দেখবে!
এমন চাইলেই কি ফুটবল ঢুকে পড়তে পারবে রাষ্ট্র, সাগর-মহাসাগর পেরিয়ে পাড়া মহল্লা থেকে অন্দর মহলে?
এমন বুদ করে রাখবে কেউ দু পায়ের দারুন ড্রিবলীং, মাপা শর্ট আর দৃষ্টিনন্দন সব পাস আর গোলে?
কেউ চাইলে দখল নিতে পারবে এমন মগজ, মস্তিষ্ক?
তরুনদের রক্তে রক্তে এমন আবেশ ছড়িয়ে দিতে পারবে কেউ?
আকাশী নীলের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া স্পন্দন কি আর এতোটা আন্দোলিত করবে কাউকে?
মেসি মহাকালের মহাতারকা! চাইলেই এমন একজন সহজেই গড়ে উঠেনা। হৃদয় থেকে হৃদয়ে ঠাঁই খুজে পাওয়া এতো সহজ নয়।
৮ বার ব্যালন ডিঅর, ফিফা দ্য বেস্ট ৮বার, ফিফা বিশ্বকাপ গোল্ডেনবল ২ বার, দুইটি কোপা আমেরিকা জয়, তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা, একটিতে চ্যাম্পিয়ন, দুইটি রানার্স আপ, একটি ফাইনালিসিমা, একটি অলম্পিক স্বর্ণপদক জয়, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস্ লীগ জয়, লা লিগা ১০টি, কোপা দেল রে ৭টি, স্প্যানিশ সুপার কাপ ৮টি, উয়েফা সুপার কাপ ৩টি, ফিফা ক্লাব কাপ ৩টি, এক ক্যালেন্ডার বর্ষে সর্বাধিক ৯১ টি গোল, ক্লাব ফুটবলে বার্সোলোনার হয়ে সর্বাধিক ৬৭২টি গোল, লা লিগার ইতিহাসে সর্বাধিক ৪৭৪ টি গোল এবং ১৯২টি অ্যাসিস্ট, ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৫০+ অ্যাসিস্টসহ কি নেই অর্জনের তালিকায়?
একা হাতে বয়সের ভারে ন্যূব্জ একটি দলকে টেনে ফাইনালে তোলা। কি করেননি একটি মানুষ। প্রতিটি খেলোয়াড়কে বন্ধুর মতো একই সুতোয় বেধে একটি দলকে অপরাজেয় রেখে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে আসা জাস্ট অসাধারন।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ শুধু মেসির জন্যই ফুটবল খেলা দেখতে বসতো।
আহা! আজ বিদায় হলো কান্নায়, অশ্রুসিক্ত চোখে!
এমন চাইলেই কি আরেকটি মেসির জন্ম সম্ভব?
কত শত বছর অপেক্ষার পর এমন আরেকজন মেসির জন্ম হয়?
কবি জীবননান্দ দাশ বলেছিলেন, "পৃথিবী পুরোনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়,
প্রেম ধীরে মুছে যায়,
নক্ষত্রদেরও একদিন মরে যেতে হয়!"
হয়তো কবির উক্তির মতই আমাদের স্মৃতি থেকে হয়তো কোনো একদিন মেসি মুছে যাবেন, মুছে যাবেন হয়তো নতুনদের আগমনে।
তবে ইতিহাসের পাতায় পাতায় তিনি রয়ে যাবেন চির উন্নত শির।
চির চর্চিত পুরুষ হিসাবে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট হিসেবে।
বিদায় লিও মেসি!
আমাদের তারুণ্যের ম্যাজিক বয় ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন যেমনটি আনন্দে রেখেছিলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে ২০০৬-২০২৬ খ্রিঃ পর্যন্ত।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



