somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সানি এবং অসম্ভব এক ভালোবাসা!

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

1.
-- অ্যাই তোমার আজকে সময় হবে?
-- কখন?
-- বিকেল 4টায়।
-- না হবে না।
-- না হলেও সানির বাসায় যেতে হবে।
-- সানির বাসায়? আমাকে ভুতে কিলিয়েছে নাকি।
-- ও আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেছে।
-- বলো কি?
-- হুম
-- এখন কি অবস্থা?
-- জানিনা। আমাকে তার ছোট ভাই ম্যাসেজ দিয়েছে। কি যাবা?
-- দেখি
-- দেখি টেখি না যেতে হবে।
-- দেখি
-- আবার?
-- ঠিকাছে যাব।
যাওয়াটা কেমন দেখায়? 2 বছর পর কথা বলতে হবে আবার... ঝামেলা।

হারুন, আবির আর রাখাল। একটা টিনের দরজার সামনে অবশেষে তারা এসে থেমেছে। নড়বড়ে, ধাক্কা দিলে ভেঙ্গে যাবে। পাশেই একটা সুইচ। এর মধ্যে সুইচ অন করা হয়েছে বার দশেক। কারো খবর নাই। মেয়ে দুটা এখনো আসেনি তবে! আবির চশমার ভেতর থেকে চোরা দৃষ্টি মেলে মুচকি হাসে। বলে_ ট্রেন চলে গেছে মনে হয়। রাখাল হাসির জবাব দেয়, বলে_ তাইতো মনে হচ্ছে! অবশেষে মিনিট দুয়েক পর দরজা খোলা হলো। সামনে খালা দাঁড়িয়ে।

2.
-- তারপর নতুন কি কি শেখা হয়েছে শুনি? সানির ছোট ভাই এসে রাখালের পাশে বসেছে। বয়স 9/10 হবে। চুপচাপ, ভদ্র আর মিটমিটা শয়তান। দু'বছর বিভক্তির পরও রাখালকে চিনতে পেরেছে কিনা সন্দেহ আছে।
-- অনেক কিছু শিখেছি।
-- আচ্ছা! ঠিক আছে, আগে বলোতো আমি কে?
-- তুমি ভাইয়ার বন্ধু।
-- নাম জানো?
-- হঁ্যা জানি
-- বলোতো আমার নাম কি?
-- তুমি রাখাল ভাইয়া
-- গুডি বয়। এবার ঝটপট বলে ফেলো তোমাকে কি পুরস্কার দেব?
-- পাসওয়ার্ড
-- পাসওয়ার্ড? সেটা আবার কি জিনিস?
-- ভাইয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে রেখেছে কম্পিউটারে। আমি খুলতে পারিনা।
-- আচ্ছা?
-- আমাকে গেম খেলতে দেয় না, আর আমি পাসওয়ার্ড জানিনা, আমি আঁকতেও পারছি না। সে করুন চোখে তাকিয়ে থাকে রাখালের দিকে।
-- ঠিকাছে পাসওয়ার্ড আপাতত ভেঙ্গে দিচ্ছি। তবে, ভাইয়াকে বলা চলবে না।
তার চোখ চকচক করে ওঠে।

3.
আবির এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। চশমার ভেতর দিয়ে রাখালের দিকে তাকিয়ে থাকে খানিক। তারপর মুখ খোলে_ 'যাকে দেখতে আসলি তাকে দেখবি না?'
-- দেখার কি আছে?
-- সেটা নিজের চোখেই দেখ না
-- কিযে সমস্যা... রাখাল উঠে পাশের রুমে যায়। তারপর একটা চেয়ার টেনে বসে। বিছানায় মরার মত শুয়ে আছে সানি।
-- তুই এখনো রাগ করে আছিস? নি স্বরে সানি প্রশ্ন করে। রাখাল ওর চোখে চোখ রাখে। সেখানে টলমল করছে সাগর জল! কিছুটা বিব্রত হয় সে। নিজেকে সামলায় দ্রুত। মুখ দিয়ে তার কিছু বের হয়না। 'অত দূরে বসলি কেন? এখানে আয়, পাশে বস' মৃতু্যর হাত থেকে ফেরা মানুষকে কষ্ট দিতে নাই ভেবে রাখাল অনেক স্বত্বের দেয়াল ভেঙ্গে তার পাশে এসে বসে। সানি ওর হাত ধরে, ঠোঁট কামড়িয়ে নিজেকে সামলায়। রাখাল ওর চোখে দৃষ্টি রাখতে পারেনা, সাগর জলে চোখ রাখার মতা তার নেই। তার চোখ ভিজে ওঠে ঠিক অকারনে।

4.
-- 'আমি এই পৃথিবীতে আর থাকবো না। নিষ্ঠুর পৃথিবী। নিষ্ঠুর পৃথিবী।' সানি প্রলাপ বকে।
-- সমস্যা কি?
-- কোন সমস্যা নাই। সে ফুফিয়ে কেঁদে ফেলে।
রাখাল অন্যদিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। মেয়ে দুটো আসে। পাশে বসে...। করুন চোখে তারা তাকিয়ে থাকে সানির দিকে। রাখালের চোখ হঠাৎ হেসে ওঠে। নিজেকে কোনমতে সামলায়। কে বলবে সামনের এই গম্ভির ছেলেটা একটা মেয়ের জন্য 50টা ঘুমের ঔষুধ খেয়েছে!
-- ঔষুধে সমস্যা আছে বুঝলি, সানির চেহারায় লজ্জা।
-- তাইতো দেখছি।
-- অ্যাই আমি যাব, আবির তাগাদা দেয়। বিদায় নিয়ে চলেও যায়।
আমি কি করবো বুঝছি না ঠিক। কি করা উচিৎ? কাজ পড়ে আছে দুনিয়ার। ফোনটা বন্ধ করতেই হলো। সানির দিকে তাকাতে লজ্জা করছে। কি করি...?

5.
-- দোস্ত মা আমাকে লোক ডাকিয়ে মারবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি... সানি ফুপিয়ে ওঠে আবার। পাশের ঘরেই খালা, শুনছে নিশ্চই!
-- যাহ বেটা উনি কেন মারাবে তোকে?
-- দোস্ত দেখ, মেয়েটার মা গার্মেন্টস এ চাকরী করে, তাই বলে মানুষ না? ওরাতো ভালো ঘরের মেয়ে। পরিস্থিতির কারনে ওদের অবস্থা ভালো না। ও উত্তেজিত হয়ে যায় হঠাৎ।
-- ব্যাপারটা তাহলে এই? রাখালের ভাবনারা ঘোরপাক খায় অজানা বাতাসে।
-- আমার আসল মা' না দোস্ত। আপন মা হলে এমন করতো না। ওর গলায় কঠিন অভিযোগ!
-- আরে ধুর বেকুব, এসব বলতে হয়না।
-- আমার মা আমাকে বাইরের লোক দিয়ে মারিয়েছে... ও স্বশব্দে বিলাপ করতে থাকে। রাখাল স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। বাকীরা নিশ্চুপ। কতযে অসহায় রাখাল হয়েছে... কল্পনাও করতে পারেনি কখনো।

2 বছর আগের সানি, আর আজকের সানি? বিশাল পরিবর্তন! লিন্ডাকে কি এমন করে ভালোবেসেছিল সে? কোনটা তার কাছে বেশি বড় আজ... প্রথম প্রেম নাকি দ্বিতীয়? ভাবনারা ঘোরপাক খায়...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৪
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিয়া আচরণে অতিষ্ট হয়ে হযরত আলী (রা.) ও তাঁর শিয়ার বিপক্ষের সত্য প্রকাশ করতে হয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা মে, ২০২৬ ভোর ৬:৩১



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×