somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

অ-মানব’- (২৬ তম পর্ব)

২৪ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





পাগল মানুষটা হেঁটেই চলছে । কোথায় কখন যায় কেউ জানে না। কত দিন হাঁটবে কে জানে । ট্রাক চালক সাবু তার মেয়ের জন্য বেদেনাকে মা হিসাবে পছন্দ করেছে । সাবুর মা মুসা মিয়া কে বলে ভাই আমার ছেলের জন্য আপনার মেয়েটাকে দিয়ে দেন । আমার নাতনিটা একজন মা পাবে । মুসা মিয়া বলে আপা কপালে থাকলে হবে । আমি আমার মেয়ে কে নিয়ে ঢাকা যাব । আপনাদর সাথে তো দেখা হয় নাই ।
আপনার ছেলে কে যে লোকটা এখানে এনে সেবা করেছে । সে আপনি আসার আগেই চলে গেছে । একটা চমৎকার মানুষ । যাবার সময় বলে গেল আমি যেনো মেয়েটাকে মানুষ বানাই । তাকে যেন হাতের কাজ সেখাই । আমি মরে গেলে যেন আমার মেয়েটি কাজের মধ্যে তার জীবন গড়ে তুলতে পারে । আমার মেয়ে স্বামী মারা যাবার পড় তার একবেলা ভাত জুটে নাই । কাজ মানুষ কে বাচিয়ে রাখে । আমি কেমন বোকা মানুষ । আমি মেয়ে কে পাহারা দিচ্ছি কিন্তু আমি মরে গেলে কে পাহারা দিবে । ঐ মানুষটা বলে গেল আমি যেন তাকে হাতের কাজ শিখাই । সাবুর মা বলল – আপনার মেয়ে কে আমার পছন্দ আর আমার নাতনী দেখেন কি সুন্দর করে বেদেনার সাথে মিশে গেছে । মুসা মিয়া বলল – কপালে থাকলে হবে । হুট করে তো আর সমন্ধ হয় না। বিকেল বেলা ট্রাক চালক সাবু তার মা আর মেয়ে কে নিয়ে মুসা মিয়ার বাড়ি হতে বিদায় নেয় । বেদেনা মেয়েটার জন্য তার চোখের পানি মুছে কাপড়ের আঁচল দিয়ে । সাবু তার মোবাইল নাম্বার দিয়ে যায় । বলে আমার মেয়ের সাথে মনে চাইলে একটু কথা বল । সাবু তার মাকে বলে মা গো মেয়েটার হাতের রান্না খুব মজা । সাবুর মা বুঝতে পারে ছেলের খুব পছন্দ হয়েছে বেদেনাকে ।।
কিছু দিন পড় বেদনা কে নিয়ে মুসা মিয়া আবার ঢাকা চলে আসে । মাঝে মাঝে সাবু
কে বেদেনা ফোন করে । বেদেনার বাবা বেদেনাকে সেলাই এর কাজ সিখতে দিয়েছে ।
মুসা মিয়া এখন ফলের ব্যবসা করে । বেদেনা একদিন তার বাবা কে বলে – বাবা ঐ যে একটা মানুষ আসছিল যার কথায় তুমি আমাকে নিয়ে ঢাকা আসলা ঐ মানুষটা ঠিক কথা বলছে । আমার সাথে যে সকল মেয়ে কাজ শিখছে তারা সবাই এই কাজ শিখে নাকি চাকুরি নিবে । আমিও চাকুরি করব ।। নিজের আয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াব । বেদেনা আজ কাল আর সাবুর ফোন ধরে না। কিছু মানুষের পরিচয় এমনেই হয় । তারা সময়ে কাছে আসে সময়ে দূরে চলে যায় কিছুটা সময় মায়া লাগায় ।
নাদিয়া প্রায় পুকুর পারে এসে দাড়ায় । পুকুরের চার পাশের পরিবেশ টা অনেক সুন্দর । কিন্তু একটা বিষয় নাদিয়া লক্ষ্য করে দেখছে যে শিমুল গাছটা দিন দিন মরে যাচ্ছে ।
অনেক দিন পড় হুজুর আজ এসেছে । নাদিয়া বলল- মিয়াছাব দেখেন শিমুল গাছটা মরে যাচ্ছে আপনি একটু পানি পড়া দেন । হুজুর বলে আমি তো আল্লাহর নাম নিয়েই
পানি পড়া দিব । তুমিও আল্লাহর নাম নিয়ে দিলে হবে । হুজুর দিলে হবে এটা ঠিক না । তোমার বাসার ঐ পাগল ছেলেটা আমাকে সত্য শিক্ষা দিয়েছে । মা গো যার চলে যাবার সময় হবে সে তো চলেই যাবে । সেটা গাছ হউক আর মানুষ হউক । নাদিয়া আর কিছু বলে না । সে তার পড়ার টেবিলে বসে মরা শিমুল গাছটা দিকে চেয়ে তার সেই পাগল ভাইটার কথা ভাবতে লাগল । প্রায় সময় কিছু হলে নাজু নাদিয়া নাজ এক সাথে বলে লিখে রাখি ভাইয়া আসলে বলতে পাড়বে । শীত বসন্ত শেষ গরম পরেছে ।
পুকুর ঘাটে বসে শিলা কচ্ছপ গুলো দেখে তার পাগল জিনিয়াস মামা ২০ টা কচ্ছপ ছেড়েছে এই পুকুরে ।। নাদিয়া খুব আশাবাদী প্রাইভেট পরীক্ষায় সে এবার বি , এ পাস করবে ।।
ডাঃ জীবন শেষ পর্যন্ত দিলরুবা কে বিয়ে করে ঘরে তুলেছে । ধীরে ধীরে দিলরুবা আর ডাঃ জীবন আরো সুন্দর হয়েছে । দিলরুবা ডাঃ জীবন কে তার ভালবাসা আর
ব্যবহার দিয়ে মুগ্ধ করেছে । দিলরুবা যথেষ্ট সম্মান করে স্বামী হিসাবে । ডাঃ জীবন
মাঝে মাঝে বলে কি দিলরুবা আমাকে তো বললে না তোমার মনে এত সাহস কে দিল।
আমার জানতে ইচ্ছা হয় তোমার মনের শক্তির উৎস কি ? দিলরুবা মিষ্টি করে হেসে
বলে তোমার ভালবাসা আর আমার বিশ্বাস এই দুই মিলে আমার শক্তি , মনে মনে পাগলের কথা ভাবে । কি অবাক করা একটা মানুষ । নীরবে তার কত উপকার করে গেল । মনে মনে সে বলে ইস একদিন যদি দেখা হত । একটু পা ছুয়ে সালাম করে নিতাম । সে নাদিয়ার কাছে জেনেছে যেই পথে এসেছে সেই পথে হারিয়ে গেছে । ভাল মানুষ গুলো কি এভাবেই হারিয়ে যায় । নাকি তারা অন্য কোন গ্রহ থেকে আমাদের দুঃখ গুলো দূর করতে আসে মানুষ সেজে ।।
রাত অনেক । খুব গরম পরেছে । পাগলের পরনে একটা ফুল হাতা সোয়েটার । মাথায়
একটা কাপড় বাধা । আখাউরা রেল ষ্টেশনে দাড়িয়ে আছে । সবাই যখন গরমে অস্থির । সে দিব্বি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে । একজন বলল ভাই আপনার কি শরীরে জ্বর । পাগল বলল – আপনি কি করে জানলেন যে আমার জ্বর ।
—– না মানে এই গরমে আপনি সোয়েটার পড়ে আছেন ।
—- আরে ভাই গরমে না। শীত চলে গেল না বলে । বসন্ত চোখে দেখলাম না ।
কাপড় রাখার ব্যাগ নাই । আমার মিলি খালা এই সোয়েটার কিনে দিয়েছিল ।
কোথাও রাখলে যদি হারিয়ে যায় । পড়ে তো কিনতে পারব না।
—- আপনি মানুষ না পাগল ? গরম লাগে না ।
—- ভাই গরীব মানুষের শীত গরম নাই । এক ভাবে জীবন গেলেই হল ।
—- তা কি কাজ করেন ।
—- যখন যে কাজ পাই করি । কাজে কোন নিন্দা নাই ।
—– ভাল তুমি কি রান্না বান্না জানো ।
—– পাগল একটু হেসে বলে দুনিয়া টা হল সব খাবারের জন্য পাগল । যদি
খাবার রান্না না করতে পারি জীবন ষোল আনা মিছা ।
—– পাগল কে লোকটা বলল ভাই আমি ঢাকা এক সাহেবের বাসায় দারোয়ানির
চাকুরি করি । আমাকে গ্রামে পাঠাইছে একটা বাবুর্চি নিতে । কিন্তু কোথাও
পেলাম না । বাবুর্চি না নিলে চাকুরি থাকবে না। তুমি ভাই চাকুরি টা করলে
আমার চাকুরি টা বাচে । বেতন ভাল থাকা খাওয়া ফ্রি । জামা কাপড় পাইবা ।
—- পাগল বলল আপনার স্যার তো আমাকে অনেক প্রস্ন করবে । গ্রাম কোথায় ।
আগে কোথায় কাজ করেছ ।
—- আরে মিয়া আমি কি বোকা নাকি । তোমাকে সব শিখিয়ে নিব । আগে বল
যাবে কি না ।
—- আমি তো ভাই চোর ডাকাত হতে পারি ।
—- দেখ ভাই তোমার কথা ঠিক । তবে তুমি চোর ডাকাত হলে গরমের মধ্যে
সোয়েটার পড়ে থাকতে না।
—– পাগল একটু হেসে বলল আপনি ঠিক বলেছেন । এই দেশের চোর বাটপার রা
এসি রুমে ঘুমায় । এসি করা গাড়িতে ঘুরে ।
—- পাগলের পিঠে হাত দিয়ে দারোয়ান বলল ঠিক কইছ ভাই । আমার নাম
জাফর ।তোমার নাম কি ?
—- পাগল একটু হেসে বলল আমার নাম অ-মানব । এখনো মানব হতে পারি নাই ।
—- জাফর বলল ভাই নামটা তো চমৎকার । চল ভাই আ-মানব । ট্রেন আসছে উঠে
পর ঢাকা যাই ।
অ-মানব জাফরের সাথে বাবুর্চির চাকুরি নিয়ে ঢাকা রওনা দিল …….।
চলমান —–

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৩:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×