বাংলাদেশের সব মা-বাবাকেই বলছি।হ্যাঁ,আপনাদেরকেই বলছি।আপনার ছেলে বা মেয়েটি যখন ভাল রেজাল্ট করে, ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায় বা ভাল চাকরি পায় তখন আপনারা যেমন তাকে সর্মথন বা উৎসাহ দিয়ে যান ঠিক তেমনি তার সবচেয়ে বেশি উৎসাহ বা সর্মথনের প্রয়োজন হয় তার দুঃসময়ে।কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে,আপনার ছেলে বা মেয়েটি যখন জি.পি.এ ৫ পেতে ব্যর্থ হয়, ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ না পায় বা ভাল চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়ে বেকারত্বের অসীম অন্ধকারে ডুবে যায়,অধিকাংশ ক্ষেএে এই সময়গুলোতে তারা আপনাদের সমর্থন পাওয়া দূরে থাক,বরং ক্রমাগত অন্যের সাথে তুলনা, সমালোচনা,নিন্দা, গালমন্দ বা তিরস্কার,নিজেদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশার ভার আপনারা আপনাদের সন্তানদের উপর চাপিয়ে দেন।অধিকাংশ ক্ষেএেই মা-বাবারা সন্তানদের মন-মানসিকতা বুঝতে ব্যর্থ হন বা বুঝতে চান না।আপনারা ধরেই নিয়েছেন, আপনার সন্তান ভাল রেজাল্ট করবে,ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাবে ,ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার ,ব্যাংকার বা বি.সি.এস ক্যাডার হবে।তারা যখন আপনার ইচ্ছা পূরনে ব্যর্থ হয়, তখন তাদের উপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছেন, আপনার সন্তান কি হতে চায়? পৃথিবীর সবার মেধা সমান নয়, সবাই সবকিছু চেষ্টা করলেও হতে পারে না। অনেক তরুন বা তরুনী এই প্রত্যাশার ভার সইতে না পেরে আত্নহত্যার মত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। অথচ সন্তানদের এই দুঃসময়ে মা-বাবার একটু সমর্থন,উৎসাহ, আদর বা ভালবাসা তাদের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। জীবনের কঠিন সময়ে যে ছেলে বা মেয়ে তার মা-বাবার কাছ থেকে সমর্থন,পাশে থাকার নিশ্চয়তা,অনুপ্রেরণা,ভালবাসা এবং সঠিক দিক-নির্দেশনা পায়, আমি বিশ্বাস করি জীবনের যে কোন বাধাঁই সে অতিক্রম করতে পারবে।আপনার সন্তান যা হতে চাই,যে বিষয় পড়তে তাদের ভাল লাগে,তারা যেভাবে ক্যারিয়ার গড়তে চাই- সে ব্যাপারে তাদের উৎসাহ দিন এবং গঠনমূলক পরামর্শ দিন।ফলে ভাল রেজাল্ট করতে না পারা, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার ,ব্যাংকার বা বি.সি.এস ক্যাডার হতে না পারার জন্য যাকে এ সমাজ ব্যর্থদের কাতারে ফেলে দিয়েছিল,আপনার সে ছেলে বা মেয়েটিই হয়ত একদিন আরেকজন সাকিব আল-হাসান,হূমায়ূন আহমেদ,বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতা, মুসা ইব্রাহিম বা ডঃ মুঃ ইউনুসের মতো সমাজে বড় মানুষ হয়ে আপনাদেরকেই সম্মানিত করবে সমাজের কাছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৫ রাত ১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


