সত্য কথা বলাটা না যত কঠিন , তার চেয়েও সত্য কথা শ্রবণ করা অনেক কঠিন। সাধারণ মানুষের সত্য কথা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা না থাকার দরুন মানুষ মিথ্যা কথার আশ্রয় নেয়।
মানুষের অবচেতন মনের হয়তো একটা ধারণা থাকে যে, ‘সত্য কথা’ শ্রবণ করতে হয়তো ভাল লাগে। এবং ‘সত্য কথা’ বড়ই মধুর। আর মিথ্যা কথা সম্পর্কে ধারণা হয়তো- ‘মিথ্যা কথা’ শ্রবণ করতে বিরক্ত লাগে, মেজাজ খারাপ হয় ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে, মানুষের সচেতন মনের ধারণা এর উল্টো।
কাউকে যদি বলা হয় ‘সত্য কথার’ সংজ্ঞা কি?
-সে হয়তো বলবে- কোন ঘটনা কে পত্যক্ষ করে সেটার হুবহু বর্ণনাই হল ‘সত্য কথা’।
আসলে ‘সত্য কথা’ ও ‘মিথ্যা কথার’ সংজ্ঞা দিয়ে বুঝানোর কিছু নেই। তবে এর বৈশিষ্ট্য আছে।
‘সত্য কথার’ মধ্যে কোন ভাল বা মন্দ লাগার মত কিছু নেই। ‘সত্য কথা’ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিক্ত। আর মিথ্যা কথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিষ্ট।
‘সত্য কথা’কে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
১। ‘সাধারণ সত্য কথা’।
২। ‘প্রকৃত সত্য কথা’।
‘সাধারণ সত্য কথার’ উদাহরণ এমন হতে পারে যে- আমি কারো সাথে সকাল ১০ টায় দেখা করবো বলে কথা দিয়েছি। কিন্তু কোন কারণে বা কারণ ছাড়াই আমার দেরি হয়ে গেল। ১০ টার দিকে ঐ ব্যক্তি আমাকে ফোন করে বলল, আপনি কোথায়?
এখন ‘সাধারণ সত্য কথার’ উদাহরণ হল-
এইতো ভাই এসে পড়েছি ( এ জাতিও কোন কথা )। এখানে লক্ষণীয় যে, সে কিন্তু বলে নাই, সে কোথায় আছে, কখন রওনা দিয়েছে, কেন আসতে দেরি হচ্ছে। লোকটি মিথ্যা কথা বলতে চাচ্ছে না বিধায় সে বলেছে- ‘এইতো ভাই এসে পড়েছি’। এখানে সে কৌশল অবলম্বন করেছে।
আর ‘প্রকৃত সত্য কথার’ উদাহরণ এমন হতে পারে-
ভাই আমিতো বাসা থেকেই এখনো রওনা দিইনি। আর এর জন্য তেমন কোন অজুহাতও নেই। এমনিতেই বেহুদা কাজে দেরি হইছে।
এখন বলেন, দুইটাই কিন্তু সত্য কথা।
‘সাধারণ সত্য কথা’ শুনে ঐ লোকটা বিরক্ত হয়ে বলবে, তাড়াতাড়ি আসেন বেশি দেরি কইরেন না ( এ জাতিও কোন কথা )। এবং সে আধা ঘণ্টা/ এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষাও হয়তো করতে পারবে।
আর ‘প্রকৃত সত্য কথা’ বললে, সে হয়তো চূড়ান্ত পর্যায় ক্ষেপে যাবে। আর বলবে, আপনার আসারই দরকার নাই। আপনি মুনাফিক, ফাউল। আপনার সাথে আর কোন কাজই করবোনা ইত্যাদি ( এ জাতিও কোন কথা )। এছাড়া পরবর্তীতে যদি কোন বিশেষ কারণে দেরি হয় এবং সে প্রকৃত সত্য কথা বললেও ঐ লোক পূর্বের ঘটনা স্মরণ করবে এবং সে তাকে মুখে ফাউল না বললেও ভাববে সে মিথ্যা কথা বলছে।
পক্ষান্তরে, যদি মিথ্যা কথা বলা হতো , ভাই জ্যামে আটকা পেরেছি, শরীর খুব খারাপ, আম্মা/আব্বা/ভাই/বোন/আত্মীয় অসুস্থ ইত্যাদি চমৎকার সব মিথ্যা বলা যায়। আর এসব শুনে ঐ ব্যক্তি নানা ধরনের সান্ত্বনা দিবে, আর বলবে ভাই আপনার কষ্ট করে আসার দরকার নাই/ আপনে আস্তে ধীরে আসেন কোন চিন্তা করবেন না ইত্যাদি।
(এর থেকে ভাল উদাহরণ মনে পড়ছে না। তবে যেহেতু সামুর ব্লগারা যথেষ্ট জ্ঞানী, চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ, তাই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।)
এখন বলেন সমস্যা কোথায়?
ঐ লোকটার প্রকৃত সত্য কথা শ্রবণ করার অর্থাৎ মেনে নেয়ার মানসিকতা নেই। আর এ সমস্ত কারণেই মানুষ মিথ্যা কথার আশ্রয় নেয়।
প্রকৃত পক্ষেই সত্য কথা বলা খুবই সহজ। বরং মিথ্যা কথা বড়ই কঠিন। আর এই কঠিন কাজটি মানুষ বাধ্য হয়েই করে থাকে।
আমরা মানুষ কে উপদেশ দেই- ‘সদা সত্য কথা বলিবে’।
আসলে উপদেশ দেয়া উচিত- ‘সদা সত্য কথা মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি কর’।
আলোচিত ব্লগ
আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন
সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....
ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।
ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-
বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন
DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।