somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঝ দা

২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়। সুখ ও শখ পাশাপশি হাটে, একটা চলে গেলে আরেকটা দিকভ্রান্ত হয়।
লেখালেখি না করলেও মনে মনে গল্প বুনি সারাক্ষন- আমার মত পৃথিবীর তাবৎ মানুষের মনে একগাদা গল্প রয়ে গেছে, সবাই প্রায়শই গল্প বোনে।
ভেবেছিলাম আজকে যা মনে আসবে তাই লিখে যাব-ভুল হোক, মিথ্যে হোক, অসভ্যতা হোক কোন সমস্যা নেই- কিন্তু মগজ সঙ্কেত পাঠাচ্ছে; বড্ডবেশি এলোমেলো লেখা-সশোধন কর।
কি মুশকিল!
***
ব্লগে আমার মেঝ ভাই এর কথা বলিনি কখনো। তার কথা বল্ব বলে কতবার ছোট ছোট কাহিনী লিখে রেখেছি, তারপরেও কেন যেন বলা হয়নি।
এবার একটু বলি; শুরুটা একটু রহস্য করে। সে আমার থেকে বয়সে বড়- পিঠাপিঠি ভাই। আমরা ছোট্রা সবাই তাকে মেঝদা বলে সন্মোধন করি।

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। একদিন মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। বাসায় ঢুকেই মেঝদার সাথে দেখা- খুশীতে সে ঝলমল করছে। আধা গৌড় বর্ণের কপোলজোড়া ডগমগে গোলাপী বর্ণ ধারন করেছে। এত আনন্দের কারন জিজ্ঞের করবার আগেই ভয়ানক আনন্দিত কম্পিত কন্ঠে বলল, তপন জানো গত বিশ বছর ধরে মাকে অনুরোধ করছিলাম, আমার জন্য খাস দিলে একবার দোয়া করতে- মা এতদিন বাদে অবশেষে আজ ফজরের নামাজের শেষে আল্লহর কাছে আর্জি পেশ করেছে; তার আগে যেন আমার মৃত্যু হয়।
আহ্‌ এবার আমি নিশ্চিত মায়ের আগে মারা যাচ্ছি!'' আমি তার কনফিডেন্স দেখে হতবাক হয়ে গেলাম
***
মা ইদানিং অসুখ কিংবা ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুলভাল বকে। সেদিন দেখি হাওয়া থকে খাবার খাচ্ছেন। সেই খাবার বেজায় শক্ত বলে অনুযোগও করলেন।
মায়ের বয়স হয়েছে। প্রায় পনের বছর আগে হার্টের অপারেশন হয়েছিল-এখনকার অসুস্থতা খুব সিরিয়াস ধরনের। প্রায়শই জমে মানুষে টানাটানি চলে। যে কোন সময় চরমতম দুঃসংবাদটা পেতে পারি বলে আমরা নিজেদের প্রস্তত রেখেছি।
কিন্তু নির্ভার দুঃশ্চিন্তাহীন একজন মানুষ; দিনরাত বই পড়ছে কিংবা অতি অল্প সময়ের জন্য নজরুল গীতি, রবিন্দসঙ্গীত অথবা ইসলামী গজল গুনগুন করে গাইছে।
পৃথিবীর যাবতীয় টেকনোলজি থেকে সে সযতনে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। আগে সে মাঝে মধ্যে টিভি শুনত- গত কয়েক বছর যাবত সেটাকেও আলবিদা জানিয়েছে।
সে নিশ্চিত মায়ের আগে সে মারা যাবে। মায়ের দোয়া কবুল হবেই বলে তার ভয়ঙ্কর এক আত্মবিশ্বাস। আমরা ভীষন শঙ্কিত তাকে নিয়ে- মায়ের আগে তার মৃত্যু হলেই যেন শান্তি, শুধু তার আত্মবিশ্বাস ভঙ্গ না হলেই নয়।
তথাকতিথ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তার জন্ম আর পৃথিবী নামক গ্রহে প্রায় ছয় দশক অতিবাহিত করেছে বটে কিন্তু প্রকৃতি তাকে চরম্ভাবে বঞ্চিত করেছে।
সেদিন সে হাসতে হাসতে বলছে, মা তো বিরাট বিরিক্ত।
-কেন কি হল?
- মা'র ধারনা ছিল উনি মারা গেছেন। কিন্তু আজ সকাল থেকে যখন তিনি সজ্ঞানে ফিরে এসেছেন, তখন থেকে অনুভব করছেন যে তিনি বেঁচে আছেন। একবার মরতে নাকি তার অনেক কষ্ট হয়েছে। কেন তিনি ফের জীবিত হলেন এই নিয়ে বিরিক্ত- মরার জন্য ফের কষ্ট করতে হবে, এর কোন মানে হয়!
***
মেঝদা খুব আনন্দিত! এই মহাবিশ্বে তার কোন বন্ধু নেই। তার কোন শৈশব কৈশর কিংবা যৌবনো-কাল ছিল না। সে কোনদিন প্রেম করে নি, তার স্ত্রী সন্তান কেউ নেই।
তার আছে শুধু একজন মা। আমরা আমাদের মা'কে - মায়ের ভালবাসা আদর স্নেহ পুরোপুরি তার জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছি।
প্রায় ছয় দশক সে মায়ের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। তার মা পৃথিবীর সব ভুলত্রুটির উর্ধ্বে যেন একজন মহ-মানবী।
সে প্রায় একাহারী মানুষ- জড়াগ্রস্থ বৃদ্ধা মা কোনরকমে পা টেনে টেনে রান্নাঘরে গিয়ে একটু মাঝের ঝোল কিংবা ডিম ভাজি এনে তার পাতে ঢেলে দিলে সে মহা আনন্দে পৃথিবীর সবচাইতে সুস্বাদু খাবার ভেবে খায়।

*** অসমাপ্ত***


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৫
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×