somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি কে আমারে নিয়ে যাবি

১৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ রাত ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেতে জামাতের সামনে প্রধান বাধা কি?
১/ বিএনপি
২/ ৭১
৩/ ভারত
৪/ মাঠে না থাকা আওয়ামী লীগ।

স্বাধীনতার পরে মানে ৭৫’র পর থেকে জামাত ক্ষমতার স্বাদ নিতে পারেনি। আসলে তেমন সুযোগ পায়নি। প্রতিবারই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ সালে তাদের ভূমিকা। ৯১’এ বিএনপির বদান্যতায় সামান্য সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এতে ক্ষুধা মেটার কথা না। তারা চায় বাংলাদেশের সংসদে পূর্ণমাত্রায় আধিপত্য নিতে। এতদিন বৃহৎ দুইটি দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির চাপে তাদের সামনে আসার সুযোগ হয়নি। এবার আওয়ামী লীগ নাই। তাই বিএনপি এবং জামাতই মাঠে প্রধান দু’টি দল।

দেখা যাচ্ছে জামাতের সামনে প্রধান বাধা বিএনপি। কিন্তু দেশের মানুষ বিএনপিকে আগে ক্ষমতায় দেখেছে। তাদের কর্মকাণ্ড কারো অজানা নয়। গত ১৫ মাসে আরো বেশি করে বিএনপি’র রূপ দেখতে পেয়েছে জনগণ। তাহলে কি বলা যায় বিএনপি নামক বাধা সহজেই তারা কাটিয়ে উঠতে পারবে?

৭১ সালে জামাতের ভূমিকা নিয়ে এতদিন জনগণ খোটা দিয়েছে। জেনজি প্রজন্ম সে ভূমিকাকে বড় ব্যাপার মনে করে না। "তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার” স্লোগানই সেটা প্রমাণ করে দেয়। জেনজিদের বড় একটা অংশ এখন ক্ষমতায়। তারা ৭১ সালের বিষয়টা সেটলমেন্ট করতে চায়। তাছাড়া ৭১’র ভূমিকার জন্য তাদের গণহত্যাকারী দল বলা হয় সেটাও তারা আওয়ামী লীগ দিয়ে রিপ্লেস করে দিয়েছে। এখন দেশে গণহত্যাকারী দল একটাই সেটা আওয়ামী লীগ। অতএব ৭১’র বিষয়টাও তারা এবার সহজেই পার পেয়ে যাবে। ভোটের ক্ষেত্রে বাধা হওয়ার কথা না।

ভারত বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময়ই ভূমিকা রেখে আসছে। তারা সব সময় চেয়েছে মহল্লার বড় ভাইয়ের মত আশপাশের ছোটদের উপর মাতবরি করতে এবং বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন সালাম ঠুকে চলে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ধর্মের জনগণ ভারতের কাছে বড় একটা রাজনৈতিক ব্যাপার। যার জন্য ইউনুস সরকারের আমলে গত দুই পুজোতে দেখা গেছে জামাতের অদ্ভুত আচরণ। জেনজিদের রাস্তায় নামিয়ে “দিল্লি না ঢাকা” স্লোগানে ভারতবিরোধী মনোভাব পোষণকারী পাবলিকের মন জয় করলেও জামাতের নেতারা পুজোয় গিয়ে নেচেছেন, বেদের শ্লোক মুখস্ত করে শুনিয়েছেন, রাত জেগে অনেক জায়গায় পূজার মণ্ডপ পাহারা দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা ভারত যেন রেগে না যায় এজন্য বড় বড় ভারতবিরোধী বুলি আওড়ালেও আওয়ামী লীগের আমলে ভারতের সাথে করা অনেক চুক্তিই ইউনুস সরকার বাতিল করেননি। অর্থাৎ ভারতের পয়েন্টও জামাত সহজেই কাটিয়ে যাবে ভোটের মাঠে।

আওয়ামী লীগ যেহেতু মাঠে নাই তাই জামাতের জন্য সামনের নির্বাচনে তারা তেমন কোন বড় বাধা নয়। এছাড়াও জামাতের পক্ষে বেশ কিছু প্লাস পয়েন্ট আছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ উভয় দলের নেতারা পাবলিকের কাছে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ দখলকারী ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের কারণেই পাবলিক (বিশেষ করে জেনজি) মনে করে রাজনীবিদ মানেই কলঙ্কওয়ালা।

মাশাল্লা জামাত এসবের মধ্যে নাই। চাঁদের কলঙ্ক থাকলেও জামাতের কোন কলঙ্ক নাই। অনেকেই গর্বের সাথে বলে জামাতের নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ দেখান। জামাত মানেই মেধাবী। জামাতের বড় অংশ আইনজীবী, ডাক্তার, শিক্ষক। অনেকেই বলেন, জামাত ক্ষমতায় আসলে নারীদের বস্তাবন্দি হতে হবে। আর জামাতের সমর্থক নারীরা আফগানী নারীদের মত আগাগোড়া বোরকায় ঢাকা থাকবে। জামাত মানেই ১৪০০ বছর আগের পৃথিবী। অথচ ওরা দেখে না সেহরিন মোনামীর মতো স্মার্ট, প্রগতিশীল নারীরাও জামাত করেন। মাহমুদুর রহমানের মতো ক্লিন সেভড ৬০+ ভদ্রলোকও জামাত করেন। অর্থাৎ জামাত মানেই আফগান ব্যাপারটা একটা আওয়ামী বয়ান।

এত এত পজিটিভ পয়েন্ট থাকার পরেও জামাতের ক্ষমতায় যেতে আসলে বাধা কোথায়!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ রাত ১:৫০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাভ কার হলো?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:১৮


দীর্ঘদিন একটি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে, সরকারের ভেতর এক ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করতে ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশেও সেই বাস্তবতা ছিল।
২০২৪ সালের আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়রে জীবন!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

হায়রে জীবন!

যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে মানুষ গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পরিবার ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্রকে ভয় ও আতঙ্কের কারখানায় পরিণত করেছে- তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আজ “ভিআইপি আসামি”।
কারাগারেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসময় গালগল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×