-- অ্যাই তোমার আজকে সময় হবে?
-- কখন?
-- বিকেল 4টায়।
-- না হবে না।
-- না হলেও সানির বাসায় যেতে হবে।
-- সানির বাসায়? আমাকে ভুতে কিলিয়েছে নাকি।
-- ও আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেছে।
-- বলো কি?
-- হুম
-- এখন কি অবস্থা?
-- জানিনা। আমাকে তার ছোট ভাই ম্যাসেজ দিয়েছে। কি যাবা?
-- দেখি
-- দেখি টেখি না যেতে হবে।
-- দেখি
-- আবার?
-- ঠিকাছে যাব।
যাওয়াটা কেমন দেখায়? 2 বছর পর কথা বলতে হবে আবার... ঝামেলা।
হারুন, আবির আর রাখাল। একটা টিনের দরজার সামনে অবশেষে তারা এসে থেমেছে। নড়বড়ে, ধাক্কা দিলে ভেঙ্গে যাবে। পাশেই একটা সুইচ। এর মধ্যে সুইচ অন করা হয়েছে বার দশেক। কারো খবর নাই। মেয়ে দুটা এখনো আসেনি তবে! আবির চশমার ভেতর থেকে চোরা দৃষ্টি মেলে মুচকি হাসে। বলে_ ট্রেন চলে গেছে মনে হয়। রাখাল হাসির জবাব দেয়, বলে_ তাইতো মনে হচ্ছে! অবশেষে মিনিট দুয়েক পর দরজা খোলা হলো। সামনে খালা দাঁড়িয়ে।
2.
-- তারপর নতুন কি কি শেখা হয়েছে শুনি? সানির ছোট ভাই এসে রাখালের পাশে বসেছে। বয়স 9/10 হবে। চুপচাপ, ভদ্র আর মিটমিটা শয়তান। দু'বছর বিভক্তির পরও রাখালকে চিনতে পেরেছে কিনা সন্দেহ আছে।
-- অনেক কিছু শিখেছি।
-- আচ্ছা! ঠিক আছে, আগে বলোতো আমি কে?
-- তুমি ভাইয়ার বন্ধু।
-- নাম জানো?
-- হঁ্যা জানি
-- বলোতো আমার নাম কি?
-- তুমি রাখাল ভাইয়া
-- গুডি বয়। এবার ঝটপট বলে ফেলো তোমাকে কি পুরস্কার দেব?
-- পাসওয়ার্ড
-- পাসওয়ার্ড? সেটা আবার কি জিনিস?
-- ভাইয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে রেখেছে কম্পিউটারে। আমি খুলতে পারিনা।
-- আচ্ছা?
-- আমাকে গেম খেলতে দেয় না, আর আমি পাসওয়ার্ড জানিনা, আমি আঁকতেও পারছি না। সে করুন চোখে তাকিয়ে থাকে রাখালের দিকে।
-- ঠিকাছে পাসওয়ার্ড আপাতত ভেঙ্গে দিচ্ছি। তবে, ভাইয়াকে বলা চলবে না।
তার চোখ চকচক করে ওঠে।
3.
আবির এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। চশমার ভেতর দিয়ে রাখালের দিকে তাকিয়ে থাকে খানিক। তারপর মুখ খোলে_ 'যাকে দেখতে আসলি তাকে দেখবি না?'
-- দেখার কি আছে?
-- সেটা নিজের চোখেই দেখ না
-- কিযে সমস্যা... রাখাল উঠে পাশের রুমে যায়। তারপর একটা চেয়ার টেনে বসে। বিছানায় মরার মত শুয়ে আছে সানি।
-- তুই এখনো রাগ করে আছিস? নি স্বরে সানি প্রশ্ন করে। রাখাল ওর চোখে চোখ রাখে। সেখানে টলমল করছে সাগর জল! কিছুটা বিব্রত হয় সে। নিজেকে সামলায় দ্রুত। মুখ দিয়ে তার কিছু বের হয়না। 'অত দূরে বসলি কেন? এখানে আয়, পাশে বস' মৃতু্যর হাত থেকে ফেরা মানুষকে কষ্ট দিতে নাই ভেবে রাখাল অনেক স্বত্বের দেয়াল ভেঙ্গে তার পাশে এসে বসে। সানি ওর হাত ধরে, ঠোঁট কামড়িয়ে নিজেকে সামলায়। রাখাল ওর চোখে দৃষ্টি রাখতে পারেনা, সাগর জলে চোখ রাখার মতা তার নেই। তার চোখ ভিজে ওঠে ঠিক অকারনে।
4.
-- 'আমি এই পৃথিবীতে আর থাকবো না। নিষ্ঠুর পৃথিবী। নিষ্ঠুর পৃথিবী।' সানি প্রলাপ বকে।
-- সমস্যা কি?
-- কোন সমস্যা নাই। সে ফুফিয়ে কেঁদে ফেলে।
রাখাল অন্যদিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। মেয়ে দুটো আসে। পাশে বসে...। করুন চোখে তারা তাকিয়ে থাকে সানির দিকে। রাখালের চোখ হঠাৎ হেসে ওঠে। নিজেকে কোনমতে সামলায়। কে বলবে সামনের এই গম্ভির ছেলেটা একটা মেয়ের জন্য 50টা ঘুমের ঔষুধ খেয়েছে!
-- ঔষুধে সমস্যা আছে বুঝলি, সানির চেহারায় লজ্জা।
-- তাইতো দেখছি।
-- অ্যাই আমি যাব, আবির তাগাদা দেয়। বিদায় নিয়ে চলেও যায়।
আমি কি করবো বুঝছি না ঠিক। কি করা উচিৎ? কাজ পড়ে আছে দুনিয়ার। ফোনটা বন্ধ করতেই হলো। সানির দিকে তাকাতে লজ্জা করছে। কি করি...?
5.
-- দোস্ত মা আমাকে লোক ডাকিয়ে মারবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি... সানি ফুপিয়ে ওঠে আবার। পাশের ঘরেই খালা, শুনছে নিশ্চই!
-- যাহ বেটা উনি কেন মারাবে তোকে?
-- দোস্ত দেখ, মেয়েটার মা গার্মেন্টস এ চাকরী করে, তাই বলে মানুষ না? ওরাতো ভালো ঘরের মেয়ে। পরিস্থিতির কারনে ওদের অবস্থা ভালো না। ও উত্তেজিত হয়ে যায় হঠাৎ।
-- ব্যাপারটা তাহলে এই? রাখালের ভাবনারা ঘোরপাক খায় অজানা বাতাসে।
-- আমার আসল মা' না দোস্ত। আপন মা হলে এমন করতো না। ওর গলায় কঠিন অভিযোগ!
-- আরে ধুর বেকুব, এসব বলতে হয়না।
-- আমার মা আমাকে বাইরের লোক দিয়ে মারিয়েছে... ও স্বশব্দে বিলাপ করতে থাকে। রাখাল স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। বাকীরা নিশ্চুপ। কতযে অসহায় রাখাল হয়েছে... কল্পনাও করতে পারেনি কখনো।
2 বছর আগের সানি, আর আজকের সানি? বিশাল পরিবর্তন! লিন্ডাকে কি এমন করে ভালোবেসেছিল সে? কোনটা তার কাছে বেশি বড় আজ... প্রথম প্রেম নাকি দ্বিতীয়? ভাবনারা ঘোরপাক খায়...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


