somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শক্তি সাশ্রয়ী বাতির কথা

২১ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যত দিন যাচ্ছে শক্তি সাশ্রয়ী বাতির (Energy Saving Lamp-ESL) প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে । বিশেষ করে আমাদের মত দেশে যেখানে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়ায় জনগন ত্যক্ত বিরক্ত সেখানে এই শক্তি সাশ্রয়ী বাতি কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে ।

শক্তি সাশ্রয়ী বাতি আমাদের সাধারন বাতির তুলনায় ৮০% এরও অধিক শক্তি সাশ্রয়ী। দেখা যাক শক্তি সাশ্রয়ী বাতি আসলে কিভাবে শক্তি সাশ্রয় করে । সাধারন বাতির কর্মপদ্ধতি হচ্ছে মোটামুটি এইরকম যে বিদ্যুত বাতির ফিলামেন্টের ভিতর দিয়ে যখন পজিটিভ থেকে নিগেটিভ এ প্রবাহিত হয় তখন ফিলামেন্টকে উত্তপ্ত করে । ফিলামেন্টকে উত্তপ্ত হয়ে ফোটন বিচ্ছুরন করে । ফোটন কণা ফিলামেন্ট থেকে বের হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং
আমাদের চারপাশের বিভিন্ন বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখের রেটিনায় আধাত করে আর আমরা দেখতে পাই ।

void(1);

সাধারন বাতির (Incandescent Lamp) ফোটন জেনারেশনের এই কর্মপদ্ধতিতে প্রচুর তাপজনিত শক্তির অপচয় (Heat loss) ঘটে ।


এবার দেখা যাক শক্তি সাশ্রয়ী বাতি কিভাবে কাজ করে । Incandescent Lamp থেকে এর কর্মপদ্ধতি একেবারেই আলাদা । এখানে বলে রাখা ভাল যে শক্তি সাশ্রয়ী বাতি আর আমাদের ফ্লুরোসেন্ট ল্যম্প (আমরা যাকে টিউব লাইট ;) বলে থাকি) এর মদ্ধে কোন পার্থক্য নাই ।টিউব লাইটের পুরো ব্যবস্থাটিকেই জাষ্ট কমপ্যাক্ট করে ফেলা হয়েছে ব্যাস আর কিছু নয় । টিউব লাইটের লম্বা টিউবটাকে প্যাঁচানো হয়েছে । আর সাথে যে ব্যালাষ্ট থাকে তাকেও কমপ্যাক্ট করে প্যাচানো টিউবের গোড়াতে স্থান করে দেয়া হয়েছে ।

void(1);

এজন্য শক্তি সাশ্রয়ী বাতিকে কমপ্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট ল্যম্পও (Compact fluorescent Lamp -CFL) বলা হয়ে থাকে । অনেকে অতি উৎসাহের বশে টিউব লাইটকে রিপ্লেস করার কথা থাকেন । অনেকে অতি উৎসাহের বশে সস্তা চাইনিজ CFL কিনেও প্রতারিত হয় আর সেই সাথে CFL সম্বন্ধে বিরূপ অভিজ্ঞতা লাভ করে ।

Incandescent Lamp এ পজিটিভ আর নিগেটিভ টার্মিনালকে পরিবাহক ফিলামেন্ট দ্বারা সংযুক্ত করা হয় আর CFL এ টিউবের দুই প্রান্তে দুইটা আলাদা ফিলামেন্ট থাকে । ফিলামেন্ট দুইটা Incandescent Lamp এর মত সংযুক্ত থাকে না । টিউবের মাঝখানটাতে নিষ্কিয় গ্যাস ভরা থাকে ।

CFL এর ব্যালাষ্ট ৫০ Hertz এর বিদ্যুতকে ৪৫ KHertz এ পরিনত করে । এত উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি তখন নিষ্কিয় গ্যাস এর বাধা অতিক্রম করে অপর প্রান্তের নিগেটিভ টার্মিনালে বিদ্যুত প্রবাহিত হয় । প্রবাহিত হওয়ার সময় তা নিষ্কিয় গ্যাসকে উত্তপ্ত করে । পরে টিউবের ভেতরের সারফেস এর ফসফর প্রলেপ থেকে ফোটন বিচ্ছুরিত হয় ।

void(1);

CFL এ কোন তাপজনিত শক্তির অপচয় হয় না । একটা ১০০ ওযাটের সাধারন বাতি যেখানে ৯৫/৯৬ ওয়াট বিদ্যুত নিয়ে ৯০০-১০০০ লুমেন আলো দেয় সেখানে ২৩ ওযাটের CFL ১৯-২০ ওয়াট বিদ্যুত নিয়ে ১০০০-১২০০ লুমেন আলো দেয় । আমাদের দেশের সব Incandescent Lamp কে যদি CFL দিয়ে রিপ্লেস করা হয় তাহলে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত বাঁচানো সম্ভব । এমনকি ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনে যে খরচ হবে তার চেয়ে কম খরচ করেই সরকার বিনামূল্যে শক্তি সাশ্রয়ী বাতি জনগনকে দিতে পারে । খুব সম্ভবত বিশ্বব্যংকের অর্থায়নে সরকার এরকম একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে ।
আর আমাদের কর্তব্য হচ্ছে অমাদের বাসায় বিশেষত রান্নাঘর , বাথরূমে CFL ব্যবহার নিশ্চিত করা ।

৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×