
শেষ রাতের অথৈ ঘুম নগরে সরোবরে স্বপ্নের রঙিন ফিতায় চৌদ্দশত সত্তুর দিন পর আজ জেরিন কে দেখলাম। প্রথমবারের মতো স্বপ্ন পাতায় ওর উপস্থিতি আমার হাজার দিনের তৃষ্ণা মিটিয়ে দিল। আমি পর পর স্লাইডশোতে ফুরফুরে জোনাক হয়ে ওর প্রেম ওম পাচ্ছিলাম। এতখানি প্রজাপ্রতি অনুভূতি, আমি নীল জলে ডুবে গিয়েও পাইনি। কদাকার সমাজে আমরা একদিন তরঙ্গ বন্ধু ছিলাম। শত মাইল দূর থেকে ভেসে আসতো দুপুরভোর বারন্দাগল্প উচ্ছাসজল গান। স্লাইডশো-তে দেখলাম এমনতর জড়িয়ে আছি দুজনে ঠিক যেমন করে থাকে তরুতনায়ঙ্গম!
ততটা সাহস এতটা দিনেও হয়নি যতটা সাহস পুরোনো দিনগুলোতে আমাকে রাজা করতে পারতো। অথচ আজ আমি স্বপ্নমার্বেল চুরি করে নিয়েছি দুহাত মুঠো ভরে। কথার ফাঁকে শঙ্খ দাঁতের হাসির কথাচ্ছল মাদলে আচমকা বলে দিলো, কর্কট বিমারি ক্রমশই তার চোখের ভাঁজে চিরনিদ্রার জানান দিচ্ছে। কথা শুনে কাঁদবো না পুড়বো জলের ধারায় গলায় জমে যাচ্ছিল বরফ বল। স্বপ্নের রঙিন ফিতে ফিকে হয়ে এলেও বুঝতে পারছিলাম কথার মার্বেল ভেঙে গিয়ে রক্তাক্ত হয়ে আসছে আমার দু’হাত।
আমি যা চাইনি, তা হতে চলেছে সর্বগ্রাসী হাওয়ায়, পেন্ডুলামের মতো এপাশ-ওপাশ ঘুরে-ঘুরে উড়ে যাচ্ছে প্রেমওম্। অপরিচিত কর্পূর হয়ে কপর্দকহীন এই আমি তোমাকে এখনও ভালোবাসি। স্বপ্নের রঙিন ফিতে শেষ হয়ে যাবার আগে আমার ঠোঁটে মধ্যমা ছুঁয়ে ও জানতে চাইলো কি বলতে চাও সকাল?
শুধু সময় খুন হয়ে যাচ্ছিল বরফ ছুরির আঘাতে। আজন্ম ডুবসাঁতারে পাড়ি দিচ্ছিলাম এক একটা সেকেন্ড। কতকাল আর থেমে থাকা যায়?
অতঃপর নাসিকা নগরে নাসিকা ছুঁইয়ে আমি বললাম, সঙ্গমপ্রেম কিংবা উষ্ণতা নয় আমি তোমার চোখের সর্ষে দানায়, তোমার চুলের যমুনায় চিরদিনের জন্য ডুবে যেতে চাই, বলো নেবে কি আমায়?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



