somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ লড়াই জিততেই হবে

২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তরুণেরাই যেকোন দেশের প্রধান সম্পদ। এরা যদি বিপথগামী হয় তাহলেই জাতির সর্বনাশ। তরুণদের ভাল কাজে নিয়োজিত করতে পারলে যেমন সুফল মেলে হাতে হাতে, তেমনি মন্দ কাজেও এদের জুড়ি মেলা ভার। তাই দ্রোহের কবি সুকান্ত তাঁর কবিতায় চরণে তারুণ্যের আবাহনে এ-দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে বলে প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু এই তরুণ সমাজ আজ অনেকটাই বিপথগামী। যাপিত জীবনের নানা সমস্যা থেকে উদ্ভূত হতাশা থেকে দেশের তরুণ সমাজের বিরাট একটি অংশ আজ বিপথগামী। আর তাদের এক উল্লেখযোগ্য অংশের কাছে মাদকাসক্তিই হয়ে উঠেছে সেই হতাশা থেকে মুক্তির পথ। সাংসারিক টানাপোড়েন, বেকারত্ব, কাঙ্খিত লক্ষ্যে পেীঁছতে না-পারার দুঃসহ যন্ত্রনাই তাদের হতাশার কারণ। সমস্যা মোকাবেলার মানসিক দৃঢ়তার অভাবেই সাংসারিক সকল ঝামেলা থেকে নিস্কৃতি পেতে মাদকাসক্তরা ভাবছে মাদকসেবনই বুঝি উত্তম পন্থা। সমাজে থাকাও গেল অথচ কোনো ধরনের দায়দায়িত্ব বর্তালো না। কিন্তু এই ভুল ধারণাই যে এক সময় কাল হয়ে উঠবে, এ-কথা বোঝার অবকাশ তারা খুব কমই পায়। কেননা মাদকের ছোবলে এরা জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতকে জয় করার মানসিকতা হারিয়ে জীবন্মৃত হয়ে পড়ে। সমাজের কাছে, পরিবার-পরিজনের কাছে বোঝা হয়ে ক্রমে একঘরে হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একাকিত্বের জ্বালা, হতাশার পথ বেয়ে মাদকাসক্তির শেষ পরিণাম হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যু। তাই মাদকের নেশা কেবল আত্মঘাতী নয়, সমাজ, দেশ, মনুষ্যত্ব সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী ডেকে আনছে চরম বিপর্যয়। ব্যক্তিজীবনে যেমন মাদক স্বাস্থ্য, সম্পদ, মানসম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি নষ্ট করে ব্যক্তিকে সমাজের ঘৃণা ও নিন্দার পাত্র করে তোলে তেমনি সমাজজীবনেও নেমে আসে অস্বাস্থ্য, অলসতা, অকর্মন্যতা এবং সামাজিক অপরাধের সীমাহীন নিষ্ঠুরতা। ধ্বসে যায় তার রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, চাকরি, সামাজিক মূল্যবোধের মতো অমূল্য গুণগুলো। আজকের পৃথিবীতে এই ব্যাধি পরিব্যাপ্ত দেশ থেকে দেশান্তরে। তাই মাদক কেবল ব্যক্তিজীবন নয়, সমাজ, সমষ্টি এবং বিশ্বজীবনেও ডেকে আনছে বিপর্যয়। বিশ্বের প্রায় সবক’টি মহাদেশেই অবৈধ ড্রাগ উৎপাদিত হয় কিংবা ব্যবহৃত হয় যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশেও এই বিষয়ে খুব একটা পিছিয়ে নয়। বিগত তিন দশকে হেরোইন, এম্ফিটামিন, কোকেন এবং নানা ভেষজ ওষুধ রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে প্রবেশ করেছে যা অবৈধ ড্রাগের ভয়াবহতাকে আরও উস্কে দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ নেশাসক্ত যার মধ্যে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের সংখ্যাই বেশী। ক্রমবর্ধমান এই সংখ্যাটি ক্রমশ শহরতলি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের ড্রাগ ও অপরাধ নিবারক সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৮ বছরের কিশোরদের মধ্যে অ্যালকোহল ২১.৪ শতাংশ, ভাং ৩ শতাংশ, আফিম ০.৭ শতাংশ এবং অন্যান্য অবৈধ ড্রাগ ৩.৬ শতাংশ সেবনের প্রবণতা দেখা গেছে। বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যায় ইদানিং যুবতীরাও মাদকাসক্ত হয়ে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। মাদকাসক্তদের নেশায় আসক্ত হওয়ার পেছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে। কিন্তু কারণ যাই হোক না-কেন, নেশা সমাজের প্রধান পাঁচটি অংশকে অর্থনৈতিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই অংশগুলো হচ্ছে স্বাস্থ্য, উৎপাদন, অপরাধ, নিরাপত্তা এবং সরকারি কার্যপ্রণালী। নেশাগ্রস্ত লোকেরা যে শুধু নিজের ক্ষতি করে এমন নয়, পারিপার্শ্বিক মানুষের নিরাপত্তাও সঙ্কটাপূর্ণ করে তোলে। তাই সমাজের কল্যাণ আর রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতেই হবে – এর কোন বিকল্প নেই। মাদকাসক্ত তরুণদের পলায়নকামী মানসিকতা কখনো স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সাথে সংগতি রাখতে সক্ষম হতে পারে না। দুনির্বার জাতি আজ সার্বিক উন্নয়নের অব্যাহত অগ্রযাত্রায় উজ্জীবিত হয়ে যে সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন বুনছে তা পূরণ করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নেশার নীল ছোবল থেকে বাঁচাতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রতিরোধে নিশ্চিত হবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ – অব্যাহত হবে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা – এটাই সকলের প্রত্যাশা। সুন্দর আগামীর জন্য মাদকের বিরুদ্ধে এ লড়াই জিততেই হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×